• ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

১৩৮৪ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, প্রকাশ্যে বাড়ছে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার-হত্যাকাণ্ড

Usbnews.
প্রকাশিত মার্চ ১৯, ২০২৬
১৩৮৪ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, প্রকাশ্যে বাড়ছে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার-হত্যাকাণ্ড
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

খুলনার ঘটনাটি প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় রাশিফুল আনাম রাশু মার্কেটের ভেতরে একটি দোকানে বসে কেরাম খেলছিলেন। এ সময় দুই-তিনজন অজ্ঞাত পরিচয়ের যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। তিনটি গুলি রাশুর মাথা ও ঘাড়ে বিদ্ধ হয়। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই মার্কেটের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন রায় বলেছেন, ‘কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।’

রাশু হত্যার একদিন আগে গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত রাকিবুলের বাড়ি ভোলা সদরে। তাঁর বাবা তারিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের কর্মচারী। রাকিবুল রাজধানীর বোরহান উদ্দীন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় তার পরিবার মামলা করেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। হামলায় সাত থেকে আটজন অংশ নেয় এবং একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে তাঁদের ভাড়া করে ঢাকায় আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এর আগে গত ১০ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় গুলিতে নিহত হন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর আজিজুর রহমান মুছাব্বির। তার আগে গত ১৭ নভেম্বর মিরপুরের পল্লবীতে যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অপরাধের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সংগঠিত অপরাধ- সব মিলিয়ে সহিংসতার প্রবণতা বাড়ছে। জনজীবনের এই নিরাপত্তা সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, কার্যকর পুলিশিং, জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দ্রুত বিচার এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ না হলে অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করা কঠিন।

ড. উমর ফারুক বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সাধারণত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত অপরাধীদের ধরতে বিশেষ অভিযান চালায়। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপটে সেই ধরনের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।’

তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের কার্যকর ভূমিকা তুলে ধরেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এস এম নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং হচ্ছে। কিছু ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে।’

দিনে দিনে অপরাধ বাড়ছে

পুলিশ সদর দপ্তরের বিগত দুই বছরের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে খুনের মামলা ছিল ৩ হাজার ৪৩২টি, যা ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৭৮৬টি। অপহরণের ঘটনা ৬৪২টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১০১টি, যা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। ছিনতাইয়ের মামলা ১ হাজার ৪১২টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৩৫টি। একইভাবে ডাকাতি হয়েছে ৭০২টি এবং চুরি ৯ হাজার ৬৭২টি, যা আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ৪০ ও ১২ শতাংশ বেশি।

এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই দেশে ৫৩৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ছিনতাই ও অপহরণ গত দুই বছরের প্রথম দুই মাসের চেয়ে বেশি।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা গেলে দেশে সহিংস অপরাধের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।