• ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

উত্তেজনার মধ্যেই এবার পাক সীমান্তে ইরানি কর্নেলকে গুলি করে হত্যা

usbnews
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৮, ২০২৪
উত্তেজনার মধ্যেই এবার পাক সীমান্তে ইরানি কর্নেলকে গুলি করে হত্যা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান-ইরান সীমান্তে হোসেইন আলী জাওয়ানফার নামে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন কর্নেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের খাশ শহরের সঙ্গে প্রাদেশিক রাজধানী জাহেদানের সংযোগ সড়কে বন্দুকধারীদের গুলিতে তিনি নিহত হন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আইআরজিসির কুদস ঘাঁটি এক বিবৃতি দিয়েছে। ওই বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রদেশের সারাভান সফরে গিয়েছিলেন কর্নেল জাওয়ানফার।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুন্নি মুসলিমদের একটি চরমপন্থি গ্রুপ জইশ আল-আদল এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। এছাড়া কর্নেল জাওয়ানফারের দুই ‘দেহরক্ষী’ তাদের সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে জইশ আল-আদল।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি গ্রামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এতে দুই পাকিস্তানি শিশু নিহত ও একজন আহত হন।

অন্যদিকে, ইরানের এ হামলার ৪৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) তেহরানে ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা চালিয়েছে ইসলামাবাদ। এতে চার শিশু ও তিন নারীসহ ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সেনার ব়্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে ইরানের থেকে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। স্থলসেনা, বায়ুসেনা এবং নৌসেনা তিন বিভাগেই কিছুটা হলেও এগিয়ে পাকিস্তান। সামগ্রিক ব়্যাঙ্কিংয়েও এগিয়ে আছে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। সেনার শক্তির ক্রমতালিকায় বিশ্বের নবম স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। সেখানে ইরানের স্থান ১৪। যদিও শুধু সেনার শক্তি দিয়েই কোনও দেশের শক্তি নির্ভর করে না। সেখানে সেনার শক্তির পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদ এবং অর্থনৈতিক শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। এই সব ক্ষেত্রে আবার পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে ইরান।

সেনাবাহিনীর সদস্যের নিরিখে ইরানের থেকে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। ইরান সেনার সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ৬ লক্ষ ১০ হাজার। সেখানে পাকিস্তানের সক্রিয় সদস্য ৬ লক্ষ ৫৪ হাজার। রিজার্ভ ফোর্সেও এগিয়ে পাকিস্তান। ইরানের সাড়ে তিন লক্ষ রিজার্ভ ফোর্স। পাকিস্তানে সাড়ে পাঁচ লক্ষ। প্যারামিলিটারি ফোর্সেও ইরানের থেকে এগিয়ে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের থেকে ইরানের প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট অনেক বেশি। ডিফেন্স বাজেটেরপ নিরিখে পাকিস্তানের ব়্যাঙ্কিং ৪৭। ইরানের ৩৩।

বায়ুসেনার শক্তির নিরিখে পাকিস্তান এগিয়ে রয়েছে ইরানের থেকে। ইরানের হাতে যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ১৮৬। পাকিস্তানের ৩৮৭। ইরানের হাতে হেলিকপ্টার রয়েছে ১২৯। পাকিস্তানের হাতে ৩৫২। এর মধ্যে ৫৭ অ্যাটাক হেলিকপ্টার রয়েছে পাকিস্তানের। ইরানের রয়েছে মাত্র ১৩টি। যুদ্ধের ট্যাঙ্কও ইরানের থেকে বেশি রয়েছে পাকিস্তানের। ইরানের ট্যাঙ্কের সংখ্যা ১৯৯৬। পাকিস্তানের ৩৭৪২। যদিও আর্মড ভেহিক্যাল পাকিস্তানের থেকে অনেক বেশি রয়েছে ইরানের।

তবে দুই দেশের কারও হাতেই কোনও এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার নেই। কিন্তু ইরানের কাছে অনেক বেশি সাবমেরিন রয়েছে পাকিস্তানের তুলনায়। ইরানের সাবমেরিন রয়েছে ১৯টি। পাকিস্তানের ৮টি। আবার বিমানবন্দর, নৌবন্দরের সংখ্যা পাকিস্তানের থেকে অনেক বেশি ইরানের। কিন্তু যুদ্ধের ভবিষ্যত সব সময় সামরিক শক্তির নিরিখে নির্ণয় হয় না। পরিস্থিতির উপরও তা নির্ভর করে। রাশিয়া-ইউক্রেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিনের পর এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ লাগলে তার পরিণাম যে এশিয়ার মহাদেশের পক্ষে মোটেও সুখকর হবে না।