• ২রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৪ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

এশিয়ার সবচেয়ে মানহীন মুদ্রা এখন ভারতীয় রুপি : ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

Usbnews.
প্রকাশিত নভেম্বর ২৯, ২০২৫
এশিয়ার সবচেয়ে মানহীন মুদ্রা এখন ভারতীয় রুপি : ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

Bundles of 500 and 100 rupee banknotes at a currency exchange store in New Delhi, India, on Monday, Feb. 3, 2025. The Indian rupee is expected to weaken further against the dollar, after hitting a new low Monday, as traders bet on interest-rate cuts amid signs the central bank is loosening its grip on the currency under its new chief. Photographer: Prakash Singh/Bloomberg

নিউজটি শেয়ার করুনঃ

চলতি বছর পুরো এশিয়ায় সবচেয়ে মানহীন মুদ্রা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের রুপি। একইসঙ্গে ২০২২ সালের পর রুপির মূল্য রেকর্ড হারে কমেছে। চলতি বছর রুপির অবনতির কারণ হিসেবে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর আমেরিকার উচ্চতর শুল্ক এবং দেশটির শেয়ারবাজার থেকে ব্যাপক হারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বের হয়ে যাওয়াকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে ব্লুমবার্গের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রুপির মান স্থিতিশীল রাখতে গত জুলাই থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা বিক্রি করে দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। মধ্য অক্টোবর থেকে নতুন করে অবনতি ঠেকাতে একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

কিন্তু ২১ নভেম্বর ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মূল্য ৮৯.৪৯ দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে রুপির মান পতন ঠেকাতে ভারতীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া চাচ্ছে আমেরিকার সঙ্গে বিলম্বিত বাণিজ্য আলোচনার মধ্যে তার রিজার্ভ ধরে রাখতে।

ভারতীয় মুদ্রা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। আমেরিকা ও ভারতের বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতি এবং দিল্লির ওপর শুল্কহার কমানোর ওপরই রুপির মান বাড়তে পারে। কিন্তু এটি যদি না ঘটে, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রুপির মান ধরে রাখতে বাধ্য হতে হবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথম রুপির মূল্য পড়ে গিয়েছিল। তবে মার্চ ও এপ্রিলে এটির মূল্য খানিকটা বাড়ে। মার্চে ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য ছিল ৮৩.৭৫। এ সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাজি রেখেছিলেন, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সহজেই বাণিজ্যচুক্তি হবে। ভারতীয় পণ্যের ওপরও শুল্কহার কম হওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছিল। চীনের বাইরে শিল্প-কারখানার কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে অনেক কোম্পানিই বিবেচনা করেছিল।

কিন্তু জুলাইয়ে এ অবস্থা বদলে যায়। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাশিয়া থেকে জ্বালানি ও অস্ত্র কেনার জন্য ভারতীয় পণ্যের ওপর তিনি উচ্চ হারে শুল্কারোপের চিন্তা করছেন। এটি এশিয়ার দেশগুলোর বিপরীতে ভারতের প্রাধান্য পাওয়ার আশায় পানি ঢেলে দেয়। আগস্টে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেন ট্রাম্প। এর ফলে রুপির মান প্রতি ডলারে ৮৮ ছাড়িয়ে যায়।

সেপ্টেম্বরে আরেক দফা রুপির মূল্য কমে, যখন ট্রাম্প ইউরোপীয়দের একই ধরনের শুল্কারোপের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধন তুলে নিতে থাকেন। ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে ১৬.৩ বিলিয়ন ডলার মূলধন তুলে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।