সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান : ৩৫ বছর পূর্ণ করে ৩৬তম বছরে পদার্পণ করল দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। ১৯৯১ সালের এই দিনে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি তিনটি বিভাগ, ১৩ জন শিক্ষক ও ২০৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পথচলা শুরু করেছিল।
প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক ব্যবস্থায়ও শাবিপ্রবি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পথিকৃৎ। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া, ই-পেমেন্টে সেমিস্টার ফি প্রদান, অনলাইন ক্লিয়ারেন্স, ডি-নথির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সাপোর্ট সার্ভিস সিস্টেম চালুর মতো উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ডিজিটাল সেবায় এগিয়ে রেখেছে।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ে সেই ছোট পরিসর এখন বিস্তৃত হয়ে সাতটি অনুষদের অধীনে ২৮টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ‘একুশে বাংলা কিবোর্ড’, কথা বলা রোবট ‘রিবো’, হাঁটতে সক্ষম রোবট ‘লি’ এবং চালকবিহীন ড্রোনসহ নানা উদ্ভাবন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনব্যাপী কর্মসূচি। পরে আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছে। বসন্তের আবহে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান : বর্তমানে সাতটি অ্যাকাডেমিক ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য তিনটি করে মোট ছয়টি আবাসিক হল রয়েছে। আবাসন সংকট নিরসনে এক হাজার আসনবিশিষ্ট দুটি নতুন হল নির্মাণাধীন। পাশাপাশি ছোট-বড় ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শাবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনামের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। বিদ্যমান সংকটগুলো সমাধানে আমরা কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণামুখী ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে ১৩টি নতুন বিভাগ ও একটি ইনস্টিটিউট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতায় শাবিপ্রবি আজ দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য নাম। ৩৬ বছরে পদার্পণের এই দিনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারই পুনর্ব্যক্ত করেছে।