• ২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্তকে ভারতের মহকুমা আদালতে হাজির

Usbnews.
প্রকাশিত মার্চ ২২, ২০২৬
শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্তকে ভারতের মহকুমা আদালতে হাজির
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে ১২ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় আদালত। আগামী ২ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুনানী শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এসময় ফয়সাল খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘আমি এসব কাজের সঙ্গে জড়িত না। এটা জামায়াত-বিএনপির চাল হতে পারে। আপনারা যে এত হাদি হাদি করছেন, বাংলাদেশে যে এত হাদি হাদি হচ্ছে, সে তো আসলে জঙ্গি।’

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে উল্লেখ করলে ফয়সাল বলেন, ‘আমাকে গুলি করতে দেখা যায়নি।’ পরক্ষণে তিনি ঘটনাস্থলে থাকার কথাই পুরোপুরি অস্বীকার করেন।

ফয়সাল ও আলমগীরের বিরুদ্ধে আগেই ১৪ ফরেনারস আইনে মামলা দায়ের করা ছিল। রোববার (২২ মার্চ) নতুন করে অন্য একটি মামলায় ‘আনলফুল এক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) আইন’ বা ইউএপিএ আইনের ১৬ এবং ১৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে রোববার (২২ মার্চ) সকালে দুই আসামিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে তাদের কারাগারে নিয়ে জেরা করার আবেদন জানায়। আদালত তাতে সম্মতি দেন। প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে ছিল।

ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর রোববার পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে ফয়সাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অস্বীকার করেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, বিধাননগর আদালতে দাঁড়িয়ে ফয়সাল দাবি করেছেন- তিনি এসব কাজ করেননি, কোনও কিছুর সঙ্গে যুক্তও নন।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) হাতে গত ৭ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালকে ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার আদালতে নেওয়া হয়।

পুলিশ পাহারায় আদালতে নেওয়ার সময় হাদি হত্যার প্রধান এ আসামি ও সন্দেহভাজনকে নানা প্রশ্ন করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। সেই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ফয়সাল ও আলমগীরকে হাঁটিয়ে নিয়ে আসছেন পুলিশ সদস্যরা। তখন স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেন। নানা প্রশ্ন করতে থাকেন।

একজন প্রশ্ন করেন, কার কথায় হাদিকে হত্যা করা হয়েছিল ফয়সাল? কে বলেছিল? কেউ ফাঁসিয়েছে নাকি?

এসব প্রশ্নে চুপ থাকেন ফয়সাল। পরে আবারও একই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি এ কাজ করি নাই।”

তাকে ফাঁসানো হয়েছে কিনা আবার জানতে চান এক সাংবাদিক। ফয়সাল তখন আবারও ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, “নো, আমি এ কাজই করি নাই। এ ধরনের কাজে আমি ছিলাম না।”

ফাঁসাচ্ছে কারা? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি জানি না।”

আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- তুমি পালালে কেন? পালালে কেন ভাই? এ প্রশ্নে চুপ থাকেন ফয়সাল।

এরপর আরো কিছু প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তখন ফয়সাল ও আলমগীর কেউ কোনো জবাব না দিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সিঁড়ি বেয়ে উপরের তলায় উঠে যান।

কলকাতার সংবাদ প্রতিদিন লিখেছে, রোববার বিধাননগর আদালতে দাঁড়িয়ে হাদি খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল করিম।

পরে তাদের দুজনকে আরও ১৪ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালত থেকে জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে ফের সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন ফয়সাল। তখন তিনি বলেন, “আপনারা এত হাদি হাদি করছেন। বাংলাদেশের মানুষ এত হাদি হাদি করতেছে। হাদি তো অ্যাকচুয়ালি একটা জামায়াতের প্রোডাক্ট, ও তো একটা জঙ্গি।”

খুনটা কি তুমি করেছিলে? এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নে ফয়সাল বলেন, ‘নো’।

তাহলে কে করেছে? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “জামায়াত-বিএনপির একটা চাল হতে পারে।”

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ৮ মার্চ গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ। ৭ মার্চ গ্রেপ্তারের তথ্য পরদিন এসটিএফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে বার্তা সংস্থা এএনআইও প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এসটিএফ বলছে, দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ছিল। তারা সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে গভীররাতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকরা ফয়সালকে হাদি হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোন কাজে ছিলাম না।’ তাকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে অবশ্য কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

গত ৮ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তারা দু’জন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে ফের তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার অপেক্ষায় ছিল বলে জানায় এসটিএফ সূত্র।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।