• ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

হ্যাঁ ও না ভোট নিয়ে দিন শেষে একই লাইনে আসবেন কিন্তু ঐক্যের ক্ষতি পূরণ হবে না

Usbnews.
প্রকাশিত নভেম্বর ১০, ২০২৫
হ্যাঁ ও না ভোট  নিয়ে দিন শেষে একই লাইনে আসবেন কিন্তু ঐক্যের  ক্ষতি পূরণ হবে না
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বাংলাদেশের  স্বাধীনতার বিগত ৫৪ বছরে যত রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে তারা রাষ্ট্র কাঠামো শাসন ব্যবস্থায় তেমন একটা পরিবর্তন আনেননি। নিজেদের স্বার্থে বার বার ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার খর্ব করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হোক এটা দেশের ১৮ কোটি জনগণের প্রত্যাশা ও বহুল প্রতীক্ষিত বিষয়।

বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ না পদ্ধতির ব্যালেটের মাধ্যমে জনগণের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

হ্যাঁ ও না ভোট বিষয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে গেছেন। বিএনপি’র নেতৃত্বে একটি জোট। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে জোট। ইসলামী জোট মাঠে ময়দানে বিভিন্ন সমাবেশের মধ্য দিয়ে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকেই বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট না ভোটের পক্ষেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে দিন শেষে সব ঘাটের পানি গোলা করে বিএনপি’র নেতৃত্বে জোট ও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলবে। কিন্তু এর মধ্যে তারা বিশাল একটা জাতীয় ঐক্যকে বিনষ্ট করবে।

প্রথমত দেখতে হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর ঐক্যমত্য কমিশন জুলাই সনদ এর বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছান। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ১৬৬টি মূল প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে ঐক্যমত্য কমিশন।

এর মধ্যে সিরিজ আকারে ক্ষমতার জন্যই প্রতীয়মান প্রথম পর্যায়ে, কমিশন ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করে এবং পরে ২০টি অমীমাংসিত মৌলিক প্রস্তাব নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা শুরু করে। ৬২টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে রাজনৈতিক দলগুলো, যার বেশিরভাগই বিচার বিভাগ, সংস্কার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ছয়টি প্রস্তাব।

একটু গভীরে গেলে দেখা হয় , সংবিধান সংস্কার কমিশন ১৮টি প্রস্তাব জমা দেয়, যার মধ্যে একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে, যা ৩০টি দলের সমর্থন পেলেও এর কাঠামো নিয়ে মতবিরোধের কারণে অমীমাংসিত থেকে যায়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১১টি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের একটি ঐকমত্যভিত্তিক রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে তিন দফায় মোট ৭২ দিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ চালায়।

কিন্তু আমলাতান্ত্রিক গোলামী থেকে কি জাতি মুক্তি পাবে ? রাজনৌতিক জমিদরদের হাত থেকে কি জনগণের মুক্তি আছে ? রাজরানীর প্রথা থেকে কি মুক্তি পাবে বাংলাদেশ ? এই প্রশ্নের জবাব জনতার কাছেই , জনতার ভোটের মধ্যেই।