সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় প্রতিফলিত হয়ে মাহসিনা মমতাজ মারিয়া বললেন , ওসমান হাদী শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে চেয়েছিলো।শহীদ মীর মুগ্ধ নিজের অন্তিম যাত্রায় রওয়ানা করা। আজ ১৮ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকটি ছবি যুক্ত করে লেখা পোস্টে বলেন –
Civil war 1862, দুর্গম পাথুরে দেয়ালের ওইপাশে আহত, অর্ধমৃত আর প্রচন্ড শীতে কাবু সৈনিকদের আর্তনাদ ভেসে আসছে, ❝আর পারছিনা, এক ফোঁটা পানি, প্লিজ! গলা ফেটে যাচ্ছে তৃষ্ণায়, পানি! প্লিজ!❞ মানুষগুলো শত্রুপক্ষের, কিন্তু পাহাড়ের ওইরকম বন্ধুর পরিবেশে পানির হাহাকারগুলো তো মানবিক! ১৯ বছর বয়সী সার্জেন্ট রিচার্ড রওল্যান্ড নিজের অসামান্য মানবিকতায় শত্রু-মিত্র সমীকরণের উর্দ্ধে উঠে কমান্ডারকে জানালেন, তিনি আর বরদাশত করতে পারছেননা। নিজ হাতে পানি নিয়ে শত্রু এলাকায় যাবেন শুনে কমান্ডার জেনারেল রিচার্ডকে সতর্ক করলেন, জীবন ঝুঁকির ভয় দেখালেন। রিচার্ড তবুও অনড়।
প্রচন্ড জীবনঝুঁকি নিয়ে রিচার্ড শত্রুসীমানা অতিক্রম করলেন, আহতদের মাথাগুলো এক এক করে যত্নে কোলে নিলেন, পানি খাওয়ালেন, সেবা দিলেন। বিশ্ববাসীর জন্য এক বিস্ময়কর উদাহরণ তৈরি করে ফিরে আসলেন রিচার্ড। রীতিমতো পর্দা টেনে দিলেন যুদ্ধের!
ইয়ারমুকের যুদ্ধ কেবল শেষ হয়েছে। পানির জন্য আর্তনাদ করছেন আহত সাহাবীরা। পানি নিয়ে গেলেন তাঁদেরই আরেক ভাই, প্রথমজন খেলেননা। বললেন আমার বাকি ভাইদের আরও বেশি কষ্ট হচ্ছে, ওঁদের দিন পানি। আরেক ভাইয়ের কষ্টকে নিজের কষ্টের থেকে অগ্রাধিকার দিতে দিতে একসময় সবাই ফিরে গেলেন মালিকের কাছে। কেউ আর খেলেন না পানি!
আমাদের জুলাইয়ের সোনার ছেলেটারও এমন ❝পানি লাগবে পানি?❞র আকুতি, আর তার পরপর নিজেই নিজের অন্তিম যাত্রায় রওয়ানা করা! শহীদ মীর মুগ্ধ!
আমাদের আরেক হিরো, আমাদের প্রচন্ড সাহসী যোদ্ধা কি বলেছিলো মনে আছে না আপনাদের? ওসমান হাদী শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে চেয়েছিলো।
মিল পান কোন?
মিল পান কিভাবে মানবসেবার জন্য যুগে যুগে মানুষ শত্রু-মিত্র ভুলে যায়, নিজ জীবনের ক্ষয় মেনে নেয়? এটাই সেবকসুলভ নেতৃত্ব (Servant Leadership), খিদমতের নেতৃত্ব!
এক ঝাঁক GenZ দের নিয়ে একটা অসাধারণ উদ্যোগ Dhaka Youth Fellowship . ওদের সাথে আমার সেশন ছিলো গেলো শুক্রবার। সবাই মিলে আমরা ভেবেছি, কথা বলেছি, ইতিহাসের পাতায় পাতায় ঘুরে বেড়িয়েছি আর ত্যাগ ও খিদমতের দায়িত্বের পথে নিজেদের পদচিহ্ন রচনার চেস্টা করেছি!
আমরা কথা বলেছি ওহুদ নিয়ে, তায়েফ নিয়ে; বাহাস করেছি “নেতৃত্ব কোন পথে আসে” এই বিষয়ে, বাচ্চারা বলেছে অন্যের জন্য অগ্রাধিকার আর নিজের কাছে নিজের স্বচ্ছতার হিসাবেই মাপা যায় নেতৃত্বের উচ্চতা।
বাংলাদেশ ২.০র জন্য এমন কৈশোরের লোভ লাগে, এমন জীবনীশক্তি আর এমন চিন্তাশীল প্রজন্ম বানানোর আজন্ম নেশা ধরে!
আল্লাহ তোমাদের কবুল করুক, একটা অভাগা দেশের জন্য, একটা উম্মাহর জন্য, ইনশাআল্লাহ।
(ওরা সেশন শেষে ফিডব্যাক দিয়েছিলো, আমাকে আবার উপহারও দিয়েছে। 🥰)