• ২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

যুদ্ধবিরতি হলে হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে আগ্রহী জাপান

Usbnews.
প্রকাশিত মার্চ ২২, ২০২৬
যুদ্ধবিরতি হলে হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে আগ্রহী জাপান
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে যদি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের জন্য নিজেদের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে জাপান।

রোববার (২২ মার্চ) জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফুজি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোতেগি বলেন, এটি বর্তমানে একটি তাত্ত্বিক বিষয় হলেও যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং সমুদ্রপথে মাইনগুলো জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে জাপান অবশ্যই তা অপসারণে ভূমিকা রাখার কথা ভাববে। জাপানের এই নমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রুদ্ধ হয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় সচল করার ক্ষেত্রে একটি নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়া জাপানি জাহাজগুলোর চলাচলের জন্য তেহরানের সঙ্গে কোনো বিশেষ বা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার পরিকল্পনা টোকিও-র নেই বলে স্পষ্ট করেছেন মোতেগি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব দেশের জাহাজ যেন কোনো বাধা ছাড়াই এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারে, এমন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা বর্তমানে ‘অত্যন্ত জরুরি’।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার জাপানের কিয়োদো নিউজকে জানিয়েছিলেন, তিনি মোতেগির সঙ্গে জাপানি সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে জাপান কেবল নিজেদের সুবিধার চেয়ে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাপান তাদের প্রয়োজনীয় খনিজ তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান এই জলপথটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় জাপানের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা টোকিও-র জন্য একটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে কেবল যুদ্ধ পরবর্তী মাইন অপসারণের মতো রক্ষণাত্মক ও সাহায্যমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে জাপান বিশ্ব রাজনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন যখন মিত্রদের এই যুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে চাপ দিচ্ছে, তখন জাপানের এই কৌশলগত প্রস্তাবটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, জাপানের এই প্রস্তাব মূলত তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ের জন্যই একটি ইতিবাচক সংকেত। যদি যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয়, তবে সমুদ্রপথ পরিষ্কার করার এই প্রক্রিয়ায় জাপানের অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম এবং ইরানের পাল্টা হুমকির মুখে আদৌ কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। আপাতত জাপান পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখছে এবং নিজেদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প সব কূটনৈতিক পথ খোলা রাখছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান