গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বেশ কয়েকটি জাহাজ আটকে দিয়েছে ইসরাইল। এই খবর প্রকাশের রাতে ইতালির বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
দেশটির দক্ষিণের শহর নেপলসে প্রতিবাদকারীরা প্রধান রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। আর রাজধানী রোমে টার্মিনি রেলওয়ে স্টেশনের আশেপাশে জমায়েত হওয়া প্রতিবাদকারীদের চারপাশে পুলিশ ঘিরে রেখেছে।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্লোটিলায় হামলার প্রতিবাদে স্পেন, জার্মানির বার্লিন এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলেও রাজপথে নেমে এসেছেন হাজারো মানুষ।
সুমুদ ফ্লোটিলাতে প্রায় ৪৫টির বেশি জাহাজ রয়েছে, যেগুলোতে প্রায় ৫০০ জন সংসদ সদস্য, আইনজীবী এবং কর্মী রয়েছে, এবং এতে একটি ইতালীয় দলও রয়েছে।
তারা ওষুধ এবং খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে গাজায় অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছে। ইসরাইল অবশ্য তাদের বারবার ফিরে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে।
ফ্লোটিলা রক্ষার আহ্বান
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অস্ট্রেলিয়া ফ্লোটিলায় ড্রোন হামলার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির ছয় জন নাগরিক জাহাজ বহরে যুক্ত আছেন। ফরাসি এমপি মাথিল্ডে প্যানোট ফ্লোটিলার সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো ফ্লোটিলায় থাকা শত শত মানুষের জীবনের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পোপ লিও চতুর্দশও নৌবহরের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আশা করি সহিংসতা হবে না, মানুষকে সম্মান করা হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে রোববার বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে গ্রেটা থানবার্গ এই নৌবহরকে একটি প্রচারণামূলক পদক্ষেপ আখ্যা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, আমি মনে করি না কেউ প্রচারের জন্য জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
গত ৩১ আগস্ট স্পেন থেকে যাত্রা শুরু করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা এখন পর্যন্ত গাজায় সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক মিশন। এত ৪৪ জাহাজে ৪৯৭ জন যাত্রী রয়েছে। গত জুন ও জুলাই মাসে গাজায় জাহাজে করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার আরও দুটি প্রচেষ্টা আটকে দিয়েছিল ইসরায়েল।