• ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জুলাই আন্দোলনে অবদানের আতিকুল গাজীর আর্টিফিশিয়াল হাত ভাঙা এবং বিবেক দংশন

Usbnews.
প্রকাশিত অক্টোবর ১৮, ২০২৫
জুলাই আন্দোলনে অবদানের আতিকুল গাজীর আর্টিফিশিয়াল হাত ভাঙা  এবং বিবেক দংশন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে সরকারের আচরণের সমালোচনা করেছেন অনেকেই। ২৪-এর জুলাই ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে সহস্রাধিক শহীদ ও আহত যোদ্ধার রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। ‘জুলাই বিপ্লবীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।

জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতাকে ‘জুলাই আহত বীর’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুরক্ষা আইনের মাধ্যমে দায়মুক্তি নিশ্চিত করা এবং জুলাই সনদে তাদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

জুলাই আন্দোলন দমনের জন্য চালানো হয় ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা। এতে দু’সহস্রাধিক মানুষ শাহাদাত বরণ করেন। আহত হন হাজার হাজার মানুষ। আন্দোলন চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলীতে অনেকেই হাত, পা, চোখ হারিয়ে স্থায়ীভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েন। নিহতদের স্বজনরা অনেক শহীদের লাশ পর্যন্ত পায়নি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতা সহ প্রায় সকলকেই রীতিমতো গণপলায়নের মাধ্যমে দেশান্তরী হতে হয়েছে। যা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা।

জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেখানে তো প্রধান অতিথিদের কাতারে বা সামনের সারিতে জুলাই যোদ্ধা-শহীদ পরিবার তাঁদেরই থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম ভিন্ন চিত্র। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবারও দায়সারা ভাব দেখিয়েছে এ অভিযোগ এখন ভাইরাল।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে সকালে মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কয়েক শ জন। তাঁরা জুলাই আন্দোলনে অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা, পুনর্বাসন বাস্তবায়নের দাবি জানাতে থাকে। দুপুরে পুলিশ পিটিয়ে তাঁদের সেখান থেকে তুলে দেয়।সরকার তাঁদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেছে, তা অনেকের কাছে এখনো স্পষ্ট নয়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আয়োজনে শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ’ সই হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানের আগে দিনের প্রথমার্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা’ ব্যানারে জুলাই সনদের আইনি বৈধতাসহ কয়েকটি যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ‘২৪-এর জুলাই যোদ্ধা আতিকুল গাজিসহ ২৭ জন গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক সদস্য কর্তৃক জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে অসাদাচরণের অভিযোগও উঠেছে।

​আহতরা অভিযোগ করেন সনদের প্রতিবাদ জানাতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাদের ওপর বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ করে। তবে পুলিশ বলছে, জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী উপেক্ষা করে সংসদ ভবন এলাকার দেয়াল টপকে বেলা ১১ টার দিকে তারা ভেতরে ঢুকে পড়েন। দুই ঘন্টা ধরে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বল প্রয়োগ করতে হয়।

​জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষে কি এড়ানো যেত না ?

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এই  ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে , উক্ত অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মনে করে, কেবল ‘জাতীয় ঐক্য’-র নামে জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের উপেক্ষা করে কিছু তথাকথিত রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে সনদে স্বাক্ষর কার্যক্রম সম্পন্ন করা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার সঙ্গে চরম প্রতারণা।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা ছিল উদার গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পরবর্তীতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ আটকে যায় বা আটকে দেয়া হয়। ভিন্নমতাবলম্বীকে হত্যা করে নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী ও নিরঙ্কুশ করার স্থায়ী বন্দোবস্ত করা হয়েছিলো।

‘আমার একটা হাত নাই, এটা আর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম) হাত। ওরা (পুলিশ) বাড়ি মেরে সেটাও ভেঙে ফেলছে। আমার কাছে কি এত টাকা আছে যে আবার একটা হাত কিনে নেব? এটা কি কোনো রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে?’— এমন করেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন আতিকুল ইসলাম, যিনি শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন।

আতিকুলসহ কয়েক শ ব্যক্তি নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় বিক্ষোভ করছিলেন। তাদের দাবি ছিল, সরকারের প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাতিল না করা পর্যন্ত তারা স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হতে দেবেন না।

শুক্রবার সকালে বিক্ষোভকারীরা প্রাচীর টপকে অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। পুলিশ ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা সরে না গেলে, পুলিশ জোর করে তাদের সরিয়ে দেয়। এরপরই সংঘর্ষ শুরু হয়।

দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। এসময় সড়কে আগুন ধরানো হয়, পুলিশের বাসসহ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ।

আতিকুল গাজীর আর্টিফিশিয়াল হাত ভাঙা ছবিটি একসময় আবারো ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলো। নিশ্চই এমন ছবি দেখে সরকারের সবার মনে আঘাত না লাগলেও একজন না একজনের মনে আঘাত লাগবে।

আতিকুল গাজী ‘জুলাই যোদ্ধাদের’একজন। কৈশোর থেকে মাত্র তারুণ্যে পা দেয়া তরতাজা একটা প্রাণ। আহত হয়ে একটা হাত কাটার পর ও টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছিলো- একটা হাত গেছে তো কি হয়েছে , দেশের জন্য আরেকটা আহত আছে এখনো। প্রয়োজনে সেটাও দেবো।

​জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষে অন্তত অনেকেই আহত হয়েছেন। কিন্তু এটাকেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে হোক বলেন নিজেরাই বলেন, অন্যভাবে ডিল করতে পারত। কিন্তু তারা যেভাবে সেখানে লাঠিচার্জ করেছে, টিয়ার শেল ছুড়েছে, রাবার বুলেট ছুড়েছে, এগুলো আসলে খুবই অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক।

আতিকুল গাজী ‘জুলাই যোদ্ধাদের’একজন। কৈশোর থেকে মাত্র তারুণ্যে পা দেয়া তরতাজা একটা প্রাণ। আহত হয়ে একটা হাত কাটার পর ও টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছিলো- একটা হাত গেছে তো কি হয়েছে , দেশের জন্য আরেকটা আহত আছে এখনো। প্রয়োজনে সেটাও দেবো।

পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি জানান, ‘ডাক্তার বলেছে হাড় ভাঙেনি, তবে নড়েছে। কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে হবে।’

আতিকুলের অভিযোগ, এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) সদস্যরাই তার ওপর হামলা চালায়। তার ভাষায়, ‘আমরা যৌক্তিক দাবির জন্য সংসদ ঘেরাও করেছিলাম, কিন্তু পুলিশই আগে চড়াও হয়ে আমাদের আক্রমণ করে।’