• ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১১ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

‘আঙুল ট্রিগারে’, তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি ইরানের

Usbnews.
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
‘আঙুল ট্রিগারে’, তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি ইরানের
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক এখন সরাসরি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকির জবাবে কঠোরতম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, ইরানি সেনাদের ‘আঙুল এখন ট্রিগারে’ এবং দেশের স্থল, আকাশ কিংবা জলসীমায় কোনো ধরনের আক্রমণ করা হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও তাৎক্ষণিক।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় ইরানকে সরাসরি হুমকি প্রদান করেন। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিশাল ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজের বহর ইতিমধ্যে ইরানের অভিমুখে রওনা হয়েছে। তিনি তেহরানকে দ্রুত একটি নতুন পারমাণবিক ও মিসাইল চুক্তিতে আসার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, আলোচনার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি ইরান চুক্তিতে না আসে, তবে গত বছরের জুনে তাদের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যে হামলা চালানো হয়েছিল, এবার তার চেয়েও অনেক বড় ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হবে।

ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক বক্তব্যের পরপরই ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। তিনি গত বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই সংঘাত থেকে ইরান ও তার মিত্ররা অত্যন্ত মূল্যবান সামরিক শিক্ষা গ্রহণ করেছে। এই অভিজ্ঞতার ফলে ইরানি বাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষিপ্র এবং যেকোনো আক্রমণের জবাব দিতে তাদের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মিসাইল উৎপাদন নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার প্রাথমিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন শক্তির মাধ্যমে ইরানকে দমনের কৌশল নিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তারা কোনো ধরনের চাপের কাছে মাথা নত করবে না। দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে সমগ্র বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় দিন গুনছে। মূলত ট্রাম্পের ‘সময় শেষ হয়ে যাওয়ার’ ঘোষণা এবং ইরানের ‘তাৎক্ষণিক জবাবের’ হুমকি পরিস্থিতিকে এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।