• ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

৩০ লাখেরও বেশি নথি উন্মুক্ত করলো যুক্তরাষ্ট্র, অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন অন্ধকার আদিম যুগের বাসিন্দা

Usbnews.
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
৩০ লাখেরও বেশি নথি উন্মুক্ত করলো যুক্তরাষ্ট্র,  অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন অন্ধকার আদিম যুগের বাসিন্দা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের একজন ‘ব্যক্তিগত হ্যাকার’ ছিল, এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সম্প্রতি প্রকাশ করা এক নথিতে।

২০১৭ সালে এক গোপন তথ্যদাতা এফবিআইকে এই তথ্য দেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এ নিয়ে প্রযুক্তি সাইট ওয়্যার্ডে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, এটি এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তের নথি প্রকাশের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।

মার্কিন বিচার বিভাগ শুক্রবার ওই নথি প্রকাশ করেছে।

নথিতে অভিযুক্ত হ্যাকারের নাম উল্লেখ নেই, তবে তার বিষয়ে কিছু তথ্য দেওয়া আছে।

তথ্যদাতার দাবি অনুযায়ী, ওই হ্যাকার ইতালির দক্ষিণাঞ্চল কালাব্রিয়ায় জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তি। তিনি আইওএস, ব্ল্যাকবেরি ডিভাইস এবং ফায়ারফক্স ব্রাউজারের দুর্বলতা খুঁজে বের করার কাজে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি জিরো-ডে এক্সপ্লয়েট ও আক্রমণাত্মক সাইবার টুল তৈরি করতেন এবং সেগুলো বিভিন্ন দেশের কাছে বিক্রি করতেন। এসব দেশের মধ্যে নাম প্রকাশ না করা মধ্য আফ্রিকার একটি সরকার, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে।

‘আমি কোনো যৌন শিকারি নই, আমি একজন “অপরাধী”—একজন খুনি আর যে রুটি চুরি করে, তাদের মধ্যে যতটুকু পার্থক্য।’ ২০১১ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইন।

নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। তখন তিনি জামিনের সুযোগ ছাড়াই যৌন পাচারের মামলায় বিচার শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন। ওই মামলায় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।

এপস্টেইন কাণ্ডে ৩০ লাখ নথি প্রকাশ, আসলে কী লুকানো ছিল?

(সংগৃহীত ছবি – যৌন অপরাধী ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইন)

বিশ্ব প্রভাবশালীদের বিভৎসতার নগ্ন চিত্র
এর এক দশকেরও বেশি সময় আগে অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাভোগ করেন এপস্টেইন। সে সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়।

পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—যৌনতার উদ্দেশ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে একটি ‘বিস্তৃত নেটওয়ার্ক’ পরিচালনা করতেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত ভিডিও ও ছবিসমৃদ্ধ নতুন একটি বিশাল নথি ভাণ্ডার উন্মুক্ত করেছে। জেফ্রি এপস্টেইনের বিচারকার্যের ব্যপারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কংগ্রেসের একটি আইনি নির্দেশনার অংশ হিসেবে এই নথিগুলো উন্মুক্ত করা হলো। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আজকের প্রকাশনের মাধ্যমে একটি ব্যাপক নথি শনাক্তকরণ ও পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন হলো, যাতে জনগণের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় এবং আইন মেনে চলা যায়।” তিনি জানান, বিচার বিভাগ কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকে, যার মধ্যে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও আছেন, রক্ষা করার চেষ্টা করেনি।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আজকের এই নথি উন্মুক্তকরণের মাধ্যমে এপস্টেইন সংক্রান্ত সকল নথি শনাক্তকরণ ও পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন হলো। এর ফলে জনগণের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব হবে।” তিনি জানান, বিচার বিভাগ কোন প্রভাবশালী ব্যক্তিকেই, এমনকি ট্রাম্পকেও রক্ষা করার চেষ্টা করেনি।

উন্মুক্তকৃত নথির মধ্যে ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠায় লিখিত নথি, সাথে ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি রয়েছে। এপস্টেইনের যৌন নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং চলমান তদন্তের স্বার্থে সংবেদনশীল তথ্যগুলো এই নথিভাণ্ডারে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। ভিডিও ও ছবিতে গিসলেন ম্যাক্সওয়েল ছাড়া বাকি সব নারীর পরিচয়ই অস্পষ্ট (ব্লার) করে দেওয়া হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা কিছু নথি প্রকাশ না করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এপস্টেইন সংক্রান্ত এসব নথি উন্মুক্তকরণের পেছনের কারিগর, ডেমোক্র্যাট নেতা রো খানা উল্লেখ করেন, সম্ভাব্য ৬০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার মধ্যে মাত্র ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা পর্যালোচনার পর প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার দাবি করেছেন, ট্রাম্প-সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশ করা হয়েছে কি না তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম শত শতবার উল্লেখ রয়েছে। এপস্টেইনের সঙ্গে তার একসময় বন্ধুত্ব থাকলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, বহু আগেই সেই সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় এবং তিনি এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কিছু জানতেন না। তবে ওই নথিতে মেয়েদের যৌন পাচারে সহযোগিতা ও বিকৃত যৌনাচারের বিষয়ে স্পষ্ট কোন তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

নথিতে ইলন মাস্ক ও এপস্টেইনের ইমেইল যোগাযোগও রয়েছে। একইসাথে বিল গেটসের বিরুদ্ধে এপস্টেইনের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য নথিতে উঠেছে। ক্যালেন্ডার গার্ল অনুষ্ঠানে এক রুশ তরুণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে যৌনবাহিত রোগে (STDs) আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা যায়।

শুধু বিল গেটসই না, জোহরান মামদানীর মাকে এসব পাশবিক অনুষ্ঠানে যোগদানে ছবি প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামও উঠে এসেছে বিভৎস এই অপরাধ জগতের নথিতে। বিশ্বের প্রভাবশালী নারী পাচারকারী এ চক্রের সাথে জড়িত আমেরিকার রাজনীতিবিদদের ক্যাম্পেইনে অনুদান দিয়েছিল বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ আসন্ন নির্বাচনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বিএনপির নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

পূর্বে উন্মুক্তকৃত নথি ভাণ্ডারে ট্রাম্পের নব্বইয়ের দশকে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেট বিমানে ভ্রমণের ফ্লাইট লগ পাওয়া গেছে। একই নথি ভাণ্ডারে বিল গেটস, স্টিভ বেনন, উডি অ্যালেন, বিল ক্লিনটন ইত্যাদি ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে এপস্টেইনের দেখা-সাক্ষাৎ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন করে উন্মুক্তকৃত তথ্য ভাণ্ডারে ইলন মাস্ক, স্টিভ বেননসহ অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে এপস্টেইনের ইমেইল আদান-প্রদান, টেক্সট মেসেজ, তদন্ত সংক্রান্ত নথি, এপস্টেইনের কারাবাস ও মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্যও রয়েছে।

এপস্টাইন আগস্ট ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের জেলে আত্মহত্যা করেন, এক মাস পর তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি নারী পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল। গিসলেন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন, তবে প্রকাশিত নথিতে নাম থাকা অন্যান্য সকল ব্যক্তি, এমনকি প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

নতুন উন্মুক্তকৃত নথি ভাণ্ডার এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট এর অন্তর্গত, যা নভেম্বর ২০২৫ এ সিনেটে উভয় দলের সমর্থনে পাস হয়েছিল। এই আইনের উদ্দেশ্য সব আইনি ও রাষ্ট্রীয় নথি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্তকরণ নিশ্চিত করা।

 

২০০৫ সালে, ফ্লোরিডার পাম বিচের পুলিশ এপস্টিনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে যখন একজন অভিভাবক অভিযোগ করেন যে এপস্টিন তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে যৌন নির্যাতন করেছেন। ফেডারেল কর্মকর্তারা ৩৬ জন মেয়েকে শনাক্ত করেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন ১৪ বছরেরও কম বয়সী ছিল, যাদের উপর এপস্টিন যৌন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এপস্টিন দোষ স্বীকার করেন এবং ২০০৮ সালে ফ্লোরিডার একটি রাজ্য আদালত তাকে পতিতাবৃত্তির জন্য একটি শিশু সংগ্রহ এবং একজন পতিতাবৃত্তির জন্য প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। মার্কিন বিচার বিভাগের অ্যালেক্স অ্যাকোস্টা কর্তৃক সম্মত একটি বিতর্কিত আবেদন চুক্তির অংশ হিসাবে তাকে কেবল এই দুটি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং প্রায় ১৩ মাস হেফাজতে কাটান কিন্তু ব্যাপক কাজের শর্তে মুক্তি পান।

Hosenball, Mark (২৮ আগস্ট ২০১৯) “FBI studies two broken cameras outside cell where Epstein died: সূত্র মতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে যে এপস্টিন তার জেল কক্ষে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন। তবে, যখন বিচার বিভাগ ফুটেজটি প্রকাশ করে, তখন এর প্রায় ২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ফুটেজটি অনুপস্থিত ছিল, এবং এফবিআইয়ের দাবি সত্ত্বেও ভিডিওটি পরিবর্তিত বলে প্রমাণিত হয়। “Jeffrey Epstein prison video metadata reveals nearly 3 minutes of footage removed by FBI”। The Economic Times। ১৬ জুলাই ২০২৫ একই কথা জানায়।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, এপস্টিন শতকোটিপতিদের কর পরিষেবা প্রদান করে তার সম্পদের অনেকটাই অর্জন করেছিলেন। Goldstein, Matthew (১৫ জানুয়ারি ২০২৫)। “Jeffrey Epstein’s Associates Could Reap Benefit of a Big Tax Refund” তিনি একজন বিখ্যাত সামাজিক নেটওয়ার্কারও ছিলেন, যার বিশাল নেটওয়ার্কে ছিলেন ব্যবসায়ী, রাজপরিবারের সদস্য, রাজনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদরা। প্রিন্স অ্যান্ড্রু, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন এবং নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মেরিট সহ জন ব্যক্তিত্বদের সাথে তার বন্ধুত্ব উল্লেখযোগ্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাউস ডেমোক্র্যাটদের দ্বারা প্রকাশিত নথিগুলিতে দেখা যায় যে তিনি পিটার থিয়েল, ইলন মাস্ক, বিল গেটস এবং স্টিভ ব্যাননের সাথে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

জেফরি এপস্টেইন একইসাথে ইসরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যও ছিলেন। তিনি এবং তার ওয়াইফ মিলে ফ্লোরিডার গোপন এক দ্বীপে পাচারকৃত অল্পবয়সী তরুণীদের নিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য আয়োজন করতেন এক পাশবিক অনুষ্ঠান। তারা অনুষ্ঠানের নাম দিয়েছিল ক্যালেন্ডার গার্ল। এই অনুষ্ঠানে নামি দামী রাজনীতিবীদ, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে, গায়ক, বিজ্ঞানী সব রকমের মানুষজন থাকতো। বিল গেটস, ডোনান্ড ট্রাম, প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য, বব শাপিরো সহ আরও অনেকেই।

এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক

২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুমোদন করে। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইনে সই করেন এবং বিচার বিভাগকে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে এপস্টেইন–সংক্রান্ত সব তদন্ত নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্ধারিত দিনে কিছু নথি প্রকাশ করা হলেও বেশিরভাগ উপকরণ তখনও গোপন থাকে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে আরও নথি প্রকাশ করা হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি নথিকে ‘অত্যন্ত বিস্তৃত পরিসরে নথি শনাক্ত ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার সমাপ্তি’ বলে উল্লেখ করেন। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটসহ বিভিন্ন মহলের দাবি—যথাযথ কারণ ছাড়াই বহু নথি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এ পর্যন্ত প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের বিলাসী জীবনযাপন এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগের নানা তথ্য উঠে এসেছে।

 

তথ্যদাতা এফবিআই-এর কাছে আরও প্রকাশ করেছেন, এপস্টেইনের ওই হ্যাকার লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীকে একটি ‘জিরো-ডে’ হ্যাকিং টুল বিক্রি করেছিলেন, যার বিনিময়ে তিনি “নগদ অর্থভর্তি একটি ট্রাঙ্ক” পেয়েছিলেন।

তথ্যদাতার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হ্যাকার “দুর্বলতা খুঁজে বের করতে খুবই দক্ষ ছিলেন”। তবে নথিতে থাকা তথ্যগুলো সরাসরি এফবিআইয়ের যাচাই করা নয়, বরং শুধুই তথ্যদাতার অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে এসব তথ্য ও অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা স্পষ্ট নয়।

টেকক্রাঞ্চের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে এফবিআই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একইভাবে মার্কিন বিচার বিভাগও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

শুক্রবার বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, এপস্টেইন-সংক্রান্ত ফাইল থেকে অতিরিক্ত ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন প্রকাশিত এসব নথির মধ্যে অনেক অংশই কালো করে দেওয়া। এতে রয়েছে দুই হাজারের বেশি ভিডিও এবং এক লাখ ৮০ হাজার ছবি।

 

Shallwani, Pervaiz; Briquelet, Kate (৬ জুলাই ২০১৯)। “Jeffrey Epstein Arrested for Sex Trafficking of Minors”। The Daily Beast। ৭ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৯ সূত্রে জানা যায় ,

Shallwani, Pervaiz; Briquelet, Kate (৬ জুলাই ২০১৯)। “Jeffrey Epstein Arrested for Sex Trafficking of Minors”। The Daily Beast। ৭ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৯ সূত্রে জানা যায় এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, এপস্টিন শতকোটিপতিদের কর পরিষেবা প্রদান করে তার সম্পদের অনেকটাই অর্জন করেছিলেন। তিনি একজন বিখ্যাত সামাজিক নেটওয়ার্কারও ছিলেন, যার বিশাল নেটওয়ার্কে ছিলেন ব্যবসায়ী, রাজপরিবারের সদস্য, রাজনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদরা। প্রিন্স অ্যান্ড্রু, ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন এবং নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মেরিট সহ জন ব্যক্তিত্বদের সাথে তার বন্ধুত্ব উল্লেখযোগ্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হাউস ডেমোক্র্যাটদের দ্বারা প্রকাশিত নথিগুলিতে দেখা যায় যে তিনি পিটার থিয়েল, ইলন মাস্ক, বিল গেটস এবং স্টিভ ব্যাননের সাথে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।

 

শিক্ষকতা থেকে ওয়াল স্ট্রিট

নিউইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এপস্টেইন ১৯৭০–এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শহরের অভিজাত ডালটন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি এসব বিষয় অধ্যয়ন করলেও স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি।

এক শিক্ষার্থীর বাবার মাধ্যমে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগ ব্যাংক বেয়ার স্টার্নসের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। চার বছরের মধ্যেই তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন। ১৯৮২ সালে তিনি ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কো’ নামে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

এক সময় ওই প্রতিষ্ঠান এক বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হন এপস্টেইন। ফ্লোরিডায় প্রাসাদসম বাড়ি, নিউ মেক্সিকোতে র‍্যাঞ্চ এবং নিউইয়র্কে বড় ব্যক্তিগত বাসভবনের মালিকানাও তার ছিল।

গিলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে মামলা
এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তাঁর সাবেক প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েল খবরের শিরোনামে চলে আসেন।

২০২০ সালের জুলাইয়ে নিউ হ্যাম্পশায়ারে গিলেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, কম বয়সীদের যৌনকর্মে বাধ্য করতে তিনি এপস্টেইনকে সহযোগিতা করতেন। তিনি প্রলোভন দেখিয়ে কম বয়সী মেয়েদের যৌনকর্মের জন্য প্রস্তুত করে তুলতেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক নগরের এক জুরি গিলেনকে ছয়টির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ছিল–একজন কিশোরীকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার।

গিলেনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থাৎ ৬০ বছর বয়সী গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে জীবনের বাকি সময় কারাগারে কাটাতে হবে।

অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা গিলেন ম্যাক্সওয়েল তাঁর বহু ধনী ও ক্ষমতাধর বন্ধুদের সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে বিল ক্লিনটন এবং অ্যান্ড্রুও আছেন।

ঘনিষ্ঠজনেরা বলেছেন, গিলেন ও এপস্টেইনের মধ্যকার প্রেমের সম্পর্ক কয়েক বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি। তবে এরপরও তিনি অনেক দিন এপস্টেইনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে গেছেন।

আদালতের নথিতে দেখা যায়, পাম বিচে এপস্টেইনের প্রাসাদের সাবেক কর্মচারীরা গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে ঘরের ব্যবস্থাপক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কর্মচারীদের তদারক করতেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা করতেন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের দায়িত্বে থাকতেন।

২০০৩ সালে ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত এক প্রোফাইলে এপস্টেইন বলেছিলেন, গিলেন ম্যাক্সওয়েল তাঁর বেতনভুক্ত কর্মী ছিলেন না, বরং সেরা বন্ধু ছিলেন।

তবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর গিলেন কিছুটা অনুতাপ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা হওয়াটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখজনক ঘটনা।’

গিলেন ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তাঁরা আবেদন করেন, তাঁদের মক্কেলকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা উচিত হয়নি। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সে আপিল খারিজ করে দিয়েছেন।

 

প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ

২০০২ সালে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রোফাইলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এপস্টেইনকে ‘দারুণ মানুষ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এপস্টেইন তার মতোই সুন্দরী নারীদের পছন্দ করেন, যাদের অনেকেই তুলনামূলক কম বয়সী।

পরে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০০০–এর দশকের শুরুতেই এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়—এপস্টেইনের প্রথম গ্রেপ্তারের বহু আগেই। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে ট্রাম্প তাকে তার ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অভিনেতা কেভিন স্পেসি ও ক্রিস টাকারের যোগাযোগের তথ্যও নথিতে এসেছে। এছাড়া ২০০৩ সালে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ কোটি ডলার অনুদান দেন।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিক পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গেও এপস্টেইনের বন্ধুত্ব ছিল। ম্যান্ডেলসন পরে এই সম্পর্ককে নিজের জীবনের জন্য অনুতাপের কারণ বলে উল্লেখ করেন। ওই সম্পর্কের জেরে ২০২৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের পদ হারান এবং পরে লেবার পার্টি থেকেও পদত্যাগ করেন।

২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় এক ১৪ বছর বয়সী মেয়ের পরিবার অভিযোগ করে—এপস্টেইন তাদের মেয়েকে নিজের পাম বিচের বাড়িতে যৌন নিপীড়ন করেছেন। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে বাড়িতে বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মেয়ের ছবি পায়।

পরবর্তীতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর এপস্টেইনের নির্যাতন বহু বছর ধরেই চলছিল। পাম বিচ পুলিশের তৎকালীন প্রধান জানান, অভিযোগকারীদের বক্তব্যে বিস্তর মিল পাওয়া গেছে।

তবে ২০০৮ সালে প্রসিকিউটররা এপস্টেইনের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছান। এতে তিনি ফেডারেল অভিযোগ এড়িয়ে যান, যার শাস্তি হতে পারত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এর বদলে তাকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যার সময় তিনি সপ্তাহে ছয় দিন অফিসে যাওয়ার সুযোগ পান। ১৩ মাস পর তাকে প্রবেশনে মুক্তি দেওয়া হয়।

এই সমঝোতাকে পরে একাধিক প্রতিবেদনে ‘শতাব্দীর চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সমালোচকদের মতে, এর মাধ্যমে এপস্টেইনের অপরাধের প্রকৃত ব্যাপ্তি আড়াল হয়ে যায়।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু বিতর্ক

২০১০ সালে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এপস্টেইনের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর একটি ছবি প্রকাশ পেলে বিতর্ক শুরু হয়।

২০১৯ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রিন্স অ্যান্ড্রু বলেন, তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতেই নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন। তবে ওই সফরে এপস্টেইনের বাড়িতে থাকা নিয়ে তিনি অনুতপ্ত বলেও জানান।

এপস্টেইনের এক অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে দাবি করেন, ১৭ বছর বয়সে তাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল। প্রিন্স অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করলেও ২০২২ সালে ওই মামলায় আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছান।

ট্রাম্পের চোখে তিনি ‘দারুণ মানুষ’
নিউইয়র্কেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা এপস্টেইন ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শহরের প্রাইভেট ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। তিনি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত নিয়ে পড়েছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত স্নাতক শেষ করতে পারেননি।

এক শিক্ষার্থীর বাবা এপস্টেইনের প্রতি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগ ব্যাংক বিয়ার স্টিয়ার্নসের এক জ্যেষ্ঠ অংশীদারের সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এপস্টেইন চার বছরের মধ্যে সেখানকার অংশীদার হয়ে যান।

১৯৮২ সাল নাগাদ এপস্টেইন তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

এই কোম্পানিটি এমন সব গ্রাহকের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করত, যার মূল্য ১০০ কোটি ডলারের (৮০ কোটি পাউন্ড) বেশি। কোম্পানিটি দ্রুতই সাফল্য পায়। এপস্টেইনও তখন তাঁর ভাগ্য গড়তে শুরু করেন।

দ্রুতই এপস্টেইন ফ্লোরিডায় একটি প্রাসাদ, নিউ মেক্সিকোতে একটি খামার কিনে নেন এবং তারকা, শিল্পী ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সামাজিকভাবে মিশতে থাকেন। কথিত আছে, নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত বাড়িটির মালিকও তিনি।

২০০২ সালে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এপস্টেইন সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি জেফকে ১৫ বছর ধরে চিনি। তিনি দারুণ মানুষ। তাঁর সঙ্গে থাকাটা খুবই মজার। বলা হয়, তিনি সুন্দরী নারীদের পছন্দ করেন, যেমনটা আমি করি। এ ক্ষেত্রে কম বয়সীদের পাল্লাটাই বেশি ভারী।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘নিঃসন্দেহে জেফরি তাঁর সামাজিক জীবন উপভোগ করেন।’

অবশ্য প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতে অর্থাৎ এপস্টেইন প্রথমবার গ্রেপ্তার হওয়ার অনেক বছর আগেই দুজনের সম্পর্ক খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এপস্টেইনের সঙ্গে মিলে কোনো অপরাধ করেননি বলে বারবারই দাবি করে আসছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসও বলেছে, ট্রাম্প কয়েক দশক আগে এপস্টেইনকে তাঁর ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন। কারণ, তিনি (এপস্টেইন) তাঁর নারী কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছিলেন।

ট্রাম্পের পাশাপাশি আরও কয়েকজন অভিজাত ব্যক্তির সঙ্গেও এপস্টেইনের বন্ধুত্ব ছিল। তবে, তার মানে এই নয় যে ওই সব ব্যক্তি অপরাধে জড়িত ছিলেন।

২০০২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং অভিনেতা কেভিন স্পেসি ও ক্রিস টাকারকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে আফ্রিকায় নিয়ে যান এপস্টেইন। ২০০৩ সালে তিনি তৎকালীন চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়েইনস্টিনের সঙ্গে মিলে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের মালিকানা কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। একই বছর তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ কোটি ডলার অনুদান দেন।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদ পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গেও এপস্টেইনের বন্ধুত্ব ছিল। পরে অবশ্য ম্যান্ডেলসন এ বন্ধুত্ব নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। একে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, গতকাল রোববার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি থেকেও সরে যেতে হয়েছে তাঁকে।

তবে এপস্টেইন নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে গোপন রাখার চেষ্টা করতেন। শোনা যায়, তিনি সামাজিক অনুষ্ঠান বা রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ এড়িয়ে চলতেন।

মিস সুইডেন বিজয়ী ইভা অ্যান্ডারসন ডুবিন ও গিলেন ম্যাক্সওয়েলের মতো নারীদের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে কখনো বিয়ে করেননি। গিলেন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন প্রকাশক রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের মেয়ে।

গ্রেপ্তার ও মৃত্যু

২০১৯ সালের ৬ জুলাই প্যারিস থেকে নিউইয়র্কে ফেরার পর এপস্টেইনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করলে তাকে মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে রাখা হয়।

ওই বছরের ১০ আগস্ট কারাগারকক্ষে তার মৃত্যু হয়। এর ফলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচার–সংক্রান্ত মামলার বিচার আর কখনো শুরু হয়নি।

এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার সাবেক সঙ্গী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২১ সালে তাকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারে সহায়তার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

মামলার মাধ্যমে এপস্টেইন কেলেঙ্কারির একটি আইনি অধ্যায় শেষ হলেও, তার প্রভাব ও বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থায় এখনো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।