জনগনের ভোটাধিকার যদি হরণ না করে ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগের সুযোগ করে দেয়া হয় , তাহলে রাষ্ট্র বিনির্মাণ হবে। আর যদি সেটা না হয় তাহলে যেই লাউ সেই কদু হবে। অতএব জনতার রায়ের জন্য জনতাকেই শেষ দিন পর্যন্ত শক্ত হাতে নামতে হবে।
বাংলাদেশ যাতে আবার ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায়’ ফিরে না যায়, সেজন্যই এবারের গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় । বলা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ যাতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় আর ফিরে না যায়, সেজন্যই এবারের গণভোট। গণভোটের সুযোগ আগামী ৫ বছর বা ১০ বছরে আর আসবে না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তা ঠিক করার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বলা হচ্ছে , ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তারা প্রাণ দিয়ে আমাদের এই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন—এমন ব্যবস্থা করার, যেন আমরা আগের সেই অবস্থায় ফিরে না যাই। বিগত ১৬ বছরের শাসন ও জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সবাই উপলব্ধি করেছি যে, এই শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।
যারা পুরনো সংবিধানকে মানছেন তারা কি সেই সংবিধান অনুযায়ী গত নির্বাচনের ৫ বছর পর নির্বাচন মানবেন ? মোটেও না। তাহলে সংবিধানে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’– এমন কোনো ব্যবস্থার কথা উল্লেখ নেই। ফলে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে যদি শুধু ক্ষমতার রদবদল হয়, তাহলে জনগণের প্রাপ্য হক কতটা সার্থ্ক হলো ?
যারা লাগাতার বৈঠক করে অন্যসব সংস্কারকে স্তিমিত ও বাধাগ্রস্ত করলেন তারা কোন পক্ষে ভোট দেবেন ? হ্যা অথবা না কোনটা ?
রাজনৌতিক দলগুলোর একটি পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে – বর্তমানে দেশ দুই ভাগে বিভক্ত—একটি পক্ষ গোলামি চায়, আরেকটি পক্ষ চায় আজাদী। “একটি পক্ষ ভারতের তাবেদারি চায়, আরেকটি পক্ষ চায় বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা। আমরা চাই, বাংলাদেশ কে পরিচালনা করবে, কে সরকার গঠন করবে—তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ,” ।
রাজনৈতিক দলের নাম রাজনৈতিক জমিদারির অশনি সংকেত জাতির জন্য ভয়ঙ্কর হবে সেটা শতভাগ নিশ্চিত করেই বলা যায়। তাই জনগণ কোন রাজনৌতিক জমিদার শ্রেণীর দলদাস অথবা প্রজা হয়ে থাকতে চায় না। যার কারণেই তো রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান। যদি আবারো রাজনৈতিক জমিদার শ্রেণীর ব্যক্তিতন্ত্র প্রতিষ্টার জন্য নির্বাচন হয় , তাহলে যাদের ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে তাদের দোষ থাকার কথা নয়।
প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জনগণ যেন নির্ভয়ে নিজের ভোট দিতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বিগত দিনের মতো কোনো পাতানো নির্বাচন হলে তার ফল ভালো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন রাজনৌতিক দল গুলোর একটি অংশ।