• ২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইরান যুদ্ধে ৩ মতপার্থক্য প্রকাশ্যে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর

Usbnews.
প্রকাশিত মার্চ ২০, ২০২৬
ইরান যুদ্ধে ৩ মতপার্থক্য প্রকাশ্যে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের সামরিক সমন্বয় থাকলেও, রাজনৈতিক পর্যায়ে লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে ভিন্নতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভক্তি আরও দৃশ্যমান হয়েছে। খবর স্কাই নিউজের

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থল অভিযান প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মনে করেন, শুধু আকাশ হামলায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না; প্রয়োজনে স্থল অভিযান দরকার হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো অবস্থাতেই সেনা পাঠাতে চান না। তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি এড়াতে চান তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধটি আশানুরূপ ফল না দেওয়ায় এখন এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন। ট্রাম্প নিজেই উপলব্ধি করছেন যে যুদ্ধটি বিশেষ ভালো অবস্থায় নেই এবং উত্তেজনার পারদ আরও চড়ানোর মতো বিকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ সমস্যাসংকুল। কারণ, ইরানের ওপর আঘাত হানার পাল্টা চড়া মাশুল দেশটিকেও দিতে হবে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি এক বিশ্লেষণে এমনটি বলেছেন।

তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে তাদের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তারা এমনভাবে হামলা চালানোর সাহস ও সামর্থ্য দেখিয়েছে যা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বিপর্যয় নামিয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সরাসরি প্রভাব মার্কিন অর্থনীতির ওপর পড়বে। এই ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া এই দুই দেশের মধ্যে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে আগ্রহী হলেও, যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই এ ধরনের পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়ে আসছে। ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে এ ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়েও দুই দেশের অবস্থান এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেখানে ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করতে চায়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী। ইরাক যুদ্ধ ও আফগানিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা মার্কিন জনমতকে এ ধরনের সংঘাতে নিরুৎসাহিত করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও ওয়াশিংটনের জন্য বড় বিবেচ্য বিষয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েল সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে থাকায় দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে দেখছেন।