• ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রিজার্ভ সুরক্ষায় আরও ২০.৯০ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

Usbnews.
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬
রিজার্ভ সুরক্ষায় আরও ২০.৯০ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা নিরসন এবং স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার লক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে বাজারে ডলারের যে বাড়তি তারল্য সৃষ্টি হয়েছে, তা সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে, ডলারের দর ধরে রাখতে ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মার্কিন ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির মাধ্যমে ‘মাল্টিপল প্রাইস অকশন’ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত মোট ৪৭২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার কেনা হয়েছে, যার মধ্যে কেবল ফেব্রুয়ারি মাসেই এখন পর্যন্ত ৭৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাজারের এই বিশেষ ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “বাজারে এখন চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি। রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় বাজারমূল্য ধরে রাখতে গত জুলাই থেকে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।” মূলত অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায় এবং জাতীয় রিজার্ভের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহেও ধারাবাহিক বিরতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েক দফায় বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে। তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহের রোববার ২১ কোটি ৮৫ লাখ, বুধবার ১৭ কোটি ১০ লাখ এবং বৃহস্পতিবার ১৯ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৩০ পয়সায় স্থির রাখা হয়েছিল। সরকারের এই হস্তক্ষেপ মূলত রফতানি আয়ে গতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।