মঙ্গলবার কলোরাডোর সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ ৪-৩ ভোটের ব্যবধানে ট্রাম্পকে অযোগ্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। অর্থাৎ তাকে অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে আছেন ৪ জন বিচারক। বিপক্ষে আছেন ৩ জন। একজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ধারা ৩-এর এটাই প্রথম ব্যবহার। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অন্য রাজ্যগুলোতে এমনতরো মামলা আছে। তবে এখন পর্যন্ত তাকে ওইসব রাজ্যে নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি। কলোরাডো সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার যে আদেশ দিয়েছে তা এ রাজ্যের বাইরে প্রযোজ্য নয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ আছে আগামী মাস পর্যন্ত।
এর আগে কলোরাডোর একজন বিচারক এ বিষয়ে যে রায় দিয়েছিলেন মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রায় তার উল্টো। আগে রায়ে বলা হয়েছিল, সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগ প্রযোজ্য নয়। কারণ, এই ধারায় তাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। একই নিম্ন আদালতের বিচারক দেখতে পেয়েছিলেন যে, ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার ঘটনায় জড়িত ট্রাম্প। ওইদিন আইনপ্রণেতারা নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্বাচনে বিজয়কে স্বীকৃতি দিচ্ছিলেন। এসময় কংগ্রেসে দাঙ্গা শুরু করে ট্রাম্পের সমর্থকরা।
রায়ে আরও বলা হয়, ‘আমরা একইভাবে আইন প্রয়োগের বিষয়ে আমাদের গৌরবপূর্ণ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। কোনো ধরনের ভয় বা অনুগ্রহ ছাড়াই আইন অনুসারে আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নেই তার প্রতি জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত আমরা প্রভাবিত নই।’
এই রায়ে কলোরাডোর একটি জজ আদালতের রায়ের বিপরীত। নিম্ন আদালত সে সময় তার রায়ে বলেছিল— মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর ধারা-৩ কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ সেই ধারায় কারা অপরাধী বলে গণ্য হবেন তাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেই আদালত, এ বিষয়ে প্রমাণ পেয়েছিল যে— ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় ট্রাম্প জড়িত ছিলেন।
কলোরাডো সুপ্রিমকোর্টের এই রায়ের পর এক বিবৃতিতে ট্রাম্পে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার মুখপাত্র স্টিভেন শেউং এই রায়কে ‘সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বিচারকদের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যেসব বিচারক এই রায়ের সঙ্গে যুক্ত তারা সবাই ডেমোক্রেটিক গভর্নরদের আমলে নিযুক্ত।
শেউং বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রভাবশালী নেতৃত্বের বিপরীতে ক্রমবর্ধমান হারে ভোটাররা তাকে সমর্থন জানানোয় ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন। তারা নিজেরাই বাইডেনের ব্যর্থ শাসনামলের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছে এবং এখন আমেরিকান ভোটাররা যাতে আগামী নভেম্বরে তাকে (বাইডেন) অফিস থেকে বের করে না দেয় তা ঠেকাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।’
এ সময় শেউং জানান, ট্রাম্পের আইনজীবীরা দ্রুতই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।