মনে পড়ে যখন ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামে সংগঠনটিকে রিসার্চ উইং হিসেবে রেখে ২০২০ সালের ২ মে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে আমার বাংলাদেশ পার্টি (সংক্ষেপে এবি পার্টি) বাংলাদেশের একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। দলটি ২ মে ২০২০ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে অধিকার ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে। এই দলটি নিয়ে মিডিয়ায় চিবিয়ে চিবিয়ে বয়ান দেয়া টকশো জ্ঞানীদের কাছে যেন অন্য গ্রহের বিশেষ কিছু নাজিল হয়েছে এমন। তাদের সব কথার মাঝে এই ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’ নামে সংগঠনটিকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করা ছাড়া আর যেন কোন এজেন্ডা নেই।
এখন আবার মেজর আক্তার কে নিয়ে শুরু সেই পুরোনো কু তর্ক। কু – তর্ক বলার পেছনে অনেক কারন আছে। সকল দল থেকে দল বদল হলে চুপচাপ। এমনকি বিশেষ কিছু চিহ্নিত দল বা মতের লোকেরা দলবদল করে দলের জন্ম দিলেও টকশোতে কুতর্ক হয় না। শুধু মাত্র একটি মতের হলেই জোট বদ্ধ কু তর্ক শুরু।
বাংলাদেশের ৬০ টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে বর্তমানে মোট নিবন্ধিত দল সংখ্যা ৫৬ টি। বাতিল বা সাময়িক স্থগিত দলগুলো হলো -বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ,প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল , ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন , বাংলাদেশ ফ্রিডম পার্টি।
১/২ টি নতুন দল ছাড়া সকল দলের জন্ম হয়েছে ভিন্ন রাজনৌতিক দলের নেতা কর্মীদের দিয়ে।বেশি রভাগ পাদটীকা ও তথ্যসূত্র উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন থেকে নেয়া।
তাহলে শুধু মাত্র বিশেষ একটি দোলে কেউ যোগদান করলেই কেন রাজনৌতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয় ? মিডিয়া কেন বিশেষ ঐ দলে কেউ যোগ দিলেই চিৎকার শুরু করে ?
মোটাদাগে কয়েকটি দলের নাম না বললেই নয়।
যেমন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (নিবন্ধন স্থগিত) দলটির জন্ম কোন মতের এবং কোন দলের লোকদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল ? এমন প্রশ্ন কেউ শুনেছেন কি না জানি না।
ঠিক তেমনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি ) সম্পূর্ণ ভাবেই অন্যদলের লোকদের দিয়েই যাত্রা শুরু করে। এখনো যারা দলটির স্থায়ী কমিটিতে আছেন উনারা ২/৪ জন ছাড়া সবাই বাম , আওয়ামীলীগ, জাসদ অথবা অন্য দল থেকে যোগদান করেন।
জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। দলের মধ্যে একই কায়দায় ২/৪ জন ছাড়া সবাই বাম , আওয়ামীলীগ, জাসদ অথবা অন্য দল থেকে যোগদান করেন। জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল, যা ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তার সামরিক শাসনকে বেসামরিক রূপ দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দলটির জন্মলগ্নে জাসদ , আওয়ামীলীগ , বিএনপির বহু নেতার কর্মী যোগদান করেন। দলটির বর্তমান শীর্ষ পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতা জাসদ , বামপন্থি , আওয়মীলীগ ও বিএনপি থেকে দলবদল করে আসেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি ) ১৯৮০ সালে মূল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বিভক্তির দ্বারা গঠিত হয়েছিল। এর সভাপতি দলের প্রধান নেতা আ.স.ম. আব্দুর রব ছাত্রলীগ নেতা এবং অন্যরা বাম , আওয়ামীলীগ থেকে দলবদল করে এসে যোগ দেন।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)নামের দলটি জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বে ১৯ জুলাই ২০০৭ সালে এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
গণফোরাম বাংলাদেশের একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল। এটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল। যদিওদলটির বাতি নিভু নিভু। কিন্তু এই দলের ও ২/৪ জন ছাড়া সবাই বাম , আওয়ামীলীগ, জাসদ অথবা অন্য দল থেকে যোগদান করেন।
জাতীয় গণ ফ্রন্ট বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল। জেজিএফ ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বিচ্ছেদ লাভ করে।
তৃণমূল বাংলাদেশ জাতীয় দল, যা সাধারণত তৃণমূল বিএনপি নামে সর্বাধিক পরিচিত, বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। এটি ২০১৫ সালে সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটি হুদা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত চতুর্থ এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) দ্বারা নিবন্ধিত তাঁর দ্বিতীয় দল। কিন্তু এই দলের নেতা কিন্তু বিএনপির মন্ত্রী ছিলেন।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা হলো বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। ১৯৮০ সালে শফিউল আলম প্রধান দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পেলেও ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এর নিবন্ধন বাতিল করে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা জন্মদাতা আওয়ামীলীগের ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা ছিলেন।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। মশিউর রহমানের (যাদু মিয়া) নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ভাসানী) একটি বিচ্ছিন্ন দল থেকে দলটির উৎপত্তি হয়। ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে যাদু মিয়ার নেতৃত্বে ন্যাপের একটি বড়ো অংস বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে যোগদান করে।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি হচ্ছে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। এই দলটি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বিভক্ত হয়ে গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ২০০৪ সালের পরে দীর্ঘকাল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নামটি ব্যবহার করত।১৪ জুন, ২০০৪ সালে এই গ্রুপটি ‘বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি’ থেকে বেরিয়ে আসে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (সংক্ষেপে জাসদ) বর্তমান হাসানুল হক ইনুর দল। ১৯৮০ সালে বিভিন্ন বিতর্ককে কেন্দ্র করে প্রথম জাসদ ভাঙনের কবলে পড়ে এবং জাসদ থেকে বেরিয়ে একদল নেতা বাসদ গড়ে তোলে। ১৯৮৪ সালে আরেক দফা ভাঙ্গন হয়। ১৯৮৬ সালে কাজী আরেফ আহমেদ ও হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন দলটি জাসদ (ইনু) হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৯৯৭ সালে জাসদ (রব), জাসদ (ইনু) এবং বাসদ (মাহাবুব) এর একাংশ মঈন উদ্দিন খান বাদলের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়, আ স ম রব সভাপতি এবং হাসানুল হক ইনু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে আ স ম রবের নেতৃত্বে কতিপয় নেতা জেএসডি নামে জাসদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দলটির প্রায় সবাই বামপন্থি দল , আওয়ামীলীগ , জাতীয় পার্টি থেকে দলবদল করে আসেন।
বাংলাদেশ লেবার পার্টি (সংক্ষেপে লেবার পার্টি) রাজনৈতিক দল। দলটি ১৯৭৪ সালের ১৭ই আগস্ট মাওলানা মতিনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। দলটির শুরুতে ভিন্ন মতের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৯৭৭ সালের ২২ অক্টোবর মাওলানা আবদুল মতীন ও মাওলানা গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে পুর্নজীবন ফিরে পায়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ৭ মে ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠিত হলে- মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ন্যাপ, শাহ আজিজুর রহমানের মুসলীম লীগ, বিচারপতি সাত্তারের জাগদল, মাওলানা মতীনের লেবার পার্টি, কাজী জাফরের ইউপিপি ও তফসিলি জাতি ফেডারেশন জোটের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) বাংলাদেশে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এর চিন্তাধারায় পরিচালিত একটি রাজনৈতিক দল। দলটি বাংলাদেশে বামপন্থীদের জোটবদ্ধ সংগঠন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সাথে একত্রে কাজ করে থাকে।
নাগরিক ঐক্য বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলটি ২০১২ সালের ১ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৬ সালে জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি। ১৯৮০ সালে তিনি বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ গঠন করেন।
তৃণমূল বাংলাদেশ জাতীয় দল, যা সাধারণত তৃণমূল বিএনপি নামে সর্বাধিক পরিচিত, বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। এটি ২০১৫ সালে সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটি হুদা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত চতুর্থ এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) দ্বারা নিবন্ধিত তাঁর দ্বিতীয় দল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি) ছাড়ার পর হুদা প্রথমে বিএনএফ প্রতিষ্ঠা করেন; তবে পরবর্তীতে তাকেই বিএনএফ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তৃণমূল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল।নাজমুল হুদা ৬ জুন ২০১২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে পদত্যাগ করার পর সেই বছরের ১০ই আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন লাভ করে।
জাতীয় গণ ফ্রন্ট বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল। জেজিএফ ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বিচ্ছেদ লাভ করে। জেজেএফ বর্তমানে টিপু বিশ্বাসের নেতৃত্বে আছে। ২০০৭ সালের নভেম্বরে জেজিএফ গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা প্ল্যাটফর্ম গঠনে ১০ টি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সাথে যোগ দান করেছিল।
জাতীয় গণ ফ্রন্ট বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল। জেজিএফ ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে বিচ্ছেদ লাভ করে। জেজেএফ বর্তমানে টিপু বিশ্বাসের নেতৃত্বে আছে। ২০০৭ সালের নভেম্বরে জেজিএফ গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা প্ল্যাটফর্ম গঠনে ১০ টি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সাথে যোগ দান করেছিল।
শিবদাস ঘোষ হলেন ভারতের মার্কসবাদী । তিনি ভারতের সাম্যবাদী দল সোশ্যালিস্ট ইউনিটি সেন্টার অফ ইন্ডিয়া (এসইউসিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা-সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (সংক্ষেপে বাসদ) ২০১৩ সালে দলটিতে শিবদাস ঘোষকে আন্তর্জাতিক সাম্যবাদী আন্দোলনের অথরিটি হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ার কারণে কিছু নেতা দল থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) গঠন করেন।ভারতের শিবদাস ঘোষকে কমিউনিস্ট আন্দোলনের আন্তর্জাতিক অথরিটি হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ার কারণে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে দুইজন কেন্দ্রীয় নেতা বের হয়ে নতুন দল বাসদ (মার্কসবাদী) গঠন করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দলটির আরেক দফা ভাঙন ঘটে।
বিকল্পধারা বাংলাদেশ হচ্ছে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল যেটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিএনপি সাংসদ ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২০০৪ সালে গঠন করেন। ঘটনাক্রমে, ড. বি. চৌধুরী ছিলেন বিএনপিরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। সাম্যবাদী ভাবধারার এই দলটি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (লেনিনবাদী), বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ এবং অন্য একটি গ্রুপ থেকে ১৯৮০ সালে গঠিত হয়। ১৯৮৪ সালে এই দলটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয় এবং দুই পক্ষই একই নাম ব্যবহার করতে থাকে। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন অমল সেন এবং অন্য গ্রুপের নজরুল ইসলাম। বর্তমান সভাপতি রাশেদ খান মেনন অন্য একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ১৯৯২ সালে দলটি পুনরায় একত্রিত হয়।
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী । তিনি ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, যা পরবর্তীকলে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি পায়। পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি নিয়ে সোহরাওয়ার্দীর সাথে মতবিরোধ থেকে তিনি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন। ১৯৫৭ সালের ২৬শে জুলাই প্রতিষ্ঠা করেন ন্যাপ। ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী। ন্যাপের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পূর্ববাংলা থেকে হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, মহিউদ্দিন আহমদ, মশিউর রহমান (যাদু মিয়া), পীর হাবিবুর রহমান, এস.এ আহাদ, আবদুল মতিন, আবদুল হক, আতাউর রহমান এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ছিলেন ওয়ালি খান, আবদুল মজিদ সিন্ধী, মিয়া ইফতেখার প্রমুখ।
মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপ, জাতীয় লীগ (অলি আহাদ), জাতীয় লীগ (আতাউর রহমান), জাতীয় গণমুক্তি ইউনিয়ন (হাজী দানেশ), কৃষক শ্রমিক সমাজবাদী দল (খান সাইফুর রহমান), কমিউনিস্ট পার্টি (নাসিম আলী), লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সমন্বয়ে এক বিরোধী ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। “ন্যাপ (ভাসানী)” শেখ মুজিবের বাকশাল সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলো। ১৯৭৪ সালের ১৬ মে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীচুক্তি স্বাক্ষরিত হলে “ন্যাপ (ভাসানী)” এই চুক্তির বিরোধিতা করে। ১৯৭৪ সালের ১৫ মে ভাসানী ন্যাপের এডহক কমিটি গঠন করা হয় এবং কেন্দ্রীয় ন্যাপ পুনরায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৫ জুলাই জাতীয় রিকুইজিশন কাউন্সিল অধিবেশন ডাকা হয়। দলের তরুণ বামপন্থী অংশ কাজী জাফর আহমদ ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনাইটেড পিপল্স পার্টি (ইউপিপি) গঠন করে। মওলানা ভাসানী দলীয় কর্মীদের কোন্দল ও নেতৃত্বের ব্যর্থতায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে ১৯৭৪ সালের নভেম্বর মাসে ন্যাপ থেকে পদত্যাগ করেন।
গণতন্ত্রী পার্টি বাংলাদেশের একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।১৯৫৭ সালের ২৭ জুলাই ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) পূর্ব বাংলায় গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল দল হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৬৮ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মূল অংশকে পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি নামে নাম করন করা হয়। অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ সভাপতি ও সৈয়দ আলতাফ হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
পার্টিতে বার বার ভাঙ্গনের কারণে সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ১৯৮৬ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, একতা পার্টি ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফ্ফর) মিলে মূলধারায় সবাই আবার একত্রিত হয়ে সৈয়দ আলতাফ হোসেন, পীর হবিবুর রহমান ও চৌধুরী হারুনর রশিদকে আহ্বায়ক করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ঐক্য ন্যাপ) নামে পূর্বের প্রধান দলে একত্রিত হয়ে সম্মিলিত বাবে কার্যক্রম শুরু করলেও ১৯৮৭ সালে পার্টি আবার দ্বিখন্ডিত হয়।
সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে সামাজিক-রাজনৈতিক ইসলামি আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।পাকিস্তান সৃাষ্টির পর জামায়াতে ইসলামী মূলত ভারত ও পাকিস্তান দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের শাখা থেকে সৃষ্টি হয়। দলটিতে বহু দলের নেতা কর্মীদের যোগদান সংখ্যানুপাতিক খুব কম। অনেক মুক্তিযোদ্ধা , সামরিক , বেসামরিক লোকজন যোগদান করেন। তবে দলটিতে দলবদল নেতাকর্মী প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গোড়াপত্তন হয়। পরবর্তীকালে এর নাম ছিল নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দটি কেটে এর নামকরণ করা হয় “আওয়ামী লীগ”।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সভাপতি ছিলেন টাঙ্গাইলের মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন টাঙ্গাইলের শামসুল হক। পরবর্তীকালে, ১৯৫৫ সালে মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে নাম রাখা হয়: ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’।
আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রচুর বামপন্থি ও ইসলামপন্থি যোগদান করেন। এখনো দলটির বহু শীর্ষ নেতা বাম রাজনীতি , জাতীয় পার্টি , বিএনপি থেকে যোগদান করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (সংক্ষেপে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিএনপি) হলো বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র-ডান থেকে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল। তৎকালীন জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে, ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল, জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি চালু করেন। এরপর বিএনপিতে বামপন্থি , আওয়ামীলীগ , জাসদ অনেকেই দলটির জন্মলগ্নে যোগদান করেন। পরিবর্তিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে দলটির কেন্দ্রীয় বেশিরভাগ নেতা জাসদ , বামপন্থি , জাতীয় পার্টি থেকে যোগদান করেন।
বিএনপি অনেকবার ভাঙ্গনের সম্মুখীন হয়। এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে কয়েকজন জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দল ছেড়ে দেন। এর মধ্যে মওদুদ আহমেদ অন্যতম। ২০০১ সালে নির্বাচনের পর বিএনপি মনোনয়নে দলের প্রথম মহাসচিব অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী দেশের রাষ্ট্রপতি হন। কিন্তু কিছু কারণে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে বিএনপি দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ফলে প্রায় ছয় মাস রাষ্ট্রপতি থাকার পর বি. চৌধুরী পদত্যাগ করেন। তিনি বিএনপির একটি অংশ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল বিকল্পধারা বাংলাদেশ গঠন করেন।
২০০৬ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হবার ঠিক আগের দিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন কর্ণেল (অব:) ড: অলি আহমেদ বীর বিক্রম বিএনপি সরকারের কতিপয় নেতা-কর্মী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিএনপি ত্যাগ করেন এবং অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারার সাথে একীভূত হয়ে নতুন রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সংক্ষেপে এল.ডি.পি. গঠন করেন।
২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের প্রথম আহ্বায়ক কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই দলের প্রথম আহ্বায়ক কমিটিতে ৭৫ জন নেতার মধ্যে প্রায় সবাই ভিন্ন দল মত থেকে যোগদান করেন।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। কাদের সিদ্দিকী। এটি মুজিববাদী আদর্শে বিশ্বাসী। দলটির আওয়ামীলীগ থেকেই মূলত জন্ম।
বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল নামের আরেকটি পক্ষ শরীফ নুরুল আম্বিয়া। সেটাও নিবন্ধিত দল। দলটির জন্ম জাসদ থেকে। সোজা কথা জাসদের একটি অংশ।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিবি হচ্ছে বাংলাদেশের একটি মার্কসবাদী–লেনিনবাদী রাজনৈতিক দল। এটি অবিভক্ত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকার বহন করে। ভারত বিভাজনের পর ১৯৪৮ সালের ৬ই মার্চ দলটি পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এই দলের বহু নেতা কর্ম ভিন্ন রাজনৌতিক দলে যোগদান করেন।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এলডিপি বাংলাদেশের একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিএনপির প্রতিষ্টাকালীন নেতা একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সাথে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অলি আহমেদ ও বিএনপির অন্য ২৪ জন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য একত্রিত হয়ে এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ২০০৭ সালে আদর্শগত কারণে বিকল্প ধারা আর এলডিপি পৃথক হয়ে যায়।
জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) হচ্ছে জাতীয় পার্টির একটি বিচ্ছিন্ন হয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন একটি দল। নির্বাচন কমিশনে দলটি জাতীয় পার্টি-জেপি নামে নিবন্ধিত। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠনের সময় এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিলেও পরবর্তীকালে চার দলীয় জোটে শরিক হন। তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির অন্যতম নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)হচ্ছে বাংলাদেশের ১৯৬৭ সালে ১-৩ অক্টোবর ১ম কংগ্রেসে মার্কসবাদ, লেনিনবাদ, মাও সেতুং এর চিন্তাধারাকে আদর্শিক ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করে কমরেড সুখেন্দু দস্তিদার, কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহার নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৭২ সনে সুখেন্দু কর্তৃক পার্টির নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) থেকে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) রাখা হয়।১৯৭৭ সনে সাম্যবাদী দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়।
দিলীপ বড়ুয়া গং এখন দলটির একটি অংশ। দিলীপ বড়ুয়াকে বহিস্কার করে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইদ আহমেদ এর নেতৃত্বে বিএনপির ২০ দলীয় জোটে যোগদান করে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। মশিউর রহমানের (যাদু মিয়া) নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ভাসানী) একটি বিচ্ছিন্ন দল থেকে দলটির উৎপত্তি হয়। ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে যাদু মিয়ার নেতৃত্বে ন্যাপের একটি বড়ো অংস বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে যোগদান করে। যাদু মিয়ার ছেলে শফিকুল গনি স্বপন ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ পুনর্গঠন করেন।