ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বর্বর হামলার প্রতিবাদে ইসরাইলগামী জাহাজে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের হামলা বন্ধে সেখানে ১০ দেশকে নিয়ে একটি নিরাপত্তা ফোর্স তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হুথিরা হুমকি দিয়েছে, যতক্ষণ গাজায় হামলা অব্যাহত থাকবে ততক্ষণ লোহিত সাগরে তাদের হামলাও অব্যাহত থাকবে। হুথির সিনিয়র নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) গতকাল লিখেছেন, ‘যদি পুরো বিশ্বকেও আমেরিকা একত্রিত করতে সমর্থ হয়, আমাদের সামরিক অভিযান বন্ধ হবে না। এর মূল্য যাই হোক; সেটি বিষয় নয়। হুথিরা হামলা তখনই থামাবে যখন গাজায় ইসরাইলের অপরাধ বন্ধ হবে এবং অবরুদ্ধ উপত্যকার মানুষের কাছে খাদ্য, ওষুধ এবং জ্বালানি পৌঁছাবে।’
এদিকে হুতিদের প্রতিবাদী পদক্ষেপে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এহেন পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় ১০ দেশের জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হুতিদের হামলা ঠেকাতে এসব দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা মোকাবিলা করার জন্য গত সোমবার ১০ দেশের জোট ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘বহুজাতিক নিরাপত্তা উদ্যোগে’ যোগদানকারী দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেন, ফ্রান্স, বাহরাইন এবং ইতালিও রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যেসব দেশ নৌচলাচলের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিকে সমুন্নত রাখতে চায় তাদের অবশ্যই এই অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একত্রিত হতে হবে।’
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে ট্যাংকার, মালবাহী জাহাজসহ অন্যান্য জাহাজের ওপর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এ লোহিত সাগর রুট দিয়েই হয়ে থাকে। আর হুতিদের হামলা এ ট্রানজিট রুটকে বাধাগ্রস্ত করছে। লয়েড অস্টিন বলেছেন, ‘সকল দেশের জন্য ন্যাভিগেশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে এই নিরাপত্তা জোট।’ এই জোটে যোগ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বাহরাইন, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সিসিলিস এবং স্পেন রয়েছে বলে অস্টিন জানিয়েছেন।
এদিকে লোহিত সাগরে ইয়েমেনভিত্তিক হুতিদের মোকাবেলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান-এ আরব দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত যে আন্তর্জাতিক কোয়ালিশনের ঘোষণা দিয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি দেশ তথা বাহরাইনের নাম আছে। সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, মিসরের মতো মার্কিন মিত্রদের অনুপস্থিতি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এসব দেশ এ কোয়ালিশনে যোগ দেবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এসব দেশের অংশগ্রহণ করা বা না করা নিয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে গত সোমবার আরো দুটি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে বিদ্রোহীগোষ্ঠী হুতি। লোহিত সাগরে পণ্যবাহী ওই দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ড্রোন হামলা চালায়। হুতির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া হামলার শিকার জাহাজগুলোকে এমএসসি ক্লারা এবং নরওয়েজিয়ান মালিকানাধীন সোয়ান আটলান্টিক হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, জাহাজ দুটির ত্রুুরা তাদের কলে সাড়া দিতে ব্যর্থ হওয়ার পরে আক্রমণগুলো চালানো হয়। সোয়ান আটলান্টিকের মালিক বলেছে, জাহাজটিকে একটি অজ্ঞাত বস্তু দিয়ে হামলা করা হয়েছে তবে ক্রুদের কেউ আহত হয়নি। আর লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুসারে, হামলার শিকার অন্য জাহাজ এমএসসি ক্লারা পানামার পতাকাবাহী জাহাজ। জাহাজটিতে হামলার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অসংখ্য জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তারা বলেছে, গাজায় ইসরাইলের সামরিক আক্রমণের প্রতিবাদে ইসরাইলের সাথে সম্পর্কযুক্ত জাহাজগুলোকে লোহিত সাগরে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে তারা। সূত্র : রয়টার্স ও এএফপি।