• ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বানে ব্রিটেন-জার্মানি-গ্রিসের না, সফরের আগে চীনকে শর্ত দিলেন ট্রাম্প

Usbnews.
প্রকাশিত মার্চ ১৬, ২০২৬
ট্রাম্পের সহায়তার আহ্বানে ব্রিটেন-জার্মানি-গ্রিসের না, সফরের আগে চীনকে  শর্ত দিলেন ট্রাম্প
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

চলতি মাসের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফর এবং প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে চীন। আজ সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সম্ভাব্য আলোচনায় বাণিজ্য ইস্যুটিই প্রাধান্য পাবে।

তবে আসন্ন সফরের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শর্ত দিয়েছেন, বেইজিং যদি পুনরায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সহায়তা না করে, তবে তিনি সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক পিছিয়ে দিতে পারেন। এমনকি তাঁর এই অনুরোধ না মানলে তা চীনের মিত্র ‘ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত খারাপ’ হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফর নিয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটন নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের কূটনীতি একটি অপূরণীয় কৌশলগত নির্দেশকের ভূমিকা পালন করে।

তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ন্যাটো এবং চীনের ওপর দেওয়া চাপের বিষয়ে লিন জিয়ান সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। হরমুজ প্রণালি সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ‘উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট এবং জ্বালানি সরবরাহকে বিঘ্নিত করেছে।

যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে নিজ দেশের না জড়ানোর বিষয়ে ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।

একদিন আগে সতর্ক করে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাজ্যসহ মিত্র দেশগুলো যদি এই অঞ্চলে সামরিক সহায়তা প্রদান না করে, তাহলে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ট্রাম্পের এমন হুমকির পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাই যুক্তরাজ্যের প্রধান অগ্রাধিকার।

ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ট্রাম্প ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করবেন। তবে বেইজিং এখনো তারিখ নিশ্চিত করেনি। এই সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে প্যারিসে দুই দেশের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র চীনসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে। জোরপূর্বক শ্রম এবং অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতার অভিযোগে এই তদন্ত শুরু হয়েছে, যা নতুন করে শুল্ক আরোপের পথ খুলে দিতে পারে।

এর প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে তাদের ‘ভুল’ বাণিজ্য নীতি সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ‘একপেশে, স্বেচ্ছাচারী এবং বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছে।