• ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

গণমাধ্যমে অগ্নিসংযোগ নিয়ে মাহফুজ আনামের মন্তব্যে ডেইলি স্টারের সংশোধনী , অতীতের হামলা গুলো কেমন ছিল

Usbnews.
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫
গণমাধ্যমে অগ্নিসংযোগ নিয়ে মাহফুজ আনামের মন্তব্যে ডেইলি স্টারের সংশোধনী , অতীতের হামলা গুলো কেমন ছিল
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

গণমাধ্যমে অগ্নিযংযোগ নিয়ে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বক্তব্যের সংশোধনী প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, পত্রিকাটির সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বীকার করেছেন যে গত ২১ ডিসেম্বর সম্পাদক ও  সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে বাংলাদেশে ‘প্রথম ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন যে, দেশে এর আগেও গণমাধ্যমের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যদিও ওই ঘটনাগুলো জীবন ও সম্পদের জন্য এতটা মারাত্মক হুমকি তৈরি করেনি।

নিজের এই ভুলের জন্য মাহফুজ আনাম আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই সংশোধনীটি তাদের অনলাইন প্রতিবেদনের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে।

এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর মাহফুজ আনাম বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে কোনো গণমাধ্যমের কার্যালয়ে আগে কখনো আগুন দেওয়া হয়নি এবং প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারেই প্রথমবারের মতো এমন হামলার ঘটনা ঘটল।

সে সময় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন এমনটা ঘটল এবং গণমাধ্যম কী অপরাধ করেছে যে তাদের এমন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে হলো।

 

নয়াদিগন্তে অগ্নিসংযোগ নিয়ে দৈনিক নয়াদিগন্ত সোমবার ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

২০১৩ সালে আগুন দেয়া হয়েছিল । নয়া দিগন্তে আওয়ামী শাসনামল। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল দৈনিক নয়া দিগন্তে।

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩। আওয়ামী শাসনামল। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল পাঠকপ্রিয় দৈনিক নয়া দিগন্তে। আওয়ামী আমলে বলতে গেলে এই পত্রিকাটিই ছিল বিরোধী মতের একমাত্র মুখপাত্র। শুধুমাত্র এই একটি মাত্র কারণে পত্রিকাটির কণ্ঠ চেপে ধরতে চেয়েছিল পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী সরকার।

কী ঘটেছিল সেদিন : ১২ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় জামায়াত-শিবিরের একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি নটর ডেম কলেজের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় মতিঝিলের শাপলা চত্বর এবং আরামবাগ উভয় দিক থেকে পুলিশ মিছিলটি ঘিরে ফেলে। এ সময় উভয় দিক থেকে পুলিশ মিছিলটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় জামায়াত-শিবিরের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন ওই এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের অ্যাকশনে এক পর্যায়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। নেতাকর্মীরা আশপাশের রাস্তা ও গলি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। নটর ডেম কলেজের উল্টো দিকে ইডেন কমপ্লেক্সের ভিতরে পাঁচতলা একটি ভবনে তখন অফিস ছিল নয়া দিগন্তের। ঘটনার ঠিক ওই সময়টাতে নয়া দিগন্তের মূল ফটক বন্ধ ছিল। ওই এলাকায় পুলিশের অ্যাকশন শেষ হলে হঠাৎ করেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত নয়া দিগন্ত কার্যালয় লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কার্যালয়ের সামনে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে তারা গাড়িতে এবং নয়া দিগন্তের প্রেসে অগ্নিসংযোগ করে। মুহূর্তে আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলা শুরু করে। এতে আশপাশে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কার্যালয়ের ভিতরে এসময় যারা পত্রিকার নানা কাজে যুক্ত ছিলেন তারা আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন, কেউ কেউ ছাদে উঠে যান।

অগ্নিসংযোগের পরপরই বাইরে থাকা পত্রিকার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ লোকজন ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। আগুন প্রেসে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে রাখা ১৫-১৬টি কাগজের রোলসহ বিপুল মুদ্রিত কাগজ পুড়ে যায়।

নয়া দিগন্তে আগুন দেয়ার ঘটনা শুনে ওই দিনই বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক-পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ নয়া দিগন্তে ছুটে আসেন। বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে নয়া দিগন্তে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানান ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ঘটনার পরদিন জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নয়া দিগন্তসহ গণমাধ্যমে হামলা রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

হামলার ঘটনায় নয়া দিগন্ত বিশেষ সম্পাদকীয় প্রকাশ করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার ব্যাপারে আপসহীনতার কথা দৃঢ়কণ্ঠে উচ্চারণ করে।

নয়া দিগন্ত প্রকাশনার শুরু থেকেই পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকতা করে এসেছে। সমাজ ও রাষ্ট্রে যা ঘটছে, নয়া দিগন্ত এখনো তাই প্রকাশ করে চলেছে। কখনো ‘অ্যাজেন্ডাবেইজড জার্নালিজম’কে নয়া দিগন্ত প্রশ্রয় দেয়নি।

২০১৯-এ দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর:

২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীতে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’-এর কর্মীরা ওই দিন পত্রিকার কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে পত্রিকাটির সম্পাদককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

সেদিনের ঘটনায় কেবল ভাঙচুরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি হামলাকারীরা—অভিযোগ রয়েছে, দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদককে দীর্ঘ এক বছর আটক করে রাখা হয়েছিল। একই ঘটনায় পত্রিকার কার্যালয় থেকে প্রবীণ সম্পাদক ও লেখক আবুল আসাদকেও তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়।

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা অফিসে হামলা, ভাঙচুর

গ্রেপ্তারের বিষয়ে তৎকালীন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “আমরা দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদককে নিয়ে এসেছি, কারণ তাঁর কাছে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।” এরপর আবুল আসাদ দীর্ঘ এক বছর কারাবন্দী ছিলেন।

No photo description available.

পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন। ঘটনাটি নিয়ে তখন দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয় এবং সাংবাদিক মহল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা অফিসে হামলা, ভাঙচুর
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:৫৫ পিএম

খুলনায় সংগ্রাম অফিসে হামলা-ভাংচুর

খুলনা ব্যুরো , দৈনিক সমকাল

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ |

খুলনায় সংগ্রাম অফিসে হামলা-ভাংচুর

দৈনিক সংগ্রামের খুলনা অফিসে হামলা চালিয়ে বভাংচুর করেছে কিছু যুবক। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা প্রেস ক্লাবের পাশে পত্রিকাটির খুলনা অফিসে এই ভাংচুর চালানো হয়। এ সময় অফিসের ভেতরে কেউ ছিলেন না।

দৈনিক সংগ্রামের খুলনা ব্যুরো প্রধান আবদুর রাজ্জাক রানা জানান, সকালে বাড়ি থেকে অফিসে আসার পথে ভাংচুরের সংবাদ শুনতে পারি। পরে অফিসে গিয়ে দেখি মূল তালা এবং দরজার একটি অংশ ভাঙ্গা। ভেতরের আলমারি, টেবিল, চেয়ার, কম্পিউটার, টেলিভিশন সব কিছুই ভাঙ্গা। খুলনা সদর থানার ওসি আসলাম বাহার বুলবুল বলেন, কে বা কারা সংগ্রাম অফিসে ঢুকে চেয়ার-টেবিল লাথি মেরে ফেলে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

No photo description available.

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম ১৪ নভেম্বর ২০১৯ তারিখের একটি লেখায় বলেন ,  আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আওয়ামী শাসনের অধিকাংশ সময়ই থাকতে হয়েছে কারাগারে। বিগত দিনে এই সরকার ঠুনকো অজুহাতে বন্ধ করে দিয়েছে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন, আমার দেশ পত্রিকা, অনলাইন মিডিয়াসহ মতপ্রকাশের অনেক গণমাধ্যম।

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম  লেখায় বলেন , ১৯৭২ সালে মওলানা ভাসানী প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে লেখা খোলা চিঠিতে আক্ষেপ করে বলেছিলেন- ‘স্বাধীন বাংলাদেশে পত্রিকা প্রকাশের সাধারণ অধিকারটুকুও না থাকলে আমি এ দেশে থাকতে চাই না, হয় পত্রিকা প্রকাশনার অনুমতি দানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দাও, নয়তো আমাকে এ দেশ থেকে বহিষ্কার করো।’ এ দেশের মানুষ সংগ্রাম করেছিলো মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলা, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকবার জন্য।

বাকশাল ও গণতন্ত্রের প্রথম মৃত্যু – সুব্রত শুভ এর ব্লগ

 

শেখ মুজিব আমলে আল মাহমুদকে আটক ও গণকণ্ঠ পত্রিকায় হামলা , ভাঙচুর , আগুন লাগানো হয়।

আল মাহমুদ (১১ জুলাই ১৯৩৬ – ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে প্রতিষ্ঠিত সরকার বিরোধী সংবাদপত্র দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

১৯৫০-এর দশকে যে কয়েকজন লেখক বাংলা ভাষা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ, রাজনীতি, অর্থনৈতিক নিপীড়ন এবং পশ্চিম পাকিস্তানি সরকার বিরোধী আন্দোলন নিয়ে লিখেছেন তাদের মধ্যে মাহমুদ একজন।

দৈনিক গণকণ্ঠ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকা। ১৯৭২ সালে ১০ই জানুয়ারী ঢাকা থেকে পত্রিকাটির প্রকাশনা শুরু হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কবি আল মাহমুদ। এটি জনতা প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজেস লিঃ থেকে প্রকাশিত হতো। পত্রিকার প্রকাশক মনিরুল ইসলাম। এটির সম্পাদকীয় দপ্তর র‌্যাংকিন স্ট্রীটে অবস্থিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আফতাব আহমদ এই পত্রিকা প্রকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনিই ছিলেন কার্যনির্বাহী সম্পাদক।

পত্রিকাটির সরকারী-বিরোধী সাহসী অবস্থান সকলের দৃষ্টি কাড়ে। পরবর্তীতে পত্রিকাটি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের বিশ্বাসীদের মুখপত্র বিশেষ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-এর মুখপত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। পত্রিকার সম্পাদক আল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর ফলে দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। সরকার ১৩ই এপ্রিল ১৯৭৪ তারিখে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশের সুযোগ প্রদান করে।

আল মাহমুদের আলোচিত ১১ কবিতা

সেই সময় পত্রিকা বন্ধের সংবাদ যেমন প্রকাশিত হয়েছিল – (দৈনিক ইত্তেফাক, ১ম পাতা, ২১ মার্চ, ১৯৭৪)
দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকা বন্ধের বিবরণ তৎকালীন প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকায় নিম্নরূপ প্রচারিত হয় এবং অচিরেই পত্রিকার সম্পাদক আল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং

‘গত ১৭ই মার্চ রাত ৩ টার সময় তিন ট্রাকবোঝাই রক্ষীবাহিনী ও পুলিশ দৈনিক গণকণ্ঠ কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং সোমবার প্রকাশিতব্য শেষ ফর্মা (১ম ও ৮ম পাতার) মেশিন হইতে নামাইয়া ফর্মাটি ভাঙ্গিয়া ফেলে। তারা কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষের জিনিসপত্র তছনছ করে এবং কর্মরত-কর্মচারীদের ওপর নির্যাতন চালাইয়া ৭ জনকে গ্রেফতার করে। একই সময় বাসভবন হইতে গণকণ্ঠ সম্পাদক কবি আল মাহমুদকেও গ্রেফতার করা হয়। একই সময় ছাপাখানা হইতেও সোমবারের শেষ ফর্মার সিলোফিন পেপারসহ প্লেটটি আটক করে। সোমবারের পত্রিকা প্রকাশ কার্যত বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। সোমবার ও মঙ্গলবার সারাদিন ও রাত ধরিয়া পুলিশ ও রক্ষীবাহিনী কিছুক্ষণ পর পর গণকণ্ঠ কার্যালয়ে যাইয়া সেখানে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মচারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হইয়াছে। পত্রিকার বার্তা সম্পাদকসহ অন্য সাংবাদিকরা বাড়ি-ঘর ছাড়িয়া অন্যত্র রাত কাটাইতে বাধ্য হইতেছেন। রিপোর্টাররা সংবাদ সংগ্রহ করিতে যাইয়া হুমকির সম্মুখীন হইতেছেন। কারাগারে গণকণ্ঠ সম্পাদকের সহিত সাক্ষাতের চেষ্টা ব্যর্থ হইয়াছে। তাহাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে রাখা হইয়াছে বলিয়া খবর পাওয়া গিয়াছে। তাহা ছাড়া মফস্বল সংবাদদাতাসহ গণকণ্ঠ কার্যালয় থেকে গ্রেফতারকৃতদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাইতেছে না।

 

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম  বলেন ,   আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, সাংবাদিক হত্যা, পত্রিকা অফিস ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ইতিহাস। পুলিশ হামলাকারীদের আটকের পরিবর্তে উল্টো সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ সাহেবকে আটক করে নিয়ে যায়।  আবুল আসাদের জন্ম ১৯৪২ সালের ৫ আগস্ট রাজশাহী জেলার বাগমারা থানায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এম.এ পাস করেন। ছাত্রজীবন থেকে তার লেখক ও সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। তিনি কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিকে রাজশাহী সংবাদদাতা হিসাবে কাজ করেছেন।   দৈনিক সংগ্রামে সহকারী সম্পাদক হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে তিনি তার সাংবাদিক পরিচয়টি স্থায়ী করেন। ১৯৮১ সালে তিনি দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। লেখক হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ইতিহাস গ্রন্থ ‘কাল পঁচিশের আগে ও পরে’ এবং ‘এক শ বছরের রাজনীতি’, ঐতিহাসিক ঘটনার চিত্রধর্মী গল্প ‘আমরা সেই সে জাতি’ এবং প্রবন্ধ সংকলন ‘একুশ শতকের এজেন্ডা’। তার সবচেয়ে সাড়া জাগানো সাহিত্যকর্ম হলো সাইমুম সিরিজ। এ পর্যন্ত এই সিরিজের ৬১টি বই প্রকাশিত হয়েছে

২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নামধারী একদল সন্ত্রাসী মগবাজারে বাংলাদেশের প্রাচীন সংবাদমাধ্যম দৈনিক সংগ্রামের অফিসে হামলা করে। সমগ্র অফিস তছনছ করে ফেলে তারা। মুহূর্তেই তারা দৈনিক সংগ্রামের অফিসকে যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ফেলে। তারা আঘাত করে প্রবীণ সাংবাদিক ও সম্পাদক জনাব আবুল আসাদকে। ছাত্র ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা প্রবীণ ও জনপ্রিয় লেখককে হেনস্তা ও অপমান করে। এরই মধ্যে পুলিশ এসে আবুল আসাদকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়। মানুষ ভেবেছে আবুল আসাদ তার দৈনিক সংগ্রামে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে ও তাকে হেনস্তা করার অভিযোগে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

 

হাতিরঝিল থানায় মামলা হলো কিন্তু মামলা হলো সন্ত্রাসীদের পক্ষে ও আবুল আসাদের বিপক্ষে। আমাদের বিস্মিত হওয়ার আরো বাকি রয়েছে। আদালত যেখানে একটি পত্রিকা অফিসে হামলার ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার কথা ছিলো সেখানে আদালত প্রবীণ লেখক ও প্রাচীনতম সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ দেশের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যে কোথায় অবস্থান করছে তা সহজেই অনুমেয়। এর আগেও এই ইসলামপন্থী লেখক ও বুদ্ধিজীবী আবুল আসাদকে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালে গ্রেফতার করে। আজ যেন সর্বত্র কালোমেঘের ঘনঘটা চতুর্দিকে খিটমিট করছে। দেশের এই নাজুক পরিস্থিতিতে এখনতো মওলানা ভাসানীর মতো বলিষ্ঠ নেতা নেই!! নেই সাংবাদিক মুসা আতাউস সামাদ। যারা সাংবাদিকদের পাশে এসে দাঁড়াবেন। দৃঢ়তা আর অধিকার নিয়ে শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ করবেন। বর্তমানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চেয়ার থেকে যখন দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও সম্মানিত ব্যক্তিদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে অপমান করা হয়। তখন এ জাতির কল্যাণে কেউ কি আর এগিয়ে আসার হিম্মত রাখে?

মূলত ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্লজ্জ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ আইন করে এখন তারা অনেকটা নির্ভেজাল বাকশালের দিকে রওয়ানা হয়েছে। এটি জাতির জন্য মহা দুঃসংবাদ। পৃথিবীবাসী জানতে পারলো আওয়ামী লীগ এখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, আর আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। সর্বশেষ দৈনিক সংগ্রাম অফিস ও সম্পাদকের নগ্ন হামলা করে তা ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। ‘আওয়ামী লীগ এখনো চেতনায় বাকশালকে লালন করে।’ খুন আর গুম-প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ এখন নির্ভেজাল বাকশাল আর একনায়কতান্ত্রিকতার পথযাত্রী। সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের বক্তব্য, আচরণে আর শৃঙ্খলিত আইন কানুনে বাংলার জনগণ এখন সেই প্রতিধ্বনি খুঁজে পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই নগ্ন আক্রমণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম আবার জানলো আওয়ামী লীগ সত্যপন্থী মিডিয়া, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে কেমন শত্রুতা পোষণ করে।