• ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১১ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

তিন মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি থেকে বাঁচাতে আমরা ছেড়ে যাইনি: ডা. শফিকুর রহমান

Usbnews.
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
তিন মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি থেকে বাঁচাতে আমরা ছেড়ে যাইনি: ডা. শফিকুর রহমান
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দু–একজন নেতা এখন বলছেন, ঠিক আছে আমরা এত অসৎ ছিলাম, আপনারা এত সৎ ছিলেন তো ছেড়ে গেলেন না কেন? আমরা ছেড়ে যাইনি এ কারণে, অন্তত তিনটা মন্ত্রণালয় বেঁচে যাক। দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পাক।’

জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ বিএনপি সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও সে সময় কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি বলেন শফিকুর রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথাগুলো বলেন।

 

May be an image of one or more people, dais and text that says 'বি্মিবমতিতরকমমিदরयহिष বিসমিশ্রাহ্রির বঙ্রমানির রত্তিম ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশ জামনায়াতে ইসলামীমনোনীত ইসলামী মনোনীত 3 ៦៦ দলীয় জাট সমথিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফল আলম খান মিলন এর সমথনে চুলোাম ছট চলোওকস বাংল বাংলাদে প্রধান অতিথি ডা. শফি আব্রীর বাংলাদে রহমান রায়াতে মার (ត পরিচ বमদা ঢাকা-১২ আসনে নভিিদালায় হদেন'

বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল এই অভিযোগ ওঠার পর গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও দুজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিলেন। বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? কারণ, তাঁরা সরকারে ছিলেন এবং ভালো করেই জানতেন যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছেন।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে এ কথাগুলো বলেন জামায়াত আমির।

কারওয়ান বাজারে সভায় আজ জামায়াতের আমির চাঁদাবাজি নিয়ে কথা বলেন। চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ লাফ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করব, আমি চাঁদাবাজিও করব, কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না। এটা কোনো কথা! তাহলে আপনি চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন। আপনাকে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না। আপনি যখন চাঁদাবাজি করবেন, তখন এ কথা আপনাকে শুনতে হবে যে আপনি একজন চাঁদাবাজ।’

May be an image of one or more people and crowd

 

বৈষম্য, অবিচারের বিরুদ্ধে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিল উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘রাজপথে এসে তারা একটাই স্লোগান দিয়েছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা কোনো বৈষম্য, অবিচার মানব না। এই সমাজে অবশ্যই ন্যায়বিচার কায়েম করতে হবে এবং সাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এখানেই সমস্যা। এই যে চাঁদাবাজ, এই যে দখলবাজ, এই যে মামলাবাজ, এই যে দুর্নীতিবাজ এই সব কটি বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ জনগণের ওপরে এসে ছোঁ মারে।’

কৃষক, পরিবহন মালিক, হোলসেল ও রিটেইলার ব্যবসায়ীরা চাঁদার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। সারা দেশের ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতসহ ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ক্ষমতায় যেতে পারলে নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের চিত্র পাল্টে যাবে। ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। বাকি ১০ ভাগকে প্রথমে চাঁদাবাজি না করার আহ্বান জানানো হবে। এরপরও না বুঝতে চাইলে যা করা দরকার, তা-ই করা হবে। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার ভাই, কার সন্তান, সেটি দেখা হবে না। এ ক্ষেত্রে নির্দয়, নিষ্ঠুর, কঠোর আচরণ করা হবে।

নির্বাচনকে ঘিরে আলামত ভালো নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘চতুর্দিকে বিভিন্ন মন্দ আলামত ফুটে উঠছে। মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, হামলা করে মানুষ খুন করা হচ্ছে, অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে, গায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের কাজ করতে হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি শফিকুর রহমান আহ্বান জানান। সেটি না পারলে ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে বলেন তিনি।

প্রতিপক্ষের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, তারা যেন অন্যকে সম্মান করে। গাল ভরে যে গণতন্ত্রের কথা বলে, সেই গণতন্ত্রের পথে যেন হাঁটে।

জনগণকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

জনসভায় বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।