যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া একটি যৌথ ‘শান্তিচুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে। মালয়েশিয়ায় এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যেকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী রোববার (২৬ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত আসিয়ানের ৪৭তম শীর্ষ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক নথিতে স্বাক্ষর করেন জোটভুক্ত দেশগুলোর নেতারা। এ সম্মেলন শুরু হয়েছে একই দিনে এবং চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত।
আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার মালয়েশিয়ায় অবতরণ করেন। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্যশিল্পীদের একটি দল অভ্যর্থনা জানায়। রেড কার্পেটে নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে নাচে অংশ নেওয়ার পর ট্রাম্প এক হাতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও অন্য হাতে মালয়েশিয়ার পতাকা নিয়ে লিমুজিনে চড়ে শহরের দিকে রওনা দেন।
চুক্তির আগে ট্রাম্প বলেন, জুলাইয়ে থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ‘তাদের চারজনের মধ্যে অনেক ফোনালাপ হয়েছে, এবং তার প্রশাসন ‘সংঘাত থামাতে সক্ষম হয়েছে’।
ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি শান্তিচুক্তি করাতে অত্যন্ত পারদর্শী এবং এক্ষেত্রে তিনি জাতিসংঘের চেয়ে অনেক ভালো কাজ করেন।
গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি ফোনে দুই দেশের নেতাদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন, সংঘাত চললে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনায় বিরতি দেবে। তিনি বলেন, “আমরা উভয় দেশের সঙ্গেই বাণিজ্য ও সহযোগিতা চালিয়ে যাব, যতক্ষণ তারা শান্তিতে থাকে।”
দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে রকেট ও ভারী গোলা বিনিময়ের অভিযোগে উত্তপ্ত ছিল দুই দেশ। এ সংঘাতে অন্তত ৪৮ জন নিহত ও প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে — যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন জানান, সীমান্ত এলাকা থেকে দুই দেশই ভারী অস্ত্র সরিয়ে নেবে এবং আটক ১৮ কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “এটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রথম পদক্ষেপ।”
ট্রাম্পকে মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঐতিহ্যবাহী নৃত্যশিল্পীরা তাকে স্বাগত জানায়। লালগালিচায় তাদের সঙ্গে নেচে এক হাতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা, অন্য হাতে মালয়েশিয়ার পতাকা তুলে ধরেন ট্রাম্প।
এদিকে কুয়ালালামপুরে আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে সমান্তরাল বৈঠক হয়। মার্কিন বাণিজ্য আলোচক জেমিসন, গ্রিয়ার জানান, “আলোচনায় শুল্কবিরতি ও ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজ নিয়েও কথা হয়েছে, ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে এটি।”
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ নিয়ে চুক্তি করবে। পাশাপাশি কম্বোডিয়ার সঙ্গেও বড় পরিসরের বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে।
রোববার ট্রাম্পের ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ, ইনাসিও, লুলা, দ্য, সিলভার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। লুলা আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক কমানো হবে। তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক, কার্নির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক বাতিল হয়েছে। বরং ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, কানাডার পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কাম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার ‘সতর্ক নেতৃত্ব’ এবং ‘অবিরাম প্রচেষ্টা’ ছাড়া শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হত না।
তিনি বলেন, ‘যতই জটিল ও কঠিন বিবাদ হোক, তা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা উচিত।’
হুন মানেত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকেও ধন্যবাদ জানান এবং আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।