ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বিজেপি মাওবাদীদের থেকেও ভয়ঙ্কর! এরা বাঁশ হয়ে ঢুকবে, আর ফালি হয়ে বেরোবে।’ বিজেপিকে তিনি দাঙ্গাবাজ ও লুটেরা ইত্যাদি বলে অভিহিত করেন। তিনি গতকাল মঙ্গলবার পুরুলিয়ার হুটমোড়ায় দলীয় জনসমাবেশে বক্তব্য রাখার সময়ে ওই মন্তব্য করেন।
মমতা বলেন, কোনটা বিষাক্ত সাপ, অজগর না কেউটে? যদি বলেন, কোনটা বিষাক্ত সাপ, কোবরা না কেউটে? তাহলে মনে রাখবেন এক ছোবলেই শেষ, তার নাম হলো বিজেপি। তিনি বিজেপি নেতারদেরকে কটাক্ষ করে বলেন, নির্বাচন এলে তখন বাংলার কথা মনে পড়ে। ‘বঙ্গাল’! বাংলা বলতেও পারে না, বঙ্গাল! ওরা ভোটের জন্য কাঙ্গাল। ওরা হলো ভোট রাজনীতি সর্বস্ব। আগেরবারে নির্বাচনের সময়ে ওরা ১৫ লাখ রুপি করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু এক পয়সাও কেউ পেয়েছেন মা বোনেরা? ১৫ লাখ রুপি করে আপনাদের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী? বিজেপির নেতারা দিয়েছেন? বিজেপি এবার এলে বের করে দেবেন। বিজেপির লোকেরা আসলে তাদের ভাগিয়ে দেবেন, সরিয়ে দেবেন। বলবেন তোমাদের আমরা চাই না।
মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে দাঙ্গাবাজ, লুটেরা ইত্যাদি বলে অভিহিত করে বিজেপিকে চাই না বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিজেপির কাজই হচ্ছে মিথ্যে কথা বলা। আমরা ছোটবেলায় বলতাম, পড়তাম ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি। আর বিজেপি হচ্ছেÑ সকালে উঠিয়া আমি দাঙ্গা করে চলি, মনে মনে সারাক্ষণ মিথ্যে কথা বলি। সারাক্ষণ মানুষদের ধরে ধরে মারি, মানুষদের বিরুদ্ধে কুৎসা করি, সারাক্ষণ ফেক ভিডিও তৈরি করি। সে জন্য আর নেই দরকার, দেশে বিজেপি সরকার।’ তিনি বলেন, ‘বিজেপি চায় বাংলাকে দখল করতে। বাংলা দখল করে বাংলাকে পরাধীন করতে চায়। মাথায় রাখবেন, স্বাধীন বাংলা, স্বাধীন ভারতবর্ষের নাগরিক আমরা। বাংলাকে আমরা বিক্রি করতে দেবো না, দেবো না, দেবো না’ বলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন। তিনি একই মন্তব্য করেন একদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে দলীয় জনসমাবেশে বক্তব্য রাখার সময়ে। সেদিন তিনি বলেন, আমি বেঁচে থাকতে বাংলাকে বিক্রি হতে দেবো না।
বিজেপির সমালোচনা ও তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপির নেতারা দিল্লি থেকে বলছেন, হয় জেলে, না হয় ঘরে। তৃণমূল করলে জেলে ভরবে। আর বিজেপি হলো ‘ওয়াশিং মেশিন’। ‘কালো’ হয়ে ঢুকবে, আর ‘সাদা’ হয়ে বেরিয়ে চলে আসবে। ‘ওয়াশিং পাউডার ‘ভাজপা’ (ভারতীয় জনতা পার্টি/বিজেপি)। এই তো হয়ে গেছে আজকাল। কালোটা সাদা, আর সাদাটা কালো!’
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেয়া শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যদের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, আমার অনেক শুভেচ্ছা থাকবে, অনেক অভিনন্দন থাকবে। তোমরা প্রধানমন্ত্রী হও, তোমরা রাষ্ট্রপতি হও। উপরাষ্ট্রপতি হও। কিন্তু দয়া করে বাংলাকে বিক্রি করতে যেও না। ভারতবর্ষের নেতা হও, সারা পৃথিবীর নেতা হও। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে বাংলাকে বিক্রি করতে বিজেপিকে দেবো না, দেবো না, দেবো না। এটা আমাদের শপথ, অঙ্গীকার, প্রতিজ্ঞা এবং আমাদের চ্যালেঞ্জ।
মমতা বলেন, ‘বিজেপি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। ওরা মিথ্যে কথা বলে কুৎসা রটায়। অপপ্রচার করে। ওরা ‘ফেক ভিডিও’ বানিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। সব হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্বাস করবেন না। সব ‘ফেক’। ওদের চক্রান্তের কাছে কী আপনারা মাথানত করবেন? বিজেপির ‘ফেক ভিডিও’ বিশ্বাস করবেন? ওরা ‘আইটি সেলের নামে টাকার বিনিময়ে লালকে সাদা আর সাদাকে কালো করছে!’ সেদিন মমতা আরো বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল জয়ী হবে এবং এখান থেকেই তৃণমূলের জয়যাত্রা শুরু হবে। মমতা এদিন নিজেই নন্দীগ্রাম আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ায় উপস্থিত জনতা উচ্ছ্বাসের সাথে তাকে স্বাগত জানান।
সম্প্রতি রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও নন্দীগ্রামের সাবেক বিধায়ক এবং প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেয়ায় কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল। কিন্তু এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিজেপিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানালেন। তার ওই পরিকল্পনাকে মাস্টার স্ট্রোক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।