• ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

চাশতের নামায

Usbnews.
প্রকাশিত মার্চ ১৭, ২০২৬
চাশতের নামায
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সেদিন একজনকে খুব আফসোসের সাথে বলতে শুনলাম, সময়ে কুলোয় না, তাই চাশতের নামায পড়তে পারি না। অযু করে বার রাকাত নামায পড়তে তো আর কম সময় লাগে না! বললাম, বার রাকাতই পড়তে হবে কেন? সে আশ্চর্য সুরে বলল, এর কমে কি চাশত হয়? আসলে এটি একটি ভুল ধারণা। বার রাকাতের কমেও চাশত পড়া যায়।

চাশতের নামাজের সময়

চাশতের নামাজকে সালাতুদ দুহাও বলা হয়। ‘দুহা’ শব্দের অর্থ ‘প্রভাত সূর্যের ঔজ্জ্বল্য’ যা সূর্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে শুরু হয়। সুতরাং দুহা বা চাশতের নামাজ সূর্যের তাপ যখন প্রখর হতে শুরু করে তখন এই নামাজ আদায় করা উত্তম। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, صلاة الأوابين حين ترمض الفصال ‘চাশতের নামাজ পড়া হবে যখন সূর্যের তাপ প্রখর হয়।’ (মুসলিম: ৭৪৮)

ইশরাকের নামাজের পরপরই চাশতের নামাজের সময় শুরু হয়। চাশতের নামাজের সময় হলো সূর্য উদিত হওয়ার ১৫ মিনিট পর থেকে দ্বিপ্রহরের ৫ মিনিট আগ পর্যন্ত।

চাশতের নামাজের নিয়ম

চাশতের নামাজের নিয়ম সাধারণ নফল নামাজের মতো। কোনো সুন্নত নামাজে যেমন দুই রাকাত পড়ে ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে থাকেন, এখানেও তেমনই।

সহীহ হাদীসে হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর আট রাকাত চাশতের নামায আদায় করলেন।’-সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস : ২৫৩১
আরেকটি হাদীসে হযরত আয়েশা রা. বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার রাকাত চাশত পড়তেন। আল্লাহ চান তো, এর চাইতে বেশিও পড়তেন।’-সহীহ মুসলিম হাদীস : ৭১৯

হযরত আবু যর রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়া-গ্রন্থির উপর সদকা রয়েছে। অতএব (এর জন্য) প্রত্যেক তাসবীহ সদকা হবে। প্রত্যেকটি তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ বলা) সদকা হবে, প্রত্যেকটি তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা) সদকা হবে, প্রত্যেকটি তাকবীর সদকা হবে, আমর বিল মারূফ সদকা হবে, নাহি আনিল মুনকার সদকা হবে। (অর্থাৎ এর প্রত্যেকটি দ্বারা ঐ সদকা আদায় করা যাবে।) আর এর প্রত্যেকটির জন্য চাশতের দু’রাকাত নামাযই যথেষ্ট হবে।’-সহীহ মুসলিম হাদীস : ৭২০
অতএব চাশতের নামায কমপক্ষে দু’রাকাতও পড়া যাবে। বেশি তো পড়া যাবেই।