রাষ্ট্র কিছুটা মানবিক হলে অন্তত কুকুরছানা হত্যা নিয়ে মিডিয়ার সিরিজ আকারে নিউজ হয় কিন্তু একসময় মানুষের লাশের ও কোন পাত্তা ছিল না।
পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুরছানাকে পুকুরে ফেলে হত্যা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সিরিজ আকারে একটার পর একটা নিউজ দেখে কিছু কথা বলতে হলো। বিষয়টি হলো – ইউএনওর বাসভবনের পাশে একটি কুকুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে টম আটটি বাচ্চা দেয়। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে তাকে ছানাগুলো খুঁজে ব্যতিব্যস্ত দেখা যায়।
পরে জানা যায়, রবিবার রাতের কোনো এক সময় ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী বাচ্চাগুলোকে বস্তায় ভরে উপজেলা পরিষদের পুকুরে ফেলে দেন। সোমবার সকালে কুকুরছানাগুলোর মৃতদেহ ভেসে ওঠে এবং পরে সেগুলো মাটি চাপা দেওয়া হয়।
প্রাণী হত্যার নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে নিন্দা জানাচ্ছি অতীতের ভন্ড প্রতারক তেলবাজ মিডিয়ার হুতুম পেঁচার খনিতে লোকানো অতীতের মিডিয়া দালাদের।
ইতিহাস থেকে বললে তো বলতে হয়, স্বাধীন বাংলাদেশে ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত একটি দলের নেতাদের নিজেদের দেয়া তথ্যে ৩৫/৪০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। সিরিজ আকারে নিউজ ছিল না।
৭৫ থেকে ৯০ পর্যন্ত বার বার কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। কখনো অভ্যুত্থান , কখনো রাজনৌতিক দমন নিপড়নে হত্যা করা হয়। সিরিজ আকারে নিউজ ছিল না।
১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে হত্যার বিষয়ে মিডিয়াতে আসে নাই। সিরিজ আকারে নিউজ ছিল না।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত খুন লাশের সংবাদ ছিল ভেতরের পাতায় ২ ইঞ্চি কলামে দায়সারা কোনমতে কিছু শব্দের নিউজ।
শতাধিক মানুষকে হত্যার পর ও নিউজ মিডিয়ায় সিরিজ আকারে কেউ প্রতিবেদন করে নাই। উলটো ব্যক্তি পূঁজা ও ব্যক্তি সন্তুষ্ঠি মুখ্য ছিল। মিডিয়ার কর্ণধার থেকে শুরু করে অল্প শিক্ষিত সংবাদ কর্মীদের রোজকার কাজ ছিল তৈলবাজি।
কুকুরের লাশের মূল্যায়ন বেশি বলার কারণ তো মোটামোটি পরিষ্কার। তার চেয়ে বড় কথা হলো আইনগত ও আমলাতান্ত্রিক জঠিলতা এবং রাজনৌতিক জমিদারদের কারণে মানুষ হত্যার পর বিচারের বাণী নীরবে কান্না করে শতকরা ৯০ ভাগ। থানা বলবে অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আবার সুবিধানুযায়ী অভিযোগ লাগে না। তখন পুলিশের পক্ষের লোকের মুখেই বলেন, গোপন সূত্রে আগাম সূত্রে , গায়েবি সূত্রে কথা কি সূত্র। কিন্তু কুকুরের বাচ্চার হত্যার পর আমলাতান্ত্রিক জঠিলতা ছাড়াই তুমুল হট্টগোল। কুকুর বিড়াল মারলে আইন আছে কিন্ত সপরিবারে মানুষ মারলে আইন চেয়ে চেয়ে দেখে।মানুষ হত্যা করেও তো মানুষ বুক ফুলে ঘুরে বেড়ায়।যদি পথ কুকুর কামড় দেয়, তাহলে এর দায় ভার কে নিবে।
আটটি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। বিচার ও হতে পারে। আইনগত যাই হবার সেটাই হোক আমরা চাই। কিন্তু কথা হলো মানব সন্তানদের হত্যার পর কি আইন ও রাষ্ট্র এবং মিডিয়া এতো রকেট গতিতে ছিল ? সব আইনকানুন যেন রকেট গতিতে হচ্ছে। অথচ মানব সন্তানের ক্ষেত্রে একটা ফাইল উপর তলা থেকে নিচ তলায় যেতে লাগে মাসের পর মাস।