• ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

হলফনামা বিশ্লেষণ : আসলাম চৌধুরীর সম্পদ ১৭ বছরে বেড়েছে ৪৫৪ কোটি

Usbnews.
প্রকাশিত জানুয়ারি ২, ২০২৬
হলফনামা বিশ্লেষণ :  আসলাম চৌধুরীর সম্পদ ১৭ বছরে বেড়েছে ৪৫৪ কোটি
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি সময় কারাগারে ছিলেন আসলাম চৌধুরী। বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা কারাবন্দি ছিলেন প্রায় আট বছর। সবচেয়ে বেশি মামলার আসামিও তিনি। ঋণখেলাপির মামলাসহ এই সংখ্যা ৮০। কিন্তু মুদ্রার অন্যপিঠে আছে ভিন্ন চিত্রও। আওয়ামী লীগ আমলেই সবচেয়ে বেশি সম্পদ বেড়েছে তাঁর। কারাগারে যাওয়ার আগে তিন কোটি টাকার সম্পদ ছিল আসলাম চৌধুরীর। এখন সেই সম্পদের পরিমাণ ৪৫৭ কোটি টাকা। কারাগারে যাওয়ার আগে তাঁর ঋণ ছিল সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। এখন সেটি বেড়ে ৩৪৫ কোটি টাকা। ঋণের সব টাকা বাদ দিলেও আসলাম চৌধুরীর সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ১১২ কোটি টাকা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা থেকে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রধান দুই প্রার্থীর বিষয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

শুধু সম্পদ নয়; কারাগারে থাকা অবস্থায় বেড়েছে আসলাম চৌধুরীর আয়ও। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় এই রাজনীতিবিদ বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ১৪ লাখ ৮ হাজার ৫৯০ টাকা। এবারে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বর্তমান বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার ২০২ টাকা। অর্থাৎ ১৭ বছরে তাঁর আয় বেড়েছে প্রায় ৩৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এটি আগের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি। দীর্ঘ কারাভোগ শেষে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট জামিনে কারামুক্ত হন তিনি। আসলাম চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী জামিলা নাজনিন মাওলা ও তাঁর কন্যা মেহেরিন আনহার উজমা আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা এবং শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র। আসলাম চৌধুরী ব্যবসা থেকে বছরে ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র থেকে আয় দেখিয়েছেন ৫ হাজার ৩৪১ টাকা।

সম্পদ তিন কোটি থেকে ৪৫৭ কোটি টাকা
২০০৮ সালের নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, আসলাম চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল এক কোটি ৫৯ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ছিল এক কোটি ২৪ লাখ টাকা। এবারের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৪৩০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট সম্পদ প্রায় ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ১৭ বছরে মোট সম্পদ বেড়েছে ৪৫৪ কোটি টাকারও বেশি।

নগদ টাকা বেড়েছে ১৬৫ গুণ
২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী, আসলাম চৌধুরীর নিজের নামে নগদ অর্থ ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এখন সেটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের তুলনায় যা প্রায় ১৬৫ গুণ বেশি। ১৭ বছর আগে তাঁর স্ত্রীর হাতে ছিল তিন লাখ ৭২ হাজার টাকা। এখন সেটি হয়েছে পাঁচ কোটি ২২ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে তাঁর মেয়ের কোনো নগদ টাকা ছিল না। এখন মেয়ের কাছে নগদ আছে তিন কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

শেয়ারে বিনিয়োগ বেড়েছে ৫৪ গুণ
১৭ বছর আগে শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র খাতে নিজের নামে ১৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৮৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকার বিনিয়োগ দেখান আসলাম চৌধুরী। এখন সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ও চার কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসলাম চৌধুরীর নিজের নামে জমা ছিল ১৭ লাখ ৮ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ছিল ৩০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এখন সেটির পরিমাণ যথাক্রমে এক লাখ ২৩ হাজার ও ১৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আগে মেয়ের নামে কোনো জমা না থাকলেও সেটি এখন হয়েছে ৫৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

ঋণ আছে ৩৪৫ কোটি টাকার বেশি
বিভিন্ন ব্যাংকে আসলাম চৌধুরীর ঋণ ৩৪৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এ ছাড়া ব্যক্তিগত দেনা রয়েছে ৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে তাঁর ব্যক্তিগত দায় ছিল এক কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

বেড়েছে স্ত্রীর আয় ও সম্পদ
হলফনামা অনুযায়ী, আসলাম চৌধুরীর স্ত্রী জামিলা নাজনীন মওলার বার্ষিক আয় ছয় লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা। কন্যা মেহরীন আনহার উজমাও আয় করেন ৯ লাখ ৭ হাজার ৯৭০ টাকা। ২০০৮ সালে কন্যার কোনো আয় ছিল না। তখন আসলাম চৌধুরী স্ত্রীর আয় দেখিয়েছিলেন চার লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এবার জমিলা নাজনীন মওলার অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৩২ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৬ কোটি ১০ লাখ ৯১ হাজার টাকা। কন্যার অস্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ২০০৮ সালের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫২ টাকা।

আয় ও সম্পদের বিষয়ে আসলাম চৌধুরীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

হলফনামায় নিজেকে ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী। তিনি ব্যবসা থেকে বছরে ৫ লাখ এবং শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৬১ হাজার টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, হলফনামায় যে তথ্য দিয়েছি এর বাইরে আমার কোনো সম্পদ নেই। পৈতৃক সম্পত্তি এখনও বণ্টন না হওয়ায় স্থাবর সম্পত্তির তথ্য উল্লেখ করতে পারিনি।

 

 

  •  সমকাল