তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল এ রায়ের মাধ্যমে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারে অধীনে। চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে।
বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছেন দেশের সব্বোর্চ আদালত।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করেন।
বেঞ্চের অপর ৬ বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
এ রায়ের মাধ্যমে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারে অধীনে। চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে।
টানা ১০ দিন শুনানি শেষে দেশের সর্ব্বোচ আদালত ঐতিহাসিক এ মামলার রায়ের দিন ঠিক করেন।
গত ২, ৪, ৫, ৬, ১১ নভেম্বর ও ২৯, ২৮, ২৩, ২২ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের টানা শুনানি হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহামদ শিশির মনির। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
গত ২১ অক্টোবর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি শুরু হয়।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ এ রিট খারিজ করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ অন্যরা ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দেন।
এ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে আপিল করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। এই আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।
ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।
৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্য চারজন হলেন- তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।
আপিল বিভাগের ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ১৬ অক্টোবর একটি আবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্ম হয়েছিল এক বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে।
এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে একটি অনানুষ্ঠানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হলেও, ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ পরিস্থিতি পাল্টে দেয়।
১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে কোনোভাবেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, এই অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো তীব্র আন্দোলন শুরু করে।
আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়া হয়।
যেখানে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ শেষে একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করবে, যার প্রধান কাজ হবে পরবর্তী তিন মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করা। এই ব্যবস্থার অধীনে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এবং এর ফলে উভয় নির্বাচনেই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে বাতিল: বাংলাদেশে ২০০৬ সালের পর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কাঠামো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তুমুল বিরোধ দেখা দেয়।
২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং একটি সেনাসমর্থিত বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়, যা পরবর্তীতে ১/১১ সরকার নামে পরিচিত হয়। এই সরকার দীর্ঘ দুই বছর ক্ষমতায় থেকে নিজেদের সাংবিধানিক এখতিয়ারের বাইরেও কাজ করে। এমন প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।
ওই রায়ে বলা হয়েছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অর্থাৎ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন অগণতান্ত্রিক এবং তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এরপর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার পর, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো হয়। এই নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। বলা যায় প্রায় সাজানো নির্বাচন ছিল।
তত্ত্বাবধায়ক পুনর্বহাল রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জয়নুল আবেদীন
‘এটা শুধু বিএনপির জয় নয়, মনে হচ্ছে ঈদের দিন’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় ঘোষণার পর বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ‘আজকের রায়ের ফলে আবার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরে এসেছে। এর মানে এই নয় যে শুধু বিএনপি খুশি, আজকে পুরো জাতির জন্য এটা ঈদের দিনের মতো আনন্দের দিন। যে দেশের মানুষ এতদিন ভোট দিতে পারেনি, তারা এখন ভোট দিতে পারবে।’
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের ৫৮(১) ও ৫৮(২) অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফের চালু হয়েছে বলে আদালতের রায়ের মাধ্যমে।
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানান, আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে এই রায় প্রসপেক্টিভ (ভবিষ্যৎমুখী)। বিএনপির পক্ষ থেকে তারা আগেই আবেদন করেছিলেন যে, আপিল ও রিভিউ নিষ্পত্তির সময় আদালত যেন রায়টি প্রসপেক্টিভ বলে ঘোষণা করেন। সেই আর্গুমেন্ট আদালত গ্রহণ করেছে এবং জাজমেন্টে উল্লেখ করেছে যে, আইনজীবীদের দেওয়া যাবতীয় যুক্তি তারা বিশ্লেষণে নিয়েছেন।
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আদালত বলেছেন, আর্টিকেল ৫৮(১) এবং ৫৮(২) আবার পুনর্বহাল হলো। এর অর্থই হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবার ফিরে এলো। এটা একটি প্রিলিমিনারি জাজমেন্ট, ইউনানিমাসলি দিয়েছেন। পরবর্তীতে বিস্তারিত জাজমেন্টে আরও কিছু ডিটেইলস থাকতে পারে।’
রায়ের রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল। কিন্তু উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ব্যবস্থা বাতিল করে দেশের মানুষকে, দেশকে ক্ষতি করা হয়েছিল। আজকের রায়ের মাধ্যমে সেটাই প্রমাণিত হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা শুধু পালিয়ে যাননি, তিনি যে ব্যবস্থা (তত্ত্বাবধায়ক বাতিল) প্রবর্তন করেছিলেন, সেটাই আজকে আইনের কাছে পরাজিত হলো।’
বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন এই রায়কে জাতির জন্য ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটা শুধু বিএনপির জয় নয়, এটা গণতন্ত্রের জয়, ভোটাধিকারের জয়, পুরো জাতির জয়।”
৪১ বছর আগে জামায়াতের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়কের প্রথম প্রস্তাব দেওয়া হয় : শিশির মনির
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে এই ব্যবস্থা চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিনিয়র শিশির মনির।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) আপিল বিভাগের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, আজ থেকে ৪১ বছর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এর মাঝে অনেক কিছু হয়ে গেছে, অবশেষে জাতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। কেয়ারটেকার সরকার একটা পিলার, যা সরিয়ে ফেললে অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, রায়ে বলা হয়েছে অতীতের যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা কলঙ্কিত ছিল। এই রায় ঘোষণার ভিত্তিতে তত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হলো। সংসদ ভেঙে যাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই সরকার গঠিত হবে। এখন যেহেতু সংসদ নেই, সেহেতু এই সরকার গঠন এখন কার্যকর হবে না। এটা মূলত আগামীতে কার্যকর হবে, এখন না। অর্থাৎ চতুর্দশ সংসদ নির্বাচনে এই সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
‘৪১ বছর আগে জামায়াতের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়কের প্রথম প্রস্তাব দেওয়া হয়’
রাজসাক্ষী আবজালুলের জেরা ঘিরে ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনের ক্ষেত্রে জয়-পরাজয় গ্রহণের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আমরা যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছিলাম, আমরা ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের জন্য চাইনি। অবশেষে আমরা সেখানে ফিরে এলাম। আমাদের পরবর্তী সবার দায়িত্ব হবে, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন যাতে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলমন্ত্র হয়।
শিশির মনির বলেন, জুলাই চার্টারে চারটি অপশন দেওয়া হয়েছে। এই চারটি অপশন যদি গণভোটে জয়ী হয়, তাহলে নতুন পার্লামেন্টে সংবিধান সংস্কারের সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফরম্যাটে পরিবর্তন আসতে পারে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থিওরির প্রবর্তক গোলাম আযম: এহসানুল মাহবুব
ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করায় স্বাগত জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থিওরির প্রবর্তন করেছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম।’
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বিগত দিনের মতো পাতানো নির্বাচন করতে চাইলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করবে জামায়াত।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিহীন বিগত নির্বাচনগুলো কলঙ্কিত নির্বাচন হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়েছে। আজকের রায়ে গণতন্ত্র তার ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের ফলে শেখ হাসিনা স্বৈরাচার হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন কীভাবে হবে, সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে: এনসিপি
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়কে ‘যুগান্তকারী’ অভিহিত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে দলটির দাবি, রায়ের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি ত্রয়োদশ সংশোধনীর মতো হবে, নাকি জুলাই সনদে বর্ণিত কাঠামো অনুযায়ী গঠিত হবে?
এনসিপি বলছে, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না, অথচ জুলাই সনদের ব্যত্যয়ের সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন এসব মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে হাসিনা সরকার ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে একতরফা নির্বাচন আয়োজন করেছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
তার ভাষ্য, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ের মাধ্যমে হাসিনা সরকারের সময়ে দেওয়া কলঙ্কজনক রায় থেকে জাতি ও বিচার বিভাগ মুক্তি পেয়েছে।”
এনসিপি নেতা আখতার হোসেন বলেন, রায় ঘোষণার পর এখন মূল প্রশ্ন— তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে কোন কাঠামোতে? ত্রয়োদশ সংশোধনীর মডেল, নাকি জুলাই সনদের মডেল?
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করছে না। যদিও অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, জুলাই সনদ অনুযায়ীই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হবে।
কিন্তু বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল ত্রয়োদশ সংশোধনীতে ফিরে যাওয়ার দাবি তুলছে। আখতার হোসেন মনে করেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর মডেল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংকট তৈরি করেছে এবং এক–এগারোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।
তিনি বলেন, “শুধু বিচার বিভাগের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে জুলাই সনদে যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে, সেটিই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি। এ ক্ষেত্রে বিচ্যুতির সুযোগ নেই।”