জুলাই সনদ বাস্তবায়নে চারটি বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভোটাররা হ্যাঁ অথবা না ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। সবগুলোই সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত। এছাড়া গণভোট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন—জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারন করেছি। আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এরকম:
‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। দুপুরে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে আদেশের সারসংক্ষেপে স্বাক্ষর করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আদেশে বলা হয়, সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের প্রকাশ ঘটেছে এবং ওই গণঅভ্যুত্থানের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে, ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং ৮ আগস্ট বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকারিতা ও স্বীকৃতি লাভ করেছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্কার সাধনের মাধ্যমে সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় সংস্কারের সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং ওই কমিশনসমূহ স্ব স্ব প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করে।
প্রতিবেদনগুলিতে অন্তর্ভুক্ত সুপারিশসমূহের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনাক্রমে সংবিধান সংস্কারসহ অন্যান্য সংস্কারের সুপারিশ সংবলিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রণয়ন করে এবং রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে উক্ত সনদে স্বাক্ষর ও তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে।
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী জনগণের অনুমোদন প্রয়োজন এবং এ উদ্দেশ্যে গণভোট অনুষ্ঠান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও উক্ত পরিষদ কর্তৃক সংবিধান সংস্কার করার আবশ্যকতা রয়েছে।
এজন্য জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা একান্ত প্রয়োজন। সেহেতু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এই আদেশ জারি করলেন।
এই আদেশের (ক) ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ১২ ও ১৫ অনুচ্ছেদ অবিলম্বে কার্যকর হবে, এবং
(খ) ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৩ ও ১৪ অনুচ্ছেদ গণভোটের ইতিবাচক ফলাফল সাপেক্ষে সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখে কার্যকর হবে।
জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট বিষয়ে আদেশে বলা হয়, জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এই আদেশ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত অংশ গণভোটে উপস্থাপন করা হবে।

গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্ন-
১. গণভোটে নিম্নরূপ প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে-
“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?”; (হ্যাঁ/ না):
(ক) নির্বাচনকালীন তত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ কক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধনী করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
(গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার ও কয়েকটি সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে-সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
(২) ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ব্যালটে প্রত্যেক ভোটার গোপনে ভোটদান করবেন।
গণভোট অনুষ্ঠানের বিষয়ে বলা হয়, এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন এই আদেশ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠান করা হবে।
গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য আইন প্রণয়ন
গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, কার্যাবলি ও বিলুপ্তি
(১) গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট (হ্যাঁ) সূচক হলে,-
(ক) এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে;
(খ) ওই নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন;
(গ) পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থকে ১৮০ কার্য দিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে এবং তা সম্পন্ন করার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
(২) পরিষদের কার্যধারায় অংশগ্রহণের সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ পরিষদ সদস্য হিসেবে অভিহিত হবেন।
(৩) এই আদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পরিষদ ইহার অধিবেশন আহ্বান ও মুলতবি, সংবিধান সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাব উত্থাপনের পদ্ধতি, উক্ত প্রস্তাব বিবেচনা ও গ্রহণ এবং অন্য সকল বিষয়ে কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করবে।
(৪) জাতীয় সংসদ সচিবালয় পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।
শপথ এবং শপথ-পাঠ পরিচালনা
(১) নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ-সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে এই আদেশের তফসিল-১ অনুযায়ী পরিষদ-সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণ করবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে স্বাক্ষর দান করবেন।
(২) সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের ক্ষেত্রে যিনি শপথ-পাঠ পরিচালনা করবেন তিনিই এই আদেশের তফসিল-১ এ বিধৃত ফরমে পরিষদ-সদস্যদের শপথ-পাঠ পরিচালনা করবেন।
পরিষদের সভাপ্রধান
(১) পরিষদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে পরিষদ-সদস্যরা এর সভাপ্রধান ও উপ-সভাপ্রধান নির্বাচন করবেন; এবং উক্তরূপ নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত পরিষদের বয়োজ্যেষ্ঠ একজন সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যর সম্মতিক্রমে বৈঠকে সভাপ্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
(২) সভাপ্রধান ও উপ-সভাপ্রধান উভয়ের অনুপস্থিতিতে পরিষদের কার্যপ্রণালী অনুযায়ী কোনো পরিষদ-সদস্য সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, কোরাম, ভোটদান, ইত্যাদি
(১) সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে।
(২) পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ৬০ জন পরিষদ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে।
(৩) সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিষদের মোট সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে; এবং অন্যান্য বিষয়ে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে; তবে শর্ত থাকে যে, সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্রে সভাপ্রধান নির্ণায়ক ভোট প্রদান করবেন।
পরিষদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি
পরিষদের কোনো কার্যধারার বৈধতা এবং পরিষদ-সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি জাতীয় সংসদ ও সংসদ-সদস্যদের অনুরূপ হবে।
জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবিধান সংস্কার অবিলম্বে কার্যকর করা
(১) এই আদেশের ৭ অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ (১) (গ) অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর যেসব সংস্কার অবিলম্বে কার্যকর করা সম্ভব তা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে এবং এইক্ষেত্রে সরকার সকল যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
(২) এই অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ (১) এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুন্ন না করে, এই আদেশের ৭ অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ (১) (গ) অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation-PR) পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে এবং তার কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ (২) অনুসারে গঠিত উচ্চকক্ষের মেয়াদ এর শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদের শেষ দিবস পর্যন্ত হবে।
(৪) এই আদেশ জারির অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের সময় জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রয়োজন হবে না।
(৫) এই অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ (২) অনুসারে উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে যে-কোনো প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্দেশ্যে পরিষদ প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়ন করিতে পারবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
পরিষদ কর্তৃক সংবিধান সংস্কার চূড়ান্তকরণ ও প্রকাশ
(১) পরিষদ কর্তৃক গৃহীত সংবিধান সংস্কার চূড়ান্ত হবে এবং উক্তরূপ সংস্কার বিষয়ে অন্য কোনোভাবে অনুমোদন বা সম্মতির প্রয়োজন হবে না।
(২) পরিষদ কর্তৃক গৃহীত সংবিধান সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ পাঠ এবং উক্তরূপে সংস্কারকৃত সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ পাঠ অনতিবিলম্বে সরকার সরকারি গেজেটে প্রকাশ করবে।
সরকার কর্তৃক নির্দেশনা জারি
এই আদেশের বিধানাবলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
‘উচ্চকক্ষে পিআর, সংসদের প্রথম ১৮০ দিনে সংবিধান সংশোধন’, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত ‘হ্যাঁ’ হলে যা হবে
সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি থাকবে, সংসদের প্রথম ১৮০ দিনে সংবিধান সংশোধন এবং পরবর্তী ৩০ দিনে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে বলে বক্তব্যে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে একই সঙ্গে হবে গণভোট। গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত জানাতে পারবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে কী হবে সে বিষয়েও ব্যাখ্যা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিএনপির দলীয় কোন বক্তব্য এখনো জানা যায় নাই , তবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে জুলাই সনদ লঙ্ঘিত হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রধান উপদেষ্টা ভাষণের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নতুন ধারনা। ঐকমত্য কমিশনে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি।
এদিকে দুপুরে জাতীয় উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আদেশে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিধান গ্রহণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে, সনদের সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবণার ওপর গণভোট এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হবে। এই প্রতিনিধিরা একইসাথে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচনে পাওয়া ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত হবে।
নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবিতে অনড় জামায়াত, আসছে নতুন সিদ্ধান্ত

জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে— এই অবস্থান থেকে সরে আসেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এখনো এই সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া ভাষণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের কিছু কিছু বিষয়ে আরও ক্লারিফিকেশন দরকার। আমরা নিজেরা বসে পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
তাহের আরও মন্তব্য করেন, যদি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে এর গুরুত্ব অনেকটাই চাপা পড়ে যাবে।
এর আগে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, আমরা সকল বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি: জামায়াত

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের আয়োজন করা হবে বলে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ঘোষণায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণায় সংকটমুক্ত স্বচ্ছ নির্বাচনের আশা করেছিলাম, কিন্তু সেখানে সেই সংকটটা রয়েই গেলো।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং আদেশের ওপর নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা গণদাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলমান ও ঘোষিত আট দলীয় কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় মগবাজার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম প্রমুখ।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়া নিয়ে যা জানাল এনসিপি

জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দলীয় ফোরামে আলোচনা করে জানানো হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যার আগে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর সম্ভাবনা কম।
বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন।
প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালো এবি পার্টি

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও তাকে স্বাগত জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। এক বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আমরা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে মেনে নেয়ার পক্ষে।
আমাদের যার যা মত থাকুক না কেন সরকার বা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেহেতু সবদিক বিবেচনা করে একইদিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন, উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক ভোটের হিসেবে আসন নির্ধারণ এবং গণভোটে একমত ও ভিন্নমতকে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যালট তৈরিসহ র্চড়ান্ত কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা মনেকরি এটা এখনএকটি অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য সমাধান।
সার্বিক বিচারে এই ঘোষণাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম রাজনৈতিক দলগুলো যেহেতু পর্যাপ্ত যুক্তিতর্ক ও আলোচনা ইতোমধ্যে শেষ করেছেন তাই এখন সরকারের একটা সমাধানমূলক সিদ্ধান্ত দেয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সেটা মেনে নেয়া ছাড়া আর কোন পথ নেই।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন বিএনপি, জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক দল বিভক্তি পরিহার করে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আনন্দমুখর পরিবেশে নির্বাচন অংশগ্রহণ করবে এবং দেশকে একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পথে পরিচালনা করবে।
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে স্বাগত জানাল ১২ দলীয় জোট

জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার ভাষণকে স্বাগত জানিয়েছে ১২ দলীয় জোটের নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে বলে যে ঘোষণা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দিয়েছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ। দেশের সাধারণ জনগণ প্রধান উপদেষ্টার এ ঘোষণায় উৎফুল্ল হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে সংশয় দেখা দিয়েছিল তা কেটে গেছে।
বিবৃতিতে জোটের নেতারা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, দেশের সব রাজনৈতিক দল প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণার পর আর কোনো নতুন দাবি উত্থাপন না করে পুরোপুরি নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হবেন।’
তারা আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিন গণভোট করার সিদ্ধান্ত একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।’
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে স্বাগত জানাল ১২ দলীয় জোট
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে সালাহউদ্দিন আহমদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন যারা
১। মোস্তফা জালাল হায়দার, চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টি ও ১২ দলীয় জোট প্রধান।
২। শাহাদাত হোসেন সেলিম চেয়ারম্যান বাংলাদেশ এলডিপি ও মুখপাত্র ১২ দলীয় জোট
৩। সৈয়দ এহসানুল হুদা, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ জাতীয় দল ও সমন্বয়ক ১২ দলীয় জোট।
৪। ডক্টর গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম মহাসচিব জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
৫। প্রফেসর নুরুল আমিন বেপারি, চেয়ারম্যান বিকল্পধারা বাংলাদেশ
৬। লায়ন ফারুক রহমান,চেয়ারম্যান ন্যাশনাল লেবার পার্টি।
৭। শামসুদ্দিন পারভেজ, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি।
৮। মাওলানা আব্দুল রকিব, চেয়ারম্যান ইসলামী ঐক্য জোট।
৯। অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, মহাসচিব বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি।
১০. আমিনুল ইসলাম, চেয়ারম্যান ইউনাইটেড লিব্রাল পার্টি।
১১। এম এ মান্নান, সভাপতি নয়া গণতান্ত্রিক পার্টি।
১২। ফিরোজ মো. লিটন, চেয়ারম্যান প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি)।
বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনটি ‘হ্যাঁ’ ‘না’ গণভোট
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো গণভোট। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিষয়ের ওপর জনগণের সমর্থন আছে কিনা—তা যাচাইয়ের জন্য যে ভোট অনুষ্ঠিত হয় তাকে গণভোট বলে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ব্যালটে সিল দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনটি গণভোটের কথা জানা যায়। দুটি প্রশাসনিক গণভোট আর একটি সাংবিধানিক গণভোট। প্রথম প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে। লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান। এতে ফলাফল ৯৮.৮০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল। দ্বিতীয় প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোট। ফলাফল ৯৪.১৪ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল। আর তৃতীয়টি সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাবের বিষয়ে—যার ফলাফল ৮৪.৩৮ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল।আওয়ামী লীগ আমলে ২০১১ সালে সংবিধান থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল।