• ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

গুমের শিকার বিশেষ বন্দীদের ডাকা হতো ‘মোনালিসা’ নামে , গুমের সঙ্গে জড়িতদের দায় ব্যক্তির, বাহিনীর নয় : চিফ প্রসিকিউটর

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ৮, ২০২৫
গুমের শিকার বিশেষ বন্দীদের ডাকা হতো ‘মোনালিসা’ নামে , গুমের সঙ্গে জড়িতদের দায় ব্যক্তির, বাহিনীর নয় : চিফ প্রসিকিউটর
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

জনগণের বেতনে ইউনিফর্ম পরে যারা গুমের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ও অভিযুক্ত বিভিন্ন বাহিনীতে সম্পৃক্ত থাকলেও কর্মকর্তাদের অপরাধে দায় ব্যক্তি নিজের, এর দ্বায় কোনো বাহিনীর বা প্রতিষ্ঠানের নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

শেখ হাসিনার শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ননা আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনাল-১ এ তুলে ধরলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এদিন এক পর্যায়ে চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালকে বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তির হাত কেটে ফেলা, নখ উপড়ে ফেলা, ঘুর্নায়মান চেয়ারে বসিয়ে কিংবা ইলেকট্রনিক শক দিয়ে লোমহর্ষক সব নির্যাতন করা হতো।

এছাড়া গুমের শিকার বন্দীদের আলাদা ‘কোড নেইম’ ছিল। বিশেষ বন্দীদের ডাকা হতো ‘মোনালিসা’ নামে। আর গুম ঘরকে বলা হতো ‘আর্ট গ্যালারি’, যা পরবর্তীতে ‘আয়না ঘর’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

অন্যদিকে, গোপন বন্দীশালা গুলোকে ‘হাসপাতাল’ বা ‘ক্লিনিক’ নামে ডাকা হতো। আর গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের বলা হতো ‘সাবজেক্ট’।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুমের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে আজ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনাল-১।

প্রসিকিউসন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দুই মামলায় অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই সাথে আসামীদের গ্রেপ্তার করে হাজির করতে আগামী ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। এখন দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, গুমের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদ ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার হারুনুর রশিদসহ অন্যান্য আসামিদের মধ্যে অধিকাংশ র‌্যাবে ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা। যাদের কয়েকজন এখন নিজ নিজ বাহিনীতে কর্মরত।

তাজুল ইসলাম বলেন, গুমের ঘটনায় উঠে এসেছে কীভাবে র‌্যাব ও ডিজিএফআইকে ব্যবহার করে ভিন্নমতের লোকজনকে গোপন কক্ষে বন্দি রেখে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে বছরের পর বছর। ডিজিএফআই পরিচালিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে বন্দি থাকা আব্দুল্লাহিল আল আযমি, মারুফ জামান, মাইকেল চাকমাসহ কয়েকজনের গুমের আসামি ডিজিএফআইয়ের সাবেক বেশ কয়েকজন মহাপরিচালকসহ ১৩ জন। তাদের কয়েকজন এখনও কর্মরত। আবার অনেকেই পালিয়েছেন। তবে প্রধান আসামি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেনর, এ ছাড়া র‌্যাবের গোপন কক্ষ টিএফআই সেলে বন্দি থাকা ব্যারিস্টার আরমান, আইনজীবী সোহেল রানাসহ বিশের অধিক গুমের তদন্তও শেষ হয়েছে। এই মামলায় আসামি শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান, তারেক সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ ও র‍্যাবের সাবেক কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জন।