রাজধানী ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (UAP)-এ একাধিক অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে আজ সকাল থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্য দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে না। একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমানে তাদের একটি বড় অংশকে রোড লেভেল থেকে তিনতলা নিচে আন্ডারগ্রাউন্ডে ক্লাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকা শহরের বাস্তবতায় এটি গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো, নেটওয়ার্ক সুবিধা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
এছাড়া হিজাব ও নিকাব পরিহিত ছাত্রীদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ফ্যাকাল্টির আচরণ নিয়ে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, একাধিক ছাত্রী লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টির অপসারণের দাবিও জানান তারা।
রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক বই প্রদর্শন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ফ্যাকাল্টির রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ এবং শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
ডিপার্টমেন্ট অব স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার (DSW) নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমান DSW প্রধান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার্থী কার্যক্রমে অনুপস্থিত থাকেন এবং প্রয়োজনের সময় তাকে পাওয়া যায় না। তারা এ পদে পরিবর্তন চান।
এ ছাড়া দেরিতে ক্লাস শুরু হওয়া, পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার অভাব, অভিজ্ঞ ফ্যাকাল্টিদের পদত্যাগ, বিবিএ ডিপার্টমেন্টের স্থায়ী অবকাঠামোর সংকট, অডিটোরিয়াম ও কমন রুমের অভাবসহ নানা সমস্যা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চান না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (BOT) ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বাধ্য হয়েই তারা অবস্থান কর্মসূচি ও ক্লাস বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় উপাচার্য কার্যালয় ত্যাগ করতে পারেননি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।