যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ক্যারিশম্যাটিক, প্রতিভাবান এবং ব্যাপক জনপ্রিয় নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের পতন ঘটিয়েছে, যিনি তার বিশ্ব ক্রিকেটে আসামান্য অবদান এবং জনগণের সাথে তার নিবিড় সম্পর্কের জন্য বিখ্যাত। খানের জনপ্রিয়তা, স্বাতন্ত্র্য এবং বিপুল প্রতিভা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করে তোলে, যা মার্কিন নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন জনপ্রিয় নেতাদের প্রতি বৈরি।
ইমরান খানের অপরাধ ছিল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরপেক্ষ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাওয়া। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মহান মন্ত্র এবং সিআইএ-এর সক্রিয় নীতি হল যে, একজন বিদেশী নেতা ‹হয় আমাদের পক্ষে বা নচেৎ আমাদের বিরুদ্ধে।› কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে ‹নিরপেক্ষ’ একটি ‘আক্রমণাত্মকভাবে ইতিবাচক’ শব্দ। এবং যেসব নেতারা মহান শক্তিগুলির মধ্যে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেন, তারা মার্কিন প্ররোচনায় তাদের অবস্থান, এমনকি তাদের জীবন হারানোর মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন।
উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক নেতার মতো, খান ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাননি। শুরু থেকেই তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন যে ইউক্রেনের সঙ্ঘাত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তে আলোচনার টেবিলে নিষ্পত্তি করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ পুতিনের বিরুদ্ধে দাড়াতে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করার জন্য খান সহ বিদেশী নেতাদের চাপে ফেলেছিল। তবুও খান প্রতিবাদ করেছিলেন।
ইমরান খানের ভাগ্য সম্ভবত ৬ মার্চ উত্তর পাকিস্তানে একটি বড় সমাবেশ করার সময় নির্ধারিত হয়ে যায়, যেখানে তিনি জাতিসংঘে একটি ভোটে রাশিয়ার নিন্দা করার জন্য তাকে চাপ দেওয়ার জন্য পশ্চিমাদের এবং বিশেষত ২২ ইইউ রাষ্ট্রদূতদের সমালোচনা করেছিলেন। খান প্রতিবেশি আফগানিস্তানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ন্যাটোর যুদ্ধকে পাকিস্তানের জন্য সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক বলে অভিহিত করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, পাকিস্তানের দুর্ভোগের জন্য কোন স্বীকৃতি, মর্যাদা বা উপলব্ধি পশ্চিমাদের নেই।
ইমরান খান সেই সমাবেশে উল্লাসিত জনতাকে বলেছিলেন, ‘ইইউ রাষ্ট্রদূতরা আমাদের কাছে একটি চিঠি লিখে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা ও ভোট দিতে বলেছেন। আপনারা আমাদের কি ভাবেন? আমরা কি আপনাদের গোলাম যে আপনারা যা বলবেন, তাই করব? আমরা রাশিয়ার বন্ধু এবং আমরা আমেরিকারও বন্ধু। আমরা চীন এবং ইউরোপের সাথেও বন্ধু; আমরা কোন শিবিরভুক্ত না। পাকিস্তান নিরপেক্ষ থাকবে এবং যারা ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা করছে, তাদের সঙ্গে কাজ করবে।
২০২৩ সালের আগস্টে দ্য ইন্টারসেপ্টে এর অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ইমরান খানের জন্য একটি গুরুপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। খানের সমাবেশের ঠিক একদিন পর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী স্বরাষ্ট সচিব ডোনাল্ড লু যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ খানের সাথে ওয়াশিংটনে দেখা করেন। বৈঠকের পর মাজিদ ইসলামাবাদে একটি গোপন বার্তা পাঠান, যেটি তখন একজন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তা দ্য ইন্টারসেপ্টের কাছে ফাঁস করে দিয়েছিলেন।
ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে বিরোধীদের প্রার্থীতা বাধাগ্রস্ত করার প্রেক্ষিতে হত সপ্তায় দেশটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভেনিজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরো (প্রেসিডেন্ট) এবং তার প্রতিনিধিদের পদক্ষেপ, গণতান্ত্রিক বিরোধী দলের সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং প্রার্থীদের এই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেওয়া বার্বাডোসে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলির সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।’২০১৯ সালে ভেনিজুয়েলার উপর প্রথম তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর যুক্তরাষ্ট্র অক্টোবরে বার্বাডোসে মাদুরোর প্রশাসনের সাথে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির স্বীকৃতিস্বরূপ ওপেক সদস্য দেশটির জন্য ত্রাণ মঞ্জুর করেছিল যাতে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনুমতি দেওয়া এবং একটি সুষ্ঠু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের শর্তাবলী নির্ধারণ করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সবই আমাদের পাকিস্তানে নিয়ে আসে, যেখানে প্রমাণগুলি জোরালোভাবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন শাসনের দ্বিমুখি আচরণকে তুলে ধরে।
বার্তাটি বর্ণনা করে যে কীভাবে সহকারী সচিব লু প্রধানমন্ত্রী খানকে তার নিরপেক্ষ অবস্থানের জন্য তিরস্কার করেছিলেন। ক্যাবলটি লুকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘এখানে এবং ইউরোপের লোকেরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন যে পাকিস্তান কেন এমন আক্রমণাত্মকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান নিচ্ছে (ইউক্রেনের বিষয়ে), যদিও এমন অবস্থান সম্ভব হয়। এটা আমাদের কাছে এমন নিরপেক্ষ অবস্থান বলে মনে হয় না। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট সফল হলে ওয়াশিংটনে সব ক্ষমা করে দেয়া হবে, কারণ রাশিয়া সফরকে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যথায়, আমি মনে করি সামনে এগোনো কঠিন হবে।’
লু এর বৈঠকের পাঁচ সপ্তাহ পর ১০ এপ্রিল সংসদে অনাস্থা ভোটে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই, নতুন সরকার খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে গ্রেফতার করে এবং ক্ষমতায় ফিরে আসার সুযোগ বন্ধ করে দেয়। এবং, যখন খান কূটনৈতিক বার্তাটির মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্রে আমেরিকার ভূমিকা প্রকাশ করেন, তখন খানের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়।
ইমরান খানকে এই অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। পাকিস্তান ৮ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে মধ্যে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক নেতা ইমরান খান কারাগারে এবং তার দল লাগাতার আক্রমণ, রাজনৈতিক হত্যা, প্রচার নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য চরম দমন-পীড়নের সম্মুখীন। ভেনেজুয়েলাতে তৎপর হলেও মার্কিন সরকার খানের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে বলেছে, ‹এটি পাকিস্তানি আদালতের বিষয়।›
মার্কিন সরকার তার সুযোগ পেয়েছে এবং ২৪ কোটি মানুষের একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশকে গভীরভাবে অস্থিতিশীল করে রেখেছে, যেখানে কারাগার থেকে ইমরান খানের মুক্তি এবং আসন্ন নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে পারতো।
২৪ কোটি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তানে এ নিয়ে একটানা তৃতীয়বার সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে। সামরিক শাসন ও স্বৈরশাসনের ইতিহাসের নিরিখে দেখতে গেলে এটা সে দেশের জন্য একটা বড় বিষয়। যদিও পাকিস্তানে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সামরিক হস্তক্ষেপে।বর্তমানে পাকিস্তানের এক সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগারে, আরেকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে। পাকিস্তানে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে দীর্ঘদিন ধরে।
নওয়াজ শরিফ, পিএমএল (এন)
পাকিস্তানে আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নওয়াজ শরিফ। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন না। সে সময় তিনি জেলে ছিলেন। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সে বছর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি।
শারীরিক সমস্যার কারণে ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। নিজের দেশে ফিরে আসেন গত বছর। এর মাঝে, ২০২২ সালে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফ দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
নওয়াজ শরিফকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্ত করা হয় ২০২৪ সালের নির্বাচনের কয়েক মাস আগে। একই সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে তার উপরে থাকা আজীবন নিষেধাজ্ঞাকেও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের অনেকেই মনে করেন, নওয়াজ শরিফের চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় আসার পথটাকে প্রশস্ত করেছে ইমরান খানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান দূরত্ব।
নওয়াজ শরিফ অবশ্য জানেন, সেনাবাহিনীর জন্য কিন্তু পালা বদলে যেতে পারে। তৃতীয় মেয়াদের (২০১৩) সময় থেকে নওয়াজ শরিফের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তুমুল টানাপোড়েন শুরু হয়। নওয়াজ শরিফও কিন্তু ক্ষমতা থেকে সরে যান।
এর আগে তার আমলে ১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থান হয়।
২০১৮ সালে ইমরান খানের ভাবমূর্তি তৈরি হচ্ছিল এমন একজন নেতা হিসেবে, যিনি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারেন।
ইমরান খান, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ
ক্রিকেট দুনিয়া থেকে রাজনীতিতে আসা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইমরান খান এখন কারাগারে। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তিনি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন। তার ক্ষমতায় আসা এবং সরে যাওয়ার গল্প কিন্তু সেই সেনাবাহিনীরই সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
২০১৮ সালে সমালোচকরা তাকে ‘সামরিক বাহিনীর মুখোশধারী’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। আর তিনি জেলে থাকাকালীন ইমরান খানের সমর্থকরা অভিযোগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাগারে থাকার পেছনে সেনাপ্রধানই দায়ী। অন্যদিকে ২০১৮ সালে ইমরান খানের ভাবমূর্তি তৈরি হচ্ছিল এমন একজন নেতা হিসেবে, যিনি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারেন।
ইমরান খান তার ভাষণে রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের অবসান, দুর্নীতিতে যুক্ত নেতাদের জেলে পাঠানো, বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, যুবকদের চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন।
কিন্তু তার শাসনকালে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়, জিনিসের দাম বেড়ে যায় এবং অনেক বিরোধী নেতাকে জেলে যেতে হয়। গণমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।
পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবানের শান্তি আলোচনায় স্বাক্ষর হোক বা আফগানিস্তানে তালেবান শাসনকে সমর্থন করা, একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে ইমরান খানকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
সাম্প্রতিককালে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা কমছে, এমন কথা বলেছেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে। তাদের মতে, জেলের বাইরে থাকলেও ২০২৩ সালে ইমরান খানের পরাজয় নিশ্চিত ছিল।
কিন্তু ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ‘গ্যালপের’ একটা সমীক্ষায় বলা হয়, ইমরান খান এখনো পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তবে গত ছয় মাসে নওয়াজ শরিফের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে।
পাকিস্তানে নির্বাচনি প্রচারের জন্য পিটিআইকে ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না এমন আশঙ্কাও রয়েছে। দলের অনেক বড় নেতা হয় জেলে আছেন কিংবা দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। পিটিআই নেতারা এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি ক্রিকেট ব্যাটের নির্বাচনি প্রতীকও দলের হাত থেকে চলে গিয়েছে।
বিলাওয়াল ভুট্টো, পিপিপি
গত নির্বাচনে তিন নম্বরে ছিল বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। তিনি দলটির চেয়ারম্যান। পাকিস্তানের মন্ত্রীও ছিলেন বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। সেই দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারির ছেলে তিনি। ২০০৭ সালে বেনজির ভুট্টোকে হত্যা করা হয়।
বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল লম্বা-চওড়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনে নেমেছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিগুণ বেতন, সরকারি ব্যয় কমানো, বাজেট বাড়ানোসহ একাধিক বিষয়।তার দল এই নীতি বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে বলে মনে হয় না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জোট সরকার তৈরি হলে তিনিই ‘কিংমেকার’ হতে পারেন।
বিবিসির সঙ্গে আলাপচারিতায় বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছিলেন, পিএমএল (এন) ও পিটিআইয়ের মধ্যে কোনো একজনকে বেছে নেওয়াটা বেশ কঠিন।
পাকিস্তানের রাজনীতি যারা কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের মতে- সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি কিন্তু গত ছয় বছরের তুলনায় খুব একটা বদলায়নি।
এবারো কয়েক ডজন প্রার্থীকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেকে জেলে আছেন অথবা বাধ্য হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।