• ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আটক শত শত কর্মীকে নেওয়া হচ্ছে ইসরায়েলে , অভিযোগ যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২৫
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আটক শত শত কর্মীকে নেওয়া হচ্ছে ইসরায়েলে , অভিযোগ যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

গাজা অভিমুখে ত্রাণ নিয়ে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থামিয়ে গ্রেটা থানবার্গসহ আটক করা শত শত কর্মীকে ইসরায়েলে নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) লাইভ প্রতিবেদনে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত মধ্যরাতের মধ্যে ইসরায়েলি নৌ-কমান্ডোরা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ৪৪টি জাহাজের মধ্যে প্রায় ৪০টিতে উঠে পড়ে। তারা জিপিএস সিগন্যাল বন্ধ করে দিয়ে জাহাজে থাকা শত শত কর্মীকে আটক করে।

রয়টার্সের যাচাই করা ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ভিডিওতে গ্রেটাকে সৈন্য-বেষ্টিত একটি ডেকের ওপর বসে থাকতে দেখা গেছে। আটক যাত্রীদের মধ্যে নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলাও রয়েছেন।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আটককৃত সকল ফ্লোটিলা যাত্রীকে নিরাপদে ইসরায়েলে নেওয়া হচ্ছে। তাদের ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বহরে থাকা কয়েকটি জাহাজ ধরে নিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের পর রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা একটি শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ। এর লক্ষ্য গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অমানবিক এবং অবৈধ অবরোধ ভেঙে ফেলা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ইসরায়েলের অনাহার নীতি ও গণহত্যার অবসান ঘটানো।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র পুনর্ব্যক্ত করছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ফিলিস্তিনে দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের জলসীমার ওপর ইসরায়েলের কোনো কর্তৃত্ব বা সার্বভৌমত্ব নেই।

 

গাজা অভিমুখে ত্রাণ নিয়ে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বহরে ইসরায়েলি বাহিনীর লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) পাঠানো হবে।

ত্রাণ বহরের সঙ্গে থাকা আইনজীবীদের বরাতে ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত একটি জাহাজে থাকা আল জাজিরার হাসান মাসুদ বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, নৌবহরে থাকা আইনজীবীরা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক মানবিক ও সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করছেন। ইসরায়েলি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো আইসিজেতে পাঠানো হবে।

হাসান মাসুদ বলেন, ‘আমরা সমস্ত ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা নিশ্চিত করতে পারি, বেশ কয়েকটি নৌকা এখনো গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এমনকি যদি কেবল একটি নৌকা গাজায় পৌঁছায়, তবুও এটি অবরোধ ভাঙার লক্ষ্য অর্জন করবে।’

তিনি আরও জানান, ইতালির সিসিলি থেকে রওনা হওয়ার পর আরেকটি নৌবহর এখন গাজার দিকে যাত্রা করছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, কর্মীরা ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলি নৌ-কমান্ডোরা গ্লোবাল ফ্লোটিলার ৪৪টি জাহাজের মধ্যে প্রায় ৪০টিতে উঠে পড়ে। তারা জিপিএস সিগন্যাল বন্ধ করে দিয়ে জাহাজে থাকা শত শত কর্মীকে আটক করে।

রয়টার্সের যাচাই করা ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ভিডিওতে গ্রেটাকে সৈন্য-বেষ্টিত একটি ডেকের ওপর বসে থাকতে দেখা গেছে। আটক যাত্রীদের মধ্যে নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলাও রয়েছেন।

গাজামুখী নৌবহরটিতে ইসরায়েলি এমন হামলায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছে তুরস্ক। একই সঙ্গে এ ঘটনায় স্পেন, ইতালি, জার্মানি, তুরস্ক ও গ্রিসসহ বহু দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।