• ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১২ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

রাম মন্দিরে নিয়ে আসা হয়েছে ‘রাম লালা’র মূর্তি, মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন মোদী, ডাবের পানি ছাড়া খাচ্ছেন না কিছুই

usbnews
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৯, ২০২৪
রাম মন্দিরে নিয়ে আসা হয়েছে ‘রাম লালা’র মূর্তি, মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন মোদী, ডাবের পানি ছাড়া খাচ্ছেন না কিছুই
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

আর তিন দিন পরেই ভারতে অযোধ্যার রাম মন্দিরের উদ্বোধন বা বিজেপির ভাষায় ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ করবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এর জন্য ধর্মীয় যেসব নিয়ম-কানুন রয়েছে, সেগুলো কঠোরভাবে পালন করছেন তিনি।

জানা গেছে, ১১ দিন ধরে ডাবের জল ছাড়া আর কোনো খাদ্য গ্রহণ করছেন না মোদী। ঘুমাচ্ছেন মেঝেতে। আর সকালে সূর্যোদয়ের আগেই ঘুম থেকে উঠে ধ্যান করছেন। সাত্ত্বিক আহার করেই এই কয়েকটা দিন কাটাবেন তিনি। অর্থাৎ শাস্ত্রের ‘যাম নিয়ম’ অনুযায়ী সমস্ত নির্দেশ পালন করবেন তিনি।

এরই মধ্যে রাম মন্দিরে নিয়ে আসা হয়েছে ‘রাম লালা’র মূর্তি। বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোরে ট্র্যাকে করে নিয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহের বেদীতে নিয়ে আসা হয় মূর্তিটি। তারপর ক্রেনে করে সেটিকে বসানো হয় গর্ভগৃহের বেদীতে। তার আগে সেখানে বিশেষ পুজো করা হয়।

মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন মোদী, ডাবের পানি ছাড়া খাচ্ছেন না কিছুই

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সোমবার (২২ জানুয়ারি) মোদির বিজেপির ভাষায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হবে রাম মন্দিরের। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হবে অনুষ্ঠান, চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তার আগে অধিবাস হবে তিন দিন ধরে।

প্রাণ প্রতিষ্ঠার দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পুজা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেদিন ১১ হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন। সেই তালিকায় বলিউড তারকা থেকে শুরু করে শিল্পপতি ও রাজনৈতিক নেতারাও রয়েছেন।

এমনকি, রাম মন্দিরের মোদির ভাষায় প্রাণ প্রতিষ্ঠার দিন দেশজুড়ে অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তাছাড়া সারা ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এই অনুষ্ঠান।

আরও জানা গেছে, মূল অনুষ্ঠানের একদিন আগেই অর্থাৎ রোববার (২১ জানুয়ারি) অযোধ্যায় পৌঁছাবেন নরেন্দ্র মোদী। এরই মধ্যে তার নতুন কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা অযোধ্যা।

ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) জওয়ান থেকে শুরু করে কমান্ডো বাহিনী, উত্তর প্রদেশ পুলিশ, এনডিআরএফ,এসডিআরএফ জওয়ানরা পুরো অযোধ্যা ঘিরে ফেলেছেন। সিসিটিভির সঙ্গে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

 

অযোধ্যায়   ২২ জানুয়ারি রামমন্দির উদ্বোধন ঘিরে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। বিজেপি ওই দিন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পূজা পাঠের আয়োজন করবে। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল আয়োজন করছে সম্প্রীতি মিছিলের। পিছিয়ে নেই বামেরা। তারাও নিয়েছে একাধিক কর্মসূচি।

যেদিন অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন হবে, সেদিন সকালে কলকাতার কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর কলকাতার রাজপথে সংহতি মিছিলে হাঁটবেন তৃণমূল নেত্রী। সব ধর্মের সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে হাজরা থেকে পার্ক সার্কাস ময়দান পর্যন্ত এই মিছিল হবে বলে জানালেন তিনি। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখবেন মমতা। শুধু শহর কলকাতাতেই নয়, সেদিন গোটা রাজ্যজুড়ে সংহতির বার্তা নিয়ে এই সম্প্রীতি মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ২২ জানুয়ারি কলকাতার পাশাপাশি প্রত্যেক জেলায় প্রতিটি ব্লকে সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতি মিছিল করবে তৃণমূল।

 

নতুন রাম মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে বাবরি মসজিদের জায়গায়। যেটি ১৯৯২ সালে উগ্রবাদী হিন্দুরা ভেঙে ফেলেছিল।

রোহতক মহর্ষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ সম্পন্ন করে সে সময়টিতে বিয়ে করে বলবীর সিংহ। প্রতিবেশীরা বলবীরকে কট্টর হিন্দু হিসেবে জানলেও বলবীরের বাবা ও তার পরিবার কখনোই মূর্তি পূজায় বিশ্বাস করতো না। এমনকি মন্দিরেও যেত না। এমনকি তাদের বাড়ি থাকা গীতাও তার পরিবারের কেউ কখনো পড়ত না।

বলবীর সিং ও যোগেন্দ্র পাল বাবরি মসজিদ ভাঙার অগ্রসেনানী ছিলেন। যখন বাবড়ি মসজিদ ভাঙার তোড়জোর শুরু হয় তখন শিবসেনার লোকজন তাকে ও তার বন্ধু যোগেন্দ্রকে বাবরি মসজিদ ভাঙতে অযোধ্যায় পাঠিয়েছিল।

বাবরি মসজিদ ভেঙে পানিপথে ফিরে আসার পর তাদেরকে দেয়া বিরাট সংবর্ধনা। বাবরি মসজিদের গম্বুজে শাবল চালিয়ে তারা সেখান থেকে দু’টি ইট এনেছিল, যা পানিপথের শিবসোর স্থানীয় অফিসে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল।

বাবরি মসজিদ ভাঙার পর বলবীর ও যোগেন্দ্র যে কারণে মুসলিম হন

বাবরি মসজিদ ভাঙার পর বলবীর সিংহকে তার পিতা দৌলতরাম বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। মসজিদ ভেঙে বাড়ি যাওয়ার পর তার পিতা তাকে বলে, ‘বাবা আমাকে বললেন, হয় তুমি এই বাড়িতে থাকবে, না হলে আমি। তো আমিই বেরিয়ে গেলাম বাড়ি থেকে। আমার স্ত্রীও বেরিয়ে এল না। থেকে গেল বাড়িতেই।’

বলবীর বা তার পরিবার কোনো দিন উগ্র হিন্দু ছিল না। ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আর ইংরেজি, এই তিনটি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি পাওয়া বলবীর তাঁর মা, বাবা, ভাই, বোনদের নিয়ে ছোটবেলায় থাকতেন পানিপথের কাছে খুব ছোট্ট একটা গ্রামে। বলবীরের বয়স যখন ১০ বছর, তখন তার বাবা দৌলতরাম তার ভাইদের পড়াশোনার জন্য পানিপথে চলে আসে।

সে সময় ভবঘুরের মতো জীবন কাটিয়েছে বলবীর। লম্বা দাড়িওয়ালা লোক দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠতো বলবীর। বেশ কিছু দিন পর বাড়ি ফিরে জানতে পারে, বাবা দৌলতরাম মারা গেছে। বাবরি মসজিদ ভাঙার দুঃখেই দৌলতরামের মৃত্যু হয়েছে।

অতঃপর বলবীর পুরনো বন্ধু যোগেন্দ্র পালের খোঁজখবর নিতে গিয়ে আরও মুষড়ে পড়েন। বলবীর জানতে পারে, যোগেন্দ্র মসজিদ ভাঙার প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে মুসলিম হয়ে গেছে। যোগেন্দ্র পালের সঙ্গে দেখা হলে সে বলবীরকে বলেছিলেন, বাবরি ভাঙার পর থেকেই তাঁর মাথা বিগড়ে গিয়েছিল। যোগেন্দ্রর মনে হয়েছিল পাপ করেছিলেন বলেই সেটা হয়েছে। প্রায়শ্চিত্ত করতে গিয়ে তাই মুসলিম হয়ে যান যোগেন্দ্র।

যোগেন্দ্র পালের কথা শুনেই বলবীর সিংহ দেরি না করে সোনেপতে গিয়ে মাওলানা কালিম সিদ্দিকির কাছে মুসলিম ধর্মে দীক্ষা নেন। মুহাম্মদ আমির নাম ধারণ করেন। লম্বা দাড়ি রেখে দেন। নিয়মিত ভোরে ফজরের আজান দেন। সব সময় আল্লাহর জিকির-আজকার করেন।

বলবীর সিংহ প্রতিজ্ঞা কররেন, বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে ভারতে ভেঙে পড়া ১০০ মসজিদ সংস্কার করবেন। বলবীরের দাবি অনুযায়ী ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ ২৫ বছরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে মেওয়াটে অনেক ভেঙে পড়া মসজিদ খুঁজে বের করে সেগুলোর মেরামত করেছেন।

 

উল্লেখ্য যে, ১৯৯৪ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর ইসমাইল ফারুকির করা মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, ‘সরকার মন্দির, মসজিদ, গির্জা সবই অধিগ্রহণ করতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট ধর্মে তার আলাদা কোনো তাৎপর্য না থাকে। মসজিদ ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়। কারণ নামাজ যে কোনো জায়গাতেই পড়া যেতে পারে।’

সে সময় সুন্নি ওয়াক্‌ফ বোর্ড ইন্ডিয়াসহ মুসলিম সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বৃহত্তর (সাংবিধানিক) বেঞ্চে ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছিল।

বাবরি মসজিদ মামলার রায় নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে

১১ নভেম্বর ২০১৯ অযোধ্যার বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি নিয়ে  শনিবার রায় দিলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, অযোধ্যার বিতর্কিত জমি শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হোক হিন্দুদের। মুসলিমদের মসজিদ তৈরির জন্য বিকল্প জমি দেওয়া হোক।

শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন,৩-৪ মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে তৈরি করতে হবে ট্রাস্ট। সেই ট্রাস্ট ওই জমিতে মন্দির নির্মাণের জন্য রূপরেখা তৈরি করবে। আর অযোধ্যাতেই মসজিদের জন্য মুসলিম সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ডকে দেওয়া হবে ৫ একর বিকল্প জমি।

রায় ঘোষিত হওয়ার অল্প ক্ষণের মধ্যেই টুইটারে শাসক দলের সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লিখলেন ‘মিল কা পত্থর’, অর্থাৎ, মাইলফলক।

ওদিকে, মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট নয়। বোর্ডের কৌঁসুলি শুধু বলেছেন, ‘রায়কে সম্মান করি’। প্রথমে তারা এ ব্যাপারে রিভিউ পিটিশন করার কথা বললেও পরে কিছু জানায়নি।

বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি। ছবি: এএফপি

রাম মন্দির দাবির জন্য প্রচার চালানো বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি রায়ের পর বলেছেন, সার্থক হয়েছে তাঁর রাম জন্মভূমি আন্দোলন। নব্বইয়ের দশকে সোমনাথ থেকে রথযাত্রা শুরু করেছিলেন বর্ষীয়ান নেতা। সেই রথযাত্রায় তাঁর সারথী ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেই রথযাত্রাই উসকে দিয়েছিল হিন্দুত্বের আবেগ।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ছবি: এএফপি

বিজেপি এবং আরএসএস নেতৃত্ব প্রত্যাশিত ভাবেই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। কংগ্রেসের মুখেও একই সুর নেই। রায় মেনে নিয়ে সবাইকে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দলটি আহ্বান জানিয়েছে। কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির নির্মাণ বা বিকল্প জমিতে মসজিদ তৈরির প্রসঙ্গ নিজের টুইটে উল্লেখ করেননি রাহুল। শুধু আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর এবং নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে কংগ্রেস বলেছে, ‘অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান করি। আমাদের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা মেনে চলতে সব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।’ দলটির মুখপাত্র রণদীপ সূর্যওয়ালাকে বলেছেন, ‘যুগে যুগে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য আমাদের সমাজকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে, তা পুনরায় নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের।’

Mamata Banerjee urges judiciary “not to take people’s jobs" - The Economic Times

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্য ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা।

এমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক নেতাকে অযোধ্যা মামলার এই রায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। তাঁর মন্তব্য, ‘রায়ে তথ্য–প্রমাণকে হারিয়ে আস্থা-বিশ্বাসের জয় হয়েছে।’’

‘রায়টা কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হলো, সবটা ঠিক বুঝতে পারছি না – ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায়

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি: এএফপি

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় লিখেছেন, ‘রায়টা কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হলো, সবটা ঠিক বুঝতে পারছি না। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সেই আদালত একটা রায় দিলে তাকে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর আমি খুঁজে পাচ্ছি না। চার শ-পাঁচ শ বছর ধরে একটা মসজিদ একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল। সেই মসজিদকে আজ থেকে ২৭ বছর আগে ভেঙে দেওয়া হলো বর্বরদের মতো আক্রমণ চালিয়ে। আর আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলল, ওখানে এ বার মন্দির হবে। সাংবিধানিক নৈতিকতা বলে তো একটা বিষয় রয়েছে! এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে দেশের সংবিধানের ওপর থেকে কারও ভরসা উঠে যায়। আজ অযোধ্যার ক্ষেত্রে যে রায় হলো, সেই রায়কে হাতিয়ার করে ভবিষ্যতে এই রকম কাণ্ড আরও ঘটানো হবে না, সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবেন?’

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ স্বীকার করেছেন

এক আইন বিদ্যমান আছে, যার আওতায় ১৯৪৭ সালে যে ইবাদতের স্থান বা উপাসনালয় যে অবস্থাতে ছিল, তা ওই অবস্থাতেই থাকবে। অযোধ্যার মতো আরো বিবাদ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রতিহত করার জন্য নরসিমা রাওয়ের শাসনামলে ১৯৯১ সালে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ স্বীকার করেছেন, তিনি অযোধ্যা মামলার রায় শোনানোর পরপরই নিজের পছন্দের মদ পান করেছিলেন। তিনি আত্মজীবনীতে এই স্বীকারোক্তি করেছেন, যা সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে। ওই গ্রন্থে তিনি অযোধ্যা রায় সম্পর্কে আরো কিছু কথা বলেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার এই কথাকে ঘিরেই। কিছু লোকের ধারণা, বিচারপতি গগৈ যে ধরনের রায় শুনিয়েছিলেন, তার পর তার চৈতন্যে থাকা তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারত। এ জন্য তিনি অচেতন থাকাকে বেশি সঙ্গত মনে করেছেন।

তিনি লিখেছেন, অযোধ্যা বিবাদের সমাধানের পেছনে ‘আত্মিক শক্তি’ কাজ করেছে। রায় শোনানোর পর তিনি তার বেঞ্চের সব বিচারপতিকে নিয়ে নয়াদিলি­র তাজ মানসিং হোটেলে যান। ওখানে তারা খাওয়াদাওয়ার পর নিজেদের পছন্দের সবচেয়ে দামি মদ গলাধঃকরণ করেন। আমাদের জানা নেই, সেটি কোন আত্মিক শক্তি ছিল, যা তাদের রায়ের পর শরাবখানায় নিয়ে যায়। মদ খাওয়া কারো ব্যক্তিগত কাজ। আর বিচারপতি গগৈ যে ধর্মের মানুষ, সেখানে মদ নিষিদ্ধ নয়। অবশ্য ইসলামে মদকে সব ‘মন্দের মূল’ অভিহিত করা হয়েছে। এ জন্য তার এই কর্ম নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই আমাদের। তবে এ বিষয়ে অবশ্যই অভিযোগ আছে যে, তিনি পাঁচ শত বছরের প্রাচীন মসজিদের স্থানে পরিপূর্ণ সজ্ঞানে স্বাভাবিক অবস্থায় মন্দির নির্মাণের রায় শোনানো সত্ত্বেও নিজের চৈতন্য হারানোকে কেন জরুরি মনে করলেন? বিশ্ব জানে, অযোধ্য মামলায় তার রায় নিঃসন্দেহে পক্ষপাতিত্বমূলক রায়। কেননা তিনি তার রায়ে বাবরি মসজিদ জুলুমের শিকার হয়েছে, এ কথা স্বীকার করা সত্তে¡ও রায় মন্দিরের পক্ষেই দিয়েছেন। এ কারণেই ওই রায়ের পর দেশে মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয় মিটিয়ে দেয়ার স্বপ্ন লালনকারী শক্তিগুলো আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে।