
একজনের এনআইডি দিয়ে আরেকজন এনআইডি তৈরি করে ফেলছে। স্বামী-স্ত্রী হয়ে যাচ্ছে ভাইবোন। এসবের সঙ্গে একাধিক চক্র সংশ্লিষ্ট। এ অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের; মোটা অঙ্কের টাকা হলেই মিলছে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র। কেউ বয়স পরিবর্তন করছে, কেউ হচ্ছে দ্বৈত ভোটার; জীবন্ত ব্যক্তিকে দেখানো হচ্ছে মৃত। বিদেশে থাকলেও বলা হচ্ছে দেশেই আছে। আবার কেউ নিজের ছবি দিয়ে ব্যবহার করছে অন্যের তথ্য। কেউ ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, খোদ নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত।
ভুয়া এনআইডি তৈরি করে জমি দখল, বিদেশযাত্রাসহ নানা অপকর্ম চালানো হচ্ছে। কয়েক মাস আগে ভুয়া এনআইডি তৈরির চক্রের ২৩ সদস্যকে ধরা হয়েছে। এসব করে তারা কোটি টাকার মালিক হয়েছে।
১১ মে ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায় – নির্বাচন কমিশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িয়ে পড়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতিতে। এদের সহযোগিতায় শতাধিক চক্র দেশব্যাপী গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে ঘাপটি মেরে থাকা এ চক্রের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে এনআইডি জালিয়াতি করে অন্যের সম্পত্তি ও ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকার লোন হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শুধু তাই নয়, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করা হচ্ছে। রাজধানীর বাইরে দেশের বড় বড় শহরগুলোতেও এ সব চক্রের নেটওয়ার্ক রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি শাখা এমন অন্তত এক হাজার ৫৭ জনকে শনাক্ত করেছে, যারা দ্বিতীয়বার এনআইডি কার্ড পেয়েছেন। এ সব চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে এনআইডি শাখার অর্ধশত কর্মচারীকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জালিয়াতির এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনআইডি প্রকল্পের অভ্যন্তরে শক্তিশালী চক্র এসব ঘটনায় জড়িত। কিন্তু বরাবরই চক্রটি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। শুধু ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নয়, বড় বড় কর্মকর্তারা অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও কখনোই তা সামনে আসে না। এসব কারণে থেমে থেমে চক্রটি জালিয়াতি অব্যাহত রেখেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুয়া তথ্য দিয়ে জাল এনআইডি ও টিন নম্বর তৈরি করে অসাধু চক্র। এসব জাল এনআইডি ও টিন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে তৈরি করে ফ্ল্যাটের ভুয়া দলিল। পরে এসব ভুয়া দলিল বিভিন্ন ব্যাংকে মর্টগেজ করে মোটা অংকের টাকা লোন নেয় এসব চক্র। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে অসাধু এনআইডি কার্ড তৈরির কর্মকর্তা, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা। এ সব চক্র এখন পর্যন্ত ৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক শত কোটি টাকা লোন নেয়ার তথ্য পেয়েছেন সিআইডি ও ডিবির কর্মকর্তারা।
এনআইডি ফাঁদ থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলন জরুরি। জাতীয়ভাবে অবরোধ করতে হবে এনআইডি দুর্নীবাজ দালালদের। এনআইডিতে এক তথ্য আবার কথিত স্মার্ট কার্ডে একই ব্যক্তির আরেক তথ্য।
পুরোনো পাসপোর্ট অথবা নাগরিকত্ব অথবা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার যেকোন একটা দিয়েই এনআইডি হলে সমস্যা কোথায় ?
দেশে ও প্রবাসে এনআইডি ফাঁদ , প্রতিমাসে হাজার কোটি টাকা ডাকাতি হচ্ছে। এই কলঙ্কিত আমলাতান্ত্রিক ডাকাত চক্রের প্রতারণায় কয়েক লক্ষ ভোটার আটকে যাবে।
বাংলাদেশের জনগণের জন্য এক বিশাল দুর্নীতি ও হয়রানির। ভুল সংশোধন হচ্ছে এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ। দেশি ও প্রবাসীদের জীবন হেস্ত নেস্ত করছে। একটি চক্র ইচ্ছে করেই ভুল করেছে হাজার কোটি টাকা ডাকাতির জন্য।
জনগণের সাথে এসব প্রতারণার জন্য দায়ী যারা তারাই আবার সংশোধনের জন্য আরেকবার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফাঁদে পেয়েছে জনগণ।
চক্রগুলো কয়েকটি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে থাকে। এর মধ্যে এনআইডির অনুবিভাগের সংশ্লিষ্টরা সাধারণত ঢাকা বা মাঠ পর্যায়ে গোপন পাসওয়ার্ড জেনে সার্ভারে প্রবেশ করে জালিয়াতির কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ক্ষেত্রবিশেষে নকল কাগজপত্র তৈরি করে যাচাইয়ের নামে বৈধতা দেয়। আবার সরকারের প্রভাবশালী বা নির্বাচন কমিশনের প্রভাবশালীদের তদবিরেও তারা জালিয়াতি করে। গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীতে আটকে গেলে এনআইডির বিভিন্ন ডেস্কে যারা দায়িত্ব পালন করেন তারা সম্মিলিতভাবে ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের কাছে আত্মীয় পরিচয়ে ফাইল পাস করিয়ে নেয়। মাঠ পর্যায়ে তদন্তের নামে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সঠিক প্রতিবেদন দেওয়া হয়। শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা এভাবে নানা পন্থায় জালিয়াতি করে থাকে। এসব জালিয়াতিতে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়।