জলবায়ু বদলাচ্ছে। এর পেছনে মানুষ ও বিজ্ঞানের অনেক অপকৌশল , আবিষ্কার এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা দায়ী। দীর্ঘদিন থেকে বরফ গলছে মেরুপ্রদেশে। হিমবাহের উচ্চতা দিন দিন কমছে । গলে যাওয়া বরফের ভেতর থেকে জেগে উঠছে পুরনো বহু জীবাণু। এর মধ্যে জম্বি ভাইরাস একটি । বয়স প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ বছর। উত্তর মেরুর বিভিন্ন জায়গায় বরফে চাপা পড়েছিল এই ভাইরাস । তেরোটি নতুন প্যাথোজেন, যাকে জম্বি ভাইরাস বলা হয়, সহস্রাব্দ হিমায়িত হওয়ার পরেও সংক্রামক থেকে যায়। পারমাফ্রস্ট গলানোর ফলে ভাইরাসটির আবির্ভাব হবে ।
ভারোয়রবিক্স গবেষণা জানিয়েছে, ইউকার্যটিকে ভাইরাস বাস্তবতার কাছাকাছি উপলব্ধি পুনরুদ্ধার করার জন্য, ৭ টি ভিন্ন প্রাচীন সাইবেরিয়ান পারমাফ্রস্ট নমুনা, ১টি লেনা নদীর এবং ১ টি কামচাটকা ক্রায়োসল থেকে বিচ্ছিন্ন ১৩ টি নতুন ভাইরাসের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য রিপোর্ট করে ৷ পূর্বে পারমাফ্রস্ট থেকে পুনরুজ্জীবিত হয়নি: একটি নতুন পিথোভাইরাস স্ট্রেন ছাড়াও পান্ডোরাভাইরাস, সেড্রাটভাইরাস, মেগাভাইরাস এবং প্যাকম্যানভাইরাস।
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন সুমেরুর হিমবাহ যত বেশি গলবে ততই দ্রুত খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসবে জম্বি ভাইরাস সহ আরো ভয়ানক জীবাণু । এই ভাইরাস একবার জাগলে আরও ভয়ঙ্কর অতি মহামারীর মুখোমুখি হতে হবে পুরো বিশ্বকে।
বরফে জমাট হ্রদে এই ভাইরাসের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জানা গেছে, বিশ্বে যতরকম ভাইরাস আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এই ভাইরাস।বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে তাপমাত্রা। এ তথ্য আর নতুন নয় গত কয়েক বছর ধরে।
জানা গেছে, কয়েক হাজার বছরের হিমশীতল পার্মাফ্রস্ট গলে যাচ্ছে। পার্মাফ্রস্ট হল পৃথিবীর উপরের বরফের স্তরের তলায় থাকা পাকাপাকি ভাবে জমাট বাঁধা মাটি। হাজার বছরের হিমশীতল এই মাটি। এর ফলে সেই বরফ-মাটির নিচে এত বছরের সুপ্ত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস মুক্ত হয়ে সজীব হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর বেশিরভাগ পার্মাফ্রস্ট সঞ্চিত হয়ে আছে উত্তর গোলার্ধের আর্কটিক অঞ্চলে। এই অঞ্চলে যখন কোনও প্রাণী মারা যায়, তখন তা সাধারণ প্রাণীর মতো মাটিতে মিশে যায় না, তারা বরফ গলে নিচে প্রবেশ করে, পার্মাফ্রস্টের বরফ-মাটির মধ্যে থেকে যায় জমাট বেঁধে। ফলে তাদের শরীরে জমা থাকা জীবাণুও সেই সঙ্গেই মিশে যায় পার্মাফ্রস্টে। এখন দ্রুত গতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হাজার বছর ধরে জমাট বেঁধে থাকা সেই বরফ-মাটি গলতে শুরু করেছে। ফলে তার মধ্যে থাকা প্রাণীগুলির দেহের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াও জেগে উঠতে শুরু করেছে।

লাউর স.যে., এম্ব্রয় ক. এ জোম্বিয়ে ম্যানিফেস্টোর টি ননহুমান কন্ডিশন ইন দ্যা এরা অফ অ্যাডভান্সড ক্যাপিটালিজম থেকে জানা যায় , জম্বি শব্দটি হাইতিয়ান লোককাহিনী থেকে এসেছে, যেখানে জম্বি হল একটি মৃতদেহ যা বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এদের দেহ জীবন্ত কিন্তু মস্তিষ্ক অচল বা মৃত। অনেক সময় কিছু ভাইরাসের কারনেও সাধারণ মানুষ জম্বিতে পরিণত হয়। এগুলোকে বলে জম্বি ভাইরাস। জম্বিদের শারীরিক এবং মানসিক কোনো অনুভূতি থাকে না।
লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, অতিদ্রুত হারে মানবশরীরে ছড়িয়ে পড়বে জম্বি ভাইরাস। যার কোন ঠিক ভয়াবহতা নির্ধারণ সম্ভব নয়।
গবেষণা নিয়ে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত নন লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা । তাঁদের মতে, এই গবেষণা পুরোটা নির্ভুল নয়। এমনকী, জম্বি ভাইরাস দেখা গেলেও তা প্রতিরোধ করা সমস্যার হবে না বলেও জানিয়েছেন তারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় জম্বি ভাইরাসের কথা তাদের রিপোর্টে উল্লেখ ছিল। এবং জম্বি হামলা হলে সবার প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা করেছিলেন। যদিও পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে জম্বি প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করা হয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ঠিক কী ভাইরাস বরফের নিচে রয়েছে তা যদিও এখনও পরিস্কার নয় ৷ তবে এর আগে ২০১৪ সালে সাইবেরিয়ায় ক্ল্যাভারির নেতৃত্বে এক বিজ্ঞানীর দল এমন একটি ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছিল যেটা আনুমানিক ৪৮ হাজার ৫০০ বছরের পুরনো৷ সেখান থেকে মনে করা হচ্ছে ওই জীবাণুরা আচমকা জেগে ওঠতে পারে এবং যার থেকে মহামারীর আশঙ্কা বাড়ছে।