• ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

রোজ গার্ডেন কেনা : রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকা ক্ষতি, দুদকের অনুসন্ধান শুরু

Usbnews.
প্রকাশিত নভেম্বর ২০, ২০২৫
রোজ গার্ডেন কেনা : রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকা ক্ষতি, দুদকের অনুসন্ধান শুরু
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের ‘জন্মস্থান’ খ্যাত পুরান ঢাকার হৃষিকেশ দাস রোডের রোজ গার্ডেন কেনার নামে রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধানে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই কমিশন ব্যবস্থা নেবে।’

দুদক জানায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ‘রোজ গার্ডেন’ বাড়িটি কেনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে।

২০১৮ সালে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত ‘রোজ গার্ডেন’ ভবনটি কিনে নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এজন্য ব্যয় হয় ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকা।

ওই বছরের ৮ আগাস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগের জন্মস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইতিহাসের স্বাক্ষী রোজ গার্ডেন ভবনটি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সরকার ওই ব্যক্তিমালিকানাধীন পুরাকীর্তিটি কিনে নেয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হৃষিকেশ দাস নামে এক ব্যবসায়ী ১৯৩১ সালে প্রায় ২২ বিঘা জমির ওপর ওই বাগানবাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়ির চারপাশ তিনি সাজিয়ে তোলেন বিভিন্ন দেশ থেকে আনা দুর্লভ প্রজাতির গোলাপের বাগানে। তখন থেকে এর নাম হয় ‘রোজ গার্ডেন’। ১৯৩৬ সালে ঢাকার বই ব্যবসায়ী খান বাহাদুর মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছে ওই সম্পত্তি বিক্রি করে দেন হৃষিকেশ দাস। কাজী আবদুর রশীদ সেখানে প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরি গড়ে তোলেন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এই রোজ গার্ডেনেই গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। ১৯৫৫ সালে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে এ দলের নতুন নাম হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’।

২০১৮ ব্যক্তি মালিকাধীন পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত ওই বাড়ি কিনে নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এতে সরকারের ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ দুই হাজার ৯০০ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা জানায় সরকার।

 

  • সংবাদ সহযোগিতায় -দৈনিক বাংলা