• ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কাশি কমাতে যা খাবেন

Usbnews.
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০০৮
কাশি কমাতে যা খাবেন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সাধারণ ফ্লু, সর্দি–জ্বর, বায়ুদূষণ, অ্যালার্জি, অ্যাজমার কারণে অনেক সময় আমাদের গলা খুসখুস করে, কাশি হয়। আবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেরে ওঠার পরও দুই–তিন সপ্তাহ পর্যন্ত কাশি রয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শুষ্ক আবহাওয়া ও ধূমপানের কারণেও কাশি হয়। কিছু খাদ্যাভ্যাস এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে।

মধু: কাশি উপশমে ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে মধুর জুড়ি নেই। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধু খাওয়ানো একেবারেই উচিত নয়। এবার জেনে নেওয়া যাক মধু খাবেন কীভাবে:

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ২ টেবিল চামচ মধু, অর্ধেকটা লেবুর রস আর সামান্য আদার রসের মিশ্রণ প্রতিদিন এক–দুবার খেতে হবে। এ মিশ্রণ কফ ও গলাব্যথা উপশমে সহায়তা করে।

রাতে ঘুমানোর আগে নিয়মিত গরম দুধে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।দিনে তিনবার করে ১ টেবিল চামচ করে মধু খেলেও কাশি কমবে।

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চা–চামচ গোলমরিচের গুঁড়া ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে দিনে দুবার করে খেতে পারেন।

বাসক পাতা: বাসক পাতা পানিতে সেদ্ধ করে, সেই পানি ছেঁকে নিয়ে কুসুম গরম অবস্থায় খেলে কাশি উপশম হয়। প্রতিদিন সকালে এ পানি খেতে হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসক পাতার রস খেলেও উপকার পাওয়া যাবে।

তুলসী পাতা: তুলসী পাতা থেঁতো করে এতে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে প্রতিদিন দু–তিনবার খেলে কাশি ভালো হয়।

আদা: আদা ছোট টুকরা করে তার সঙ্গে লবণ মিশিয়ে কিছুক্ষণ পরপর খেতে পারেন। এ পদ্ধতি কাশি দূর করতে বেশ কার্যকরী। তা ছাড়া আদা–চাও কাশি উপশমে বেশ সহায়ক।

গরম দুধে হলুদের মিশ্রণ: গরম দুধে অল্প পরিমাণে হলুদ মিশিয়ে খেলে তা কাশি উপশমে বেশ কাজে আসে।

লবঙ্গ: লবঙ্গের রস গলায় আরাম দেয়, জীবাণু দূর করে।

মেন্থল ক্যান্ডি: মেন্থল দিয়ে তৈরি ক্যান্ডি বা চকলেট কাশির জন্য উপকারী।

এ ছাড়া গার্গল করলেও কাশি ও গলাব্যথা দুই-ই কমে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা–চামচ লবণ মিশিয়ে ১০–১৫ মিনিট ধরে গার্গল করুন। কাশি হলে ঠান্ডা পানির পরিবর্তে গরম পানি পান করার চেষ্টা করুন। গোসলও গরম পানিতে করুন। গরম পানির ভাপওনিতে পারেন।

অন্যান্য হোম প্রতিকার
উপরে উল্লিখিত খাবারের সুপারিশগুলি ছাড়াও আপনি চেষ্টা করতে পারেন এমন অন্যান্য বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

বাষ্প: শুষ্ক গলার জন্য বাষ্প বেশ উপকারী হতে পারে, কারণ এটি শুষ্ক এবং বিরক্তিকর নাক এবং গলার শ্বাসনালীকে আর্দ্র করতে সাহায্য করে। আপনি হয় একটি স্টিমার ব্যবহার করতে পারেন বা একটি পাত্রে কিছু উত্তপ্ত জল নিতে পারেন এবং 2 থেকে 3 মিনিটের জন্য বাষ্পটি শ্বাস নিতে পারেন। স্টিমার বা ফুটন্ত জলের পাত্রের উপরে সরাসরি বাষ্পে শ্বাস না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করুন, কারণ এটি আপনার ত্বককে পুড়ে ফেলতে পারে।

লবণ পানির গার্গেল: শুকনো কাশি মোকাবেলার জন্য ডাক্তাররা প্রায়ই লবণ পানির গার্গেলের পরামর্শ দেন। এটি শুষ্ক গলা প্রশমিত করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। নোনা জলের গার্গেল করতে, 1 গ্লাস হালকা গরম জলে ½ চা চামচ লবণ মেশান এবং একটি চুমুক নিন। 30 সেকেন্ডের জন্য আলতোভাবে গার্গল করুন এবং থুতু বের করুন এবং পুনরাবৃত্তি করুন।
অ্যারোমাথেরাপি: অপরিহার্য তেলে শ্বাস নেওয়ার অনুশীলনকে অ্যারোমাথেরাপি বলা হয়। আপনি এগুলি সরাসরি শরীরে প্রয়োগ করে বা বাতাসে তেল ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি অপরিহার্য তেল ডিফিউজার ব্যবহার করে অনুশীলন করতে পারেন।

কাশির ড্রপ: বাজারে পাওয়া কাশির ড্রপগুলি তাদের ঔষধি গুণাবলী এবং শীতল প্রভাবের কারণে তাত্ক্ষণিকভাবে শুকনো কাশি থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করার জন্য যথেষ্ট ভাল। এটি বলার সাথে সাথে, আপনি যে পরিমাণ কাশির ড্রপ গ্রহণ করেন সে সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, কারণ অতিরিক্ত গ্রহণ ক্ষতিকারক হতে পারে।

অ্যান্টিটিউসিভ কাশি সিরাপ: অ্যান্টিটিউসিভ কাশি সিরাপ হল ওটিসি ওষুধ যা কাশির প্রতিফলন বন্ধ করে কাজ করে। এগুলি বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রে সহায়ক যেখানে শুকনো কাশি অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয় বা যদি তারা আপনাকে রাতে জাগিয়ে রাখে।
হিউমিডিফায়ার: শুষ্ক বাতাস ইতিমধ্যে স্ফীত গলাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একটি হিউমিডিফায়ার মেশিন বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করে এবং শ্বাস নিতে সাহায্য করে।