• ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ

Usbnews.
প্রকাশিত জানুয়ারি ৭, ২০২৬
যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ তার সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরের সময়ে তাদের কাছ থেকে ‘জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি’ যুদ্ধ বিমান কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানাচ্ছে দেশটির বিমান বাহিনী। এই যুদ্ধবিমানটি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ নামেও পরিচিত।

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন মুখপাত্র  বলেছেন, এই যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে তারা এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাননি, তবে “তারা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে”।

মঙ্গলবার পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবের সিধুর সাথে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের বৈঠকে এ আলোচনা হয়েছে।

এসময় পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধান বাংলাদেশকে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তার বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন।

“বৈঠকে সম্ভাব্য জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে,” পাকিস্তান আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

এই যুদ্ধবিমানটি ৪.৫ প্রজন্মের একটি মাল্টি রোল যুদ্ধবিমান যা শক্তিশালী রাডার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত। এটি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ মিশনে অংশ নিতে সক্ষম।

আকাশে ওড়ে এবং এর মাধ্যমে পাক-চীন যৌথভাবে নির্মিত এই জঙ্গি বিমান নিজের শক্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। চেংদু এয়ারক্র্যাফট ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপের (সিএআইজি) ফ্যাসিলিটিতে প্রথমবারের মতো প্রটোটাইপ বিমানের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করা হয়, যেটিতে জে-২০ জঙ্গি বিমানে ব্যবহৃত বেশ কিছু প্রযুক্তি সংযোজন ও বড় ধরনের আপগ্রেড করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস এই আপগ্রেডের মধ্যে আগের জেএফ-১৭ থান্ডার বিমানের ইলেক্ট্রনিক গেজেটগুলোর আপডেট করা হয়েছে, যেগুলো এই বিমানের আকাশে যুদ্ধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছে। জেএফ-১৭ যৌথভাবে তৈরি করেছে চীন ও পাকিস্তান, যেটা প্রধানত পাকিস্তান ব্যবহার করছে।

চীন ও পাকিস্তান জেএফ-১৭ বিমানটি আপডেট করার জন্য যৌথভাবে কাজ করছে এবং এটাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের তৈরি বিশ্বসেরা জঙ্গি বিমানগুলোর সমপর্যায়ে পৌঁছে যায় এটা।

জঙ্গি বিমানটির নতুন এয়ার ইনলেট থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এতে নতুন ইঞ্জিন সংযোজন করা হয়েছে। সম্ভবত উন্নততর আরডি-৩৩এমকে ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যেটা রাশিয়ান মিগ-৩৫-এর সাথে রয়েছে। সেই সাথে ব্যাপক অত্যাধুনিক সক্ষমতা বাড়ানোর কারণে জেএফ-১৭ থাণ্ডার ব্লক-থ্রি বিমানটি অপ্রতিরোধ্য নৌ অ্যাটাক বিমানে পরিণত হয়েছে।

জেএফ-১৭ বিমানের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে উচ্চ মানের জঙ্গি বিমানের চাহিদা মাথায় রেখে। উড্ডয়ন মহড়া এবং এয়ার-ফ্রেম ডিজাইনের ক্ষেত্রে এটার উপযুক্ততা প্রমাণিত হয়েছে কিন্তু এটাতে যদি আধুনিক ইলেক্ট্রনিক্স গেজেটগুলো সংযুক্ত করা হয়, তাহলে এটাকে সহজেই আরও উন্নত করে তোলা সম্ভব।

অ্যারোস্পেস নলেজ ম্যাগাজিনের চিফ এডিটর ওয়াং ইয়ানান জানান, ‘জে-১০ ও জে-২০ জঙ্গিবিমানের উন্নয়ন ও আপগ্রেডের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় ধরনের অর্জন করেছে চীন। এ জন্য তাদেরকে উচ্চমানের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। জেএফ-১৭ প্রকল্পে যদি এটাকে ব্যবহার করা হয়, তাহলে বিমানটি আকাশে শ্রেষ্ঠত্বের জায়গায় চলে যাবে এবং পাইলটের উপর বোঝা অনেক কমে যাবে।’ জেং এমনকি এটাও বলেন যে, চীনের আগে থেকে তৈরি প্রযুক্তি যদি কাজে লাগানো হয়, তাহলে ব্যায়ের দিক থেকেই সাশ্রয়ী হবে জেএফ-১৭।

২০০৩ সালের আগস্টে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে জেএফ-১৭ থাণ্ডার বিমান যুক্ত হয়, এফসি-১ নামের একটি প্রটোটাইপ বিমান পাকিস্তানকে দেয়া হয়। জঙ্গি বিমানটি মে মাসে প্রস্তুত হলেও এর প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় ২০০৩ সালের আগস্টে। নতুন আপগ্রেডেড ভার্সান জেএফ-১৭ থাণ্ডার ব্লক-থ্রি, পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে শিগগিরই যুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সহায়তায় পাকিস্তান এই যুদ্ধ বিমান তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। হালকা ওজনের এই যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা ২০১৯ সালে ও ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতের সাথে পাকিস্তানের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সময়ে প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

পাকিস্তান ইতোমধ্যে সম্ভবত আজারবাইজার, মিয়ানমার ও নাইজেরিয়ার কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রি করেছে। এছাড়া ইরাক ও লিবিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের সাথে এই বিমান বিক্রি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।