বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০১ শিক্ষকের বিবৃতি নিয়ে ইউএনসি পেমব্রোক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অফ ফিনান্স বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নকিবুর রহমান আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া পোস্ট হুবহু –
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা কোনো জন্মগত অধিকার নয়, এটা একটা সুযোগ, একটা সম্মানের বিষয়। আমি যুক্তরাষ্ট্রের এক নামি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিউরড অধ্যাপক। যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধানের প্রথম সংশোধনী মানুষকে মত প্রকাশের এমন স্বাধীনতা দিয়েছে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও practically নেই। আর টেনিউরড চাকরি, এটা তো প্রায় পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ চাকরিগুলোর মধ্যে এক নম্বর।
তবুও দেখেছি, টেনিউরড শিক্ষকও চাকরি হারিয়েছেন, শুধু একটা অসংবেদনশীল মন্তব্য, ভুল কাজ, বা মানুষের অনুভূতিকে অমান্য করার কারণে।
২০২০ সালে প্রিন্সটনের অধ্যাপক জোশুয়া ক্যাটস ক্যাম্পাসে জাতি-ইতিহাস নিয়ে চলা আলোচনার সমালোচনা করে একটা লেখা প্রকাশ করেন। শুরু হয় বিতর্ক। আর ২০২২ সালের ২৩ মে তাকে বোর্ড সরাসরি টেনিউর থেকে বরখাস্ত করে।
২০২৫ সালে টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির টেনিউরড অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর থমাস অল্টারকে বরখাস্ত করা হয়, কারণ তিনি এক প্যানেলে কিছু মন্তব্য করেছিলেন যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে সহিংসতাকে সমর্থন করে।
অস্টিন পি স্টেট ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষক ২০২৫ সালে চাকরি হারান শুধুমাত্র একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট রিশেয়ার করার জন্য, পোস্টটিকে বলা হয় “অসংবেদনশীল, অসম্মানজনক এবং হত্যাকে ন্যায্যতা দেওয়ার মত।”
অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয় তো একই বছর বেশ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তাকে সরাসরি চাকরি থেকে বের করে দেয়, কারণ তাদের পোস্ট “সহিংসতাকে সমর্থন বা হালকা করে দেখা” বলে অভিযোগ ওঠে।
এবার আসি আমাদের দেশের প্রসঙ্গে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০১ শিক্ষকের বিবৃতি, এটা আসলে জুলাই বিপ্লবের মুখে এক চপেটাঘাতের মতো। সত্যি বলতে, এটা শুধু ভুল নয়, অসংবেদনশীলও নয়, এটা অন্যায়ের পাশ দাঁড়ানোর মতো। পুরো বিশ্ব গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই গণহত্যা দেখেছে। বিচারও সবাই দেখেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা নিজে ফোনে হত্যার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। আর সেই হত্যাকাণ্ডে মারা যাওয়া ১৪০০+ মানুষের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই, যাদের পড়ান এই শিক্ষকরাই।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের অনেক শিক্ষক আছেন। অনেকে আবার ফেসবুকে হাসিনার পক্ষে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।
তাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান, অধ্যাপক মশিউর রহমান, অধ্যাপক আ. ক. ম. জামাল উদ্দিন, অধ্যাপক জিনাত হুদা, এদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত।
ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নীলিমা আক্তারের নামও তালিকায় আছে,স্বৈরাচারের সহযোগী হিসেবে তিনি চিহ্নিত। তাকেও সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে এমআইএস বিভাগের অধ্যাপক ড. কে. এম. সালাহ উদ্দিন ফেসবুকে লিখেছেন, “ওই ডো নট কেয়ার।” পুরো ব্যাপারটাকে তিনি “ক্যাঙ্গারু কোর্ট” বলে ব্যঙ্গ করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগেই ভিসি অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার লাভলু মোল্লা শিশির শেখ হাসিনার ছবি পোস্ট দিয়ে লিখেছিলেন, “আই ডো নট কেয়ার।” ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন সূর্য সেন হলের ছাত্রলীগ সভাপতিও।
আরও জানা গেছে, যেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে “১০০১ জন স্বাক্ষর করেছেন”, সেখানে আসলে মাত্র ৬৫৯ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে।
সত্যি বলতে কী, এসব শিক্ষক পরিষ্কারভাবেই সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।
তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আমি নির্বাচিত ডাকসু, জাকসু, রাকসু এবং চকসুর নেতাদের অনুরোধ করছি, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুদ্ধ করতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।