• ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

দশ কোটি টাকা নয়, দশ হাজার কোটি টাকা দিয়েও সারওয়ারকে কেউ কিনতে পারবে না : ডিসি মো. সারওয়ার আলম

Usbnews.
প্রকাশিত জানুয়ারি ৭, ২০২৬
দশ কোটি টাকা নয়, দশ হাজার কোটি টাকা দিয়েও সারওয়ারকে কেউ কিনতে পারবে না :   ডিসি মো. সারওয়ার আলম
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান : সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাত বা লেনদেনের প্রশ্নই আসে না এবং এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজেই চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ছড়ানো হচ্ছে-এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি করছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যে কোনো মূল্যে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং ফেক নিউজ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি বলেন, এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর এ ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। আমাদের সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে— কী কী কারণে দ্বৈত নাগরিকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। দ্বৈত নাগরিক তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে এমএ মালিক সাহেব পরদিন তার সলিসিটর ফার্মের মাধ্যম থেকে নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার প্রমাণপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু এশতেহাম হক কোনো প্রমাণপত্র জমা দেননি। তাই তারটা বাতিল হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো আবকাশ নেই। তবুও আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আপিল করলে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া জমা দেওয়া দ্বৈত নাগরিকত্ব সারেন্ডারের কাগজপত্র যাচাই করা হবে। যদি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েও যান আর যুক্তরাজ্যের হোম অফিস থেকে আমরা সত্যতা না পাই। তাহলে তার এমপি পদও চলে যাবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় যাচাই করা হয়। এর মধ্যে একজন প্রার্থী দাবি করেছেন যে তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নাগরিকত্ব ত্যাগের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য কোনো ডকুমেন্ট তিনি জমা দিতে পারেননি। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমরা শুধু আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা হোম অফিসের স্বীকৃত ডকুমেন্ট অথবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের রসিদ প্রয়োজন। প্রার্থী সেটি দিতে না পারায় আমাদের বাধ্য হয়ে মনোনয়ন বাতিল করতে হয়েছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই।

post-title

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকা ঘুষ দেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দেব এবং সর্বোচ্চ শাস্তি মাথা পেতে নেব। এটি একটি ভয়ংকর ফেক নিউজ। তিনি বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবম‚র্তি ক্ষুন্ন করতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসন কারও প্রতি পক্ষপাত করছে-এমন ভুল বার্তা জনগণের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে, যা মোটেও সত্য নয়। জেলা প্রশাসক পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে দৃঢ়কণ্ঠে বলেন,দশ কোটি টাকা নয়, দশ হাজার কোটি টাকা দিয়েও সারওয়ারকে কেউ কিনতে পারবে না। তিনি বিভ্রান্ত না হতে জনগণের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন ,নির্বাচনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যে কোনো মূল্যে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং ফেক নিউজ ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।