• ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

গাজাগামী ফ্লোটিলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মানবাধিকার কর্মী রুহি লোরেন,বাংলাদেশি শহিদুল আলম

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২৫
গাজাগামী ফ্লোটিলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মানবাধিকার কর্মী রুহি লোরেন,বাংলাদেশি শহিদুল আলম
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

গাজার জনগণের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মানবাধিকারকর্মী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রুহি লোরেন আখতার অংশ নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের নর্থাম্বারল্যান্ডের মোরপেথে তার জন্ম। রুহি গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই নৌবহরের সঙ্গে রয়েছেন।

বুধবার (১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রুহি লোরেন লিখেছেন, গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-র অন্যান্য নৌযানের ঠিক পেছনে ‘সামারটাইম জং’ নামের একটি জাহাজে তিনি অবস্থান করছেন।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞা এবং আশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। নৌবহরের এই দলটি মানবিক সহায়তা নিয়ে ইসরায়েলি বাধা উপেক্ষা করে গাজায় পৌঁছানোর শেষ চেষ্টা করছে।’

রুহি লোরেন আখতার ‘রিফিউজি বিরিয়ানি অ্যান্ড ব্যানানাস’ (আরবিবি) নামের একটি মানবিক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। এই সংস্থাটি যুদ্ধ ও সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য জরুরি খাদ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বর্তমানে সংস্থাটির কার্যক্রম গাজা ও গ্রিসে চালু রয়েছে। বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ রুহি ২০২৫ সালের অক্টোবরে নর্থ ইস্ট বাংলাদেশি অ্যাওয়ার্ডে ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা লাভ করেন।

গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহর থেকে সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ফ্লোটিলার জাহাজ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইসরায়েলের কোনো আক্রমণে আমরা পেছনে যাবো না, অবশ্যই সেখানে পৌঁছাবো।’

এখনো ছুটছে ৪ জাহাজ, ফিলিস্তিনের জলসীমায় পৌঁছেছে দুটি

গাজা অভিমুখে ত্রাণ নিয়ে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বহরে থাকা ৪৪টি জাহাজের মধ্যে মাত্র চারটি জাহাজ এখনো গাজার দিকে ছুটে চলেছে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) লাইভ প্রতিবেদনে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনের জলসীমায় প্রবেশকারী নৌবহরের প্রথম জাহাজ ‘মাইকেনো’ এবং ‘ম্যারিনেট’ এখনো যাত্রা করছে।

এছাড়া ‘সামারটাইম-জং’ এবং ‘শিরিন’ নামের দুটি জাহাজ এখনো চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুটি জাহাজ আইনজীবীদের বহনকারী।

এদিকে, গত মধ্যরাতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থামিয়ে গ্রেটা থানবার্গসহ আটক করা শত শত কর্মীকে ইসরায়েলে নেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলি নৌ-কমান্ডোরা গ্লোবাল ফ্লোটিলার ৪৪টি জাহাজের মধ্যে প্রায় ৪০টিতে উঠে পড়ে। তারা জিপিএস সিগন্যাল বন্ধ করে দিয়ে জাহাজে থাকা শত শত কর্মীকে আটক করে।

রয়টার্সের যাচাই করা ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ভিডিওতে গ্রেটাকে সৈন্য-বেষ্টিত একটি ডেকের ওপর বসে থাকতে দেখা গেছে। আটক যাত্রীদের মধ্যে নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলাও রয়েছেন।

গাজামুখী নৌবহরটিতে ইসরায়েলি এমন হামলায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছে তুরস্ক। একই সঙ্গে এ ঘটনায় স্পেন, ইতালি, জার্মানি, তুরস্ক ও গ্রিসসহ বহু দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।