ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হরিয়ানার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শীতের কাপড় পড়ে শত শত পুরুষ সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছেন। তারা সবাই জড়ো হয়েছেন
ইসরায়েলে কর্মী পাঠানোর জন্য একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে। গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজায় হামাসের হামলার পর ইসরায়েলে শ্রমের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই ইসরায়েল চীন, ভারত এবং অন্যান্য জায়গা থেকে বিদেশি কর্মী আনার পরিকল্পনা করেছে।সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
এইচকেআরএন-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই কাজের জন্য আবেদনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা দশম শ্রেণি পাশ। বেতন মাসে ৬ হাজার ১০০ শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা)। ভারতীয় মুদ্রার হিসাবে যা দাঁড়ায় এক লাখ ৩৪ হাজার টাকার বেশি এবং বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি।
২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সসীমার মধ্যে যে কেউ এই কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে নির্মাণকাজে থাকতে হবে অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা। সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে নির্মাণ, কাঠের কাজ, মেঝেতে টাইলস বসানোর কাজ, লোহার কাজ, বহুতল নির্মাণের কাজ জানতে হবে আবেদনকারীদের।
কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল নির্মাণ খাতকে সম্প্রসারণের জন্য চীন, ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকে ৭০ হাজার কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এর জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল, যা এখনো চলছে। এই হামলার পর ইসরায়েল প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি শ্রমিককে নিষেধ করেছে। এ কারণে দেশটিতে শ্রমিকসংকট দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় অনেক রাজমিস্ত্রি, রং মিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান এবং কিছু কৃষক বলেছেন, তারা সংঘাতপূর্ণ ইসরায়েলে চাকরি নিতে ইচ্ছুক। কারণ তারা এক বছরে পাঁচগুণ বেশি অর্থ উপার্জন করতে পরবে সেখানে।রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ৬৬ কিলোমিটার (৪০ মাইল) দূরে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখানে বেকারত্ব আছে এবং এর কারণেই মানুষ চলে যেতে চাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, “আমাদের ভাগ্যে যদি মৃত্যু লেখা থাকে তবে, আমরা ভারতে বা অন্য কোনো জায়গাতেও মরতে পারি।
তাই আমরা যাব, ভাল কাজ করব এবং কিছু সময় ব্যয় করে আবার ফিরে আসব।”ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী নগরীতে বেকারত্বের হার ৬.৬ শতাংশ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র গত বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বলেছিলেন, ‘গত বছর সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
’ মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরো বলেছেন, ‘এই চুক্তির উদ্দেশ্য অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে যাওয়া লোকদের অধিকার সুরক্ষিত করার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা স্থাপন করা।’তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ইসরায়েলে শ্রম আইন খুবই কঠোর এবং দৃঢ়… আমরা বিদেশে আমাদের জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে খুবই সচেতন।’একটি ইসরায়েলি একটি সংবাদপত্র তাদের খবরে বলেছে, ‘ইসরায়েল নির্মাণ খাতকে আরো গতিশীল করার জন্য চীন, ভারত এবং অন্যান্য জায়গা থেকে প্রায় ৭০ হাজার বিদেশি কর্মী আনার পরিকল্পনা করেছে। কারণ এই খাত ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর থেকে স্থবির হয়ে পড়েছে।’ ভারতের ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন কর্মীদের ইসরায়েলে বসবাস ও কাজ করার জন্য প্রচার চালাচ্ছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগকারীরা এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
এদিকে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে হামলার পর প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি শ্রমিককে ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে দেশটি। এর পরেই শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ভারত থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে। উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানা চাকরির আবেদন গ্রহণ করতে শুরু করেছে এবং হরিয়ানার রোহতক শহরের মহর্ষি দয়ানন্দ বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার আবেদনপত্র গ্রহন করেছে। তবে দিল্লিতে ইসরায়েলি দূতাবাস এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।২৮ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি বলেছেন, তিনি ইসরায়েলে ঝুঁকি সম্পর্কে জানেন, তবে তিনি যদি বেশি উপার্জন করতে পারে তাহলে এই ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক।
তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি ইসরায়েলে ঘটা সংঘাত সম্পর্কে সচেতন, তবে আমি অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারব।” তিনি ধারণা করছেন, ইসরায়েলে কাজ করে বছরে এক মিলিয়ন ভারতীয় রুপির ( ১২ হাজার ডলার) বেশি উপার্জন করতে পারেন। তিনি বলেন, “ভারতে একই পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে আমার কমপক্ষে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।”ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩ মিলিয়ন ভারতীয় নাগরিক বিদেশে শ্রমিক এবং বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ইসরায়েল এবং ভারতের মধ্যে গত বছর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে। যেখানে ৪০ হাজারের বেশি ভারতীয়কে নার্সিং এবং নির্মাণ খাতে ইহুদি রাষ্ট্রে কাজ করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।জানা গেছে, ইসরায়েল ভারত থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ দেবে। উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা চাকরির আবেদন গ্রহণ করছে। হরিয়ানার রোহতক শহরের মহর্ষি দয়ানন্দ বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার আবেদনকারীর পরীক্ষার আয়োজন করছে। তবে এ বিষয়ে দিল্লিতে ইসরায়েল দূতাবাস কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।