• ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

দফায় দফায় বৈঠক আর আলোচনা করেও বহুল আলোচিত জুলাই জাতীয় সনদের কোনো সুরাহা হয়নি

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৩, ২০২৫
দফায় দফায় বৈঠক আর আলোচনা করেও বহুল আলোচিত জুলাই জাতীয় সনদের কোনো সুরাহা হয়নি
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

দফায় দফায় বৈঠক আর আলোচনা করেও বহুল আলোচিত জুলাই জাতীয় সনদের কোনো সুরাহা হয়নি। এখনো বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েই ঘুরপাক খাচ্ছে আলোচনা। রাজনৈতিক দলগুলোর মতানৈক্যের কারণে কী পদ্ধতিতে সনদ প্রণয়ন ও কার্যকর করা যাবে, সে বিষয়েও আলোচনা শেষ হয়নি। অবশ্য জুলাই সনদ প্রণয়ন ও কার্যকর ইস্যুতে বিশেষজ্ঞরা মোটাদাগে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আগামী রোববার থেকে আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ইতি টানতে চায় কমিশন।

বর্ধিত সময় অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। এ সময়ের মধ্যেই কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করতে চায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলাই সনদ প্রণয়নের চেয়ে সনদ কার্যকরের পদ্ধতি নিয়েই জটিলতা বেশি। সেইসঙ্গে আইনগত ভিত্তি দিয়ে জুলাই সনদের আলোকে আগামী সংসদ নির্বাচন এবং অতি জরুরি সংস্কারগুলো নির্বাচনের আগে বাস্তবায়ন ইস্যুতে দলগুলোর পরস্পরবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে সনদ বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তা কাটছেই না। মূলত জুলাই সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। একদিকে বিএনপিসহ তাদের সমমনা কিছু দল চায় প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন হবে জাতীয় নির্বাচনের পর, নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী চায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন এবং এর ভিত্তিতে নির্বাচন। ফলে কমিশনের লক্ষ্য কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকছে।

জুলাই সনদের অগ্রগতি: সাত দফার ভিত্তিতে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত হলেও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি। এ কারণে আটকে আছে জুলাই সনদ প্রণয়ন। বাস্তবায়নের উপায় ঠিক করতে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। তিন দিন আলোচনা করেও ঐকমত্য হওয়া যায়নি। আপাতত আলোচনা মুলতবি রয়েছে। ওইদিনই সনদের চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া দলগুলোকে দেয় কমিশন। রাজনীতিবিদরা বলছেন, সনদ ঘোষণা এবং কার্যকরের দায়িত্ব ঐকমত্য কমিশন ও সরকারের। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসে ঐকমত্য কমিশন। সেদিন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। ওই বৈঠক থেকেও চূড়ান্ত কোনো সমাধান আসেনি। তা ছাড়া আইনি ভিত্তি দিয়ে জুলাই সনদের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচনসহ পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবিতে এর মধ্যে তিন দিনের অভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ সাতটি রাজনৈতিক দল। গত মঙ্গলবার আবারও দ্বিতীয় ধাপে ১১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলগুলো। এ অবস্থায় অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি জুলাই সনদ ঝুলে যাচ্ছে?

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা লম্বা সময়ের জন্য মুলতবি রাখার একটি উদ্দেশ্য ছিল, যাতে দলগুলো এ সময়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐকমত্যে আসতে পারে। এরই মধ্যে কিছু দল নিজেদের মধ্যে আলোচনাও করেছে, কিন্তু প্রধান দলগুলোর মধ্যে সে অর্থে কার্যকর আলোচনা হয়নি। ফলে রোববার আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে কমিশন। রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে ওই সভা হবে। ঐকমত্য কমিশনের পরিকল্পনা হলো—ওইদিনই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করা। প্রয়োজনে পরপর তিন দিন আলোচনা হতে পারে। এরপর দলগুলোর সঙ্গে আর আলোচনা করা হবে না। কয়েক দফায় ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত: এরই মধ্যে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মোটাদাগে ছয়টি সুপারিশ পেয়েছিল কমিশন। সেগুলো হচ্ছে—পূর্ণাঙ্গ সনদ বা তার কিছু অংশ নিয়ে গণভোট, বিশেষ সাংবিধানিক আদেশে বাস্তবায়ন, গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, ত্রয়োদশ সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, সংসদকে সংবিধান সংস্কার সভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে এই মর্মে মতামত চাওয়া যে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন, জুলাই সনদ নিয়ে সংবিধান আদেশ জারি করা যেতে পারে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সংবিধান আদেশ নিয়ে গণভোট করা যেতে পারে। তারা আরও বলেছেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন টেকসই করতে হলে গণভোট বা গণপরিষদ সবচেয়ে ভালো বিকল্প। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানান, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলো (ভিন্নমতসহ) চারভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো হচ্ছে—অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট ও বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ। এখন সাংবিধানিক আদেশ এবং গণভোট—এ দুই বিষয়কে ঐকমত্য কমিশন গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।