যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল মিলে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরুর পর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘ইরানি শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামো’ ধ্বংস করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ইরানের ৭ হাজার ৮০০ টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে ৮ হাজারের বেশিবার যুদ্ধবিমান–ড্রোন–ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়ন পরিচালনা করেছে এবং ১২০ টিরও বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এখন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য আরও বাড়তি ২০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল চেয়েছে। এই অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার যোগ হলে যুদ্ধের পেছনে মার্কিন ব্যয় ইরানের বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অর্ধেকেরও বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৫ সালে ইরানের জিডিপি ছিল ৩৫৬ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য কংগ্রেস ইতোমধ্যে ৮৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে বলে জানিয়েছে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটি। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন হোয়াইট হাউসকে অনুরোধ করেছে যাতে তারা ইরান যুদ্ধের অর্থ জোগাতে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ অনুমোদনের আবেদন জানায়। এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তার সূত্রে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।
চূড়ান্তভাবে হোয়াইট হাউস আইনপ্রণেতাদের কাছে কত অর্থ অনুমোদনের জন্য চাইবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পত্রিকাটি বলেছে, এই অর্থায়ন অনুরোধ কংগ্রেসে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি করতে পারে, কারণ জনসমর্থন এখনো খুব উষ্ণ নয় এবং ডেমোক্র্যাটরা এ উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিপাবলিকানরা আসন্ন অতিরিক্ত বাজেট প্রস্তাবে সমর্থনের ইঙ্গিত দিলেও এখনো কোনো আইনগত কৌশলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি এবং সিনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের বাধা অতিক্রমের স্পষ্ট পথও খুঁজে পায়নি। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা এই অর্থায়ন অনুমোদিত হবে বলে নিশ্চিত নন। গত দুই সপ্তাহে পেন্টাগন বিভিন্ন ধরনের অর্থায়ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বলে জানা গেছে।
দ্বিতীয় বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ও পরেও ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য তাঁর পূর্বসূরি বাইডেন প্রশাসনকে বারবার আক্রমণ করেছেন। মার্কিন বিশেষ পরিদর্শক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যয়ের জন্য কংগ্রেস প্রায় ১৮৮ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছিল।
নতুন অর্থায়ন অনুমোদিত হলে, তা ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ সামরিক অভিযানের ব্যয়কেও ছাড়িয়ে যাবে।
গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত অর্থের আবেদন প্রস্তুত করতে শুরু করে। যুদ্ধ চলাকালেও বিশ্বজুড়ে সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে এই প্রক্রিয়া সাধারণত প্রয়োজন হয়।
পেন্টাগনের ভেতরে এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপপ্রতিরক্ষা সচিব স্টিভেন ফেইনবার্গ। গত এক বছর ধরে তিনি নির্ভুল অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। ফেইনবার্গের কার্যালয় পেন্টাগনের গোলাবারুদের ঘাটতি দ্রুত পূরণ এবং ধীরগতির প্রতিরক্ষা শিল্পে গতি আনতে একাধিক পরিকল্পনা প্যাকেজ তৈরি করেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।
ইরান যুদ্ধের আগেই ট্রাম্প ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। বুধবার ওয়াশিংটন পোস্ট এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পেন্টাগন হোয়াইট হাউসকে অনুরোধ করেছে যাতে তারা ইরান যুদ্ধের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ অনুমোদনের আবেদন করে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক অভিযানে এক ডজনের বেশি মানববিহীন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন নিখোঁজ বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে তাঁরা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
কর্মকর্তারা জানান, এসব ড্রোনের কিছু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভূপাতিত হয়েছে, আবার কিছু ড্রোন মাটিতে অবস্থানরত অবস্থায় শত্রুপক্ষের গোলাবর্ষণে ধ্বংস হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির এই রিপার ড্রোনগুলো মূলত নজরদারি বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হলেও প্রয়োজনে এগুলোতে অস্ত্রও সংযোজনও করা যায়।
বিশেষ করে, এই ড্রোনগুলোর ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব। ফলে এগুলো একাধারে নজরদারি ও হামলা—দুই ধরনের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত সংখ্যক রিপার ড্রোন হারানো থেকে বোঝা যায়, ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এই ধরনের ড্রোন মোতায়েন করেছে। কারণ একটি অভিযানে এত বেশি সংখ্যক ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, বৃহৎ পরিসরে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই ড্রোন হারানোর খবরটি প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
উল্লেখ্য, মার্কিন বিমানবাহিনী ২০২০ সালে রিপার ড্রোন কেনার জন্য সর্বশেষ পাঁচ বছরের চুক্তি ঘোষণা করেছিল। ড্রোনগুলো তৈরি করে ‘জেনারেল অ্যাটোমিকস’। প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫৭৫টি ড্রোন নির্মাণের পর গত বছর উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।
কোম্পানিটির মুখপাত্র সি মার্ক ব্রিঙ্কলির তথ্য অনুযায়ী—সর্বশেষ বিক্রয়ে চারটি ড্রোনের একটি ব্যাচের প্রতিটির দাম ছিল প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলার।
যুদ্ধ বন্ধে ইউরোপের চাপ
ইইউ জানিয়েছে হরমুজে তারা সাহায্য করবে না। উল্টো যুদ্ধ থামানোর আহ্বান।
যুদ্ধের বিরোধিতা করে কাউন্টার টেররিজম সেন্টার প্রধানের পদত্যাগ।
সামরিক নয়, হরমুজ নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান চেয়েছে জাতিসংঘ।