• ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে জামায়াত আমির : বুকে চাপ নিয়ে নির্বাচন মেনে নিয়েছি , সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধন জাতির দাবি

Usbnews.
প্রকাশিত মার্চ ২২, ২০২৬
সিলেটে জামায়াত আমির : বুকে চাপ নিয়ে নির্বাচন মেনে নিয়েছি , সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধন জাতির দাবি
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান : পৃথিবীর অনেক দেশে সংবিধান পরিবর্তন হয় উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধন জাতির দাবি। আমাদের প্রত্যাশা সরকার এই দাবি দ্রুত পূরণ করবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদের একটি বড় অংশ বিদায় নিলেও এর কালো ছায়া এখনো রয়ে গেছে। জাতীয় নির্বাচন শেষে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশ ঘুরে দাঁড়ালেও সংকট এখনো কাটেনি। সমাজে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও প্রতিহিংসার প্রবণতা বিদ্যমান। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, যা দুঃখজনক। রাজনীতিবিদদের কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকায় মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি আস্থা কমে গেছে। একটি জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।

তিনি আজ রোববার সকালে সিলেট সার্কিট হাউজে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক অংশ নেন। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

এ সময় শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘গত নির্বাচনে ৬৫ শতাংশ মানুষ “হ্যাঁ” ভোট দিয়েছেন, তারা সংস্কার চান। কিন্তু মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। গণভোটের এক অংশ বাস্তবায়ন হলেও, আরেক অংশ এখন পর্যন্ত উপেক্ষিত রয়ে গেছে।’

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতি কার্যত ফ্যাসিবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি সংসদে ভাষণ দেবেন, তা আমরা চাইনি। রাষ্ট্রপতির প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের আপত্তি নেই, ব্যাক্তি সম্পর্কে আপত্তি আছে।’ এ বিষয় থেকে মুক্তি দিতে সরকারি দলের কাছে অনুরোধ জানান শফিকুর রহমান।

গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থায় মানুষের মধ্যে আবারও অনাস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জনগণের অর্থ ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবো। তবে জনগণের অধিকার রক্ষায় কোন আপস করবো না।

নতুন ও ইতিবাচক ধারার রাজনীতি তৈরি করতে গত নির্বাচন বর্জন করেননি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতের ধারায় আমরা নির্বাচনের সাথে সাথেই তা প্রত্যাখান করিনি। আমরা বলেছি, বুকে চাপ নিয়ে নির্বাচন মেনে নিয়েছি। তারপরও টিআইবি, সুজনের মতো সংগঠন নির্বাচন নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছে। আমরা মনে করি গত নির্বাচন কেমন হয়েছে তা বুঝার জন্য এসব প্রতিবেদন সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ও তার দলের শুভাকাঙ্ক্ষী মহলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো যথেষ্ট লোক রয়েছে।আমরা সরকারের ভালো কাজকে নৈতিক সমর্থন দেব, কিন্তু জনস্বার্থবিরোধী কিছু হলে আমরা তা মেনে নেব না।রাজনৈতিকভাবেই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জামায়াত এসব বিষয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা অপেক্ষায়, এটা দ্রুত হওয়া উচিত।’

নতুন ধারার ও ইতিবাচক ধারার রাজনীতি তৈরি করতে গত নির্বাচন বর্জন করেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতের ধারায় আমরা নির্বাচনের সাথে সাথেই তা প্রত্যাখান করিনি। বুকে চাপ নিয়ে মেনে নিয়েছি। তারপরও টিআইবি, সুজনের মতো সংগঠন নির্বাচন নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছে। আমরা মনে করি গত নির্বাচন কেমন হয়েছে, তা বোঝার জন্য এসব প্রতিবেদন সহায়ক হবে।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের মিডিয়া সেলের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট অঞ্চল টীম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহুদ্দীন আহমদ ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সেক্রেটারী মো. শাহজাহান আলী, জেলা সেক্রেটারী জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন এবং সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির সেক্রেটারী এটিএম ফাহিম প্রমুখ।