• ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তৎকালীন বামপন্থী নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা কি আসলেই যুদ্ধাপরাধী ?

Usbnews.
প্রকাশিত জুন ১৮, ২০১৩
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

১৯৮২ ও ১৯৮৪ সালে পরপর দু’বার তিনি ঐক্যবদ্ধ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।১৯৬৪ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ অভিযোগে এবং বামপন্থিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হন। শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ১৯৭৭ সালের ৮ অক্টোবর বেগম সানোয়ার জাহানকে বিয়ে করেন। বেগম সানোয়ার জাহান ইডেন কলেজ থেকে পড়াশুনা করেছেন। তিনিও শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার মত বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন ও ইডেন কলেজের ছাত্রী ইউনিয়নের জিএস ছিলেন।

১৯৭৫ সালে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি রাইফেলস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি রাইফেলস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৭৮ সালে ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এ রিসার্চ স্কলার হিসেবে যোগ দেন।

অধিকারী আব্দুল কাদের মোল্লা উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে ফরিদপুরের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে এমএসসিতে ভর্তি হন। তখন গণঅভ্যুত্থানের সংগ্রামী চেতনা মানুষের প্রাণে প্রাণে সঞ্চারিত হচ্ছে। প্রথমে ঢাকা হল ও পরে ডক্টর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা তাঁর আকর্ষণীয় চরিত্র দিয়ে আকৃষ্ট করলেন শিক্ষক-ছাত্র-কর্মচারীদের, হয়ে উঠলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয়মুখ। ১৯৭১ সাল। উত্তাল হয়ে উঠলো সমগ্র বাংলা, আব্দুল কাদের মোল্লা বসে থাকলেন না। ৭মার্চ এর পর থেকে ডক্টর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে তিনি বন্ধুদের সাথে প্রায় বসতেন, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিরা কীভাবে তাদের মুক্তির পথ উন্মুক্ত করবে তার উপায় খোঁজার চেষ্টা করতেন তারা । তিনি বুঝতে পারলেন বাঙালির এই পথ কণ্টকাকীর্ণ, মুক্তির জন্য ঝরাতে হবে রক্ত, দিতে হবে তাজা তাজা প্রাণ। ২৫ মার্চ কালো রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে গণহত্যার কয়েকদিন আগেই শিক্ষক ডঃ ইন্নাস আলীর নির্দেশে তিনি বাড়ি ফিরে গেলেন। শুরু হল মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের কারণে তিনি মাস্টার্স পরীক্ষা দিতে পারলেন না।

৭ মার্চের পর তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবার বাড়ি ফিরে যাবেন, সংগঠিত করবেন এলাকার যুবক বন্ধুদের, দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য তিনি যুদ্ধ করবেন। ফরিদপুরের বাড়ি ফিরে এলেন। প্রতি রাতে বের হতেন সহপাঠীদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। ইতোমধ্যে এলাকার যুবকেরা সংগঠিত হয়ে গেছে। শহীদ আব্দুল কাদের যোগ দিলেন মুক্তিবাহিনীতে। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জেসিও মফিজুর রহমান এসকল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদের ট্রেনিং শুরু করলেন। পহেলা মে পাক-হানাদার বাহিনী ফরিদপুরে প্রবেশ করলো। পহেলা মে হানাদার বাহিনী ফরিদপুরে ঢুকলে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ও তার সঙ্গীগণ আর প্রকাশ্যে যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে পারলেন না। শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা বাঙালির চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত ফরিদপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে গোপনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

১৯৭২ সালে যুদ্ধ বিধ্বস্ত, রক্তাক্ত দেশে আরো অনেকের মতো শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার শিক্ষাজীবনের ছেদ ঘটে। ১৯৭৪ সালে তিনি পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই ই আর (ইন্সিটিউট অব এডুকেশনাল রিসার্চ) বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৫ সালে তিনি শিক্ষা প্রশাসনের ডিপ্লোমায় অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ১৯৭৭ সালে তিনি শিক্ষা প্রশাসনে মাস্টার্সেও প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন ।

পুনরায় কর্মজীবন
১৯৭৫ সালে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি রাইফেলস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি রাইফেলস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৭৮ সালে ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এ রিসার্চ স্কলার হিসেবে যোগ দেন।