• ২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূতিয়ালি করছে পাকিস্তান–মিসর–তুরস্ক

Usbnews.
প্রকাশিত মার্চ ২৩, ২০২৬
ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূতিয়ালি করছে পাকিস্তান–মিসর–তুরস্ক
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মার্কিন হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, হরমুজ প্রণালির পুনরায় খোলার বিষয়ে আলোচনায় ‘উন্নতি’ হয়েছে। এটি সরাসরি কোনো আলোচনা ছিল না। তবে মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা চালাচালি করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত শনিবার ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। এর মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি না খুলে দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি শোধনাগার অবকাঠামোর ওপর প্রতিশোধের হুমকি দিলে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।

হরমুজ সংকট বর্তমানে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে যা ট্রাম্পকে যুদ্ধে সমাপ্তি ঘটাতে বাধা দিচ্ছে। হুমকি পাল্টা হুমকি সংকট আরও তীব্র করেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার—যা সকালেই নিচে নামছিল—ট্রাম্পের পোস্টের পর হঠাৎ বৃদ্ধি পায় এবং তেলের দাম কমে যায়।

স্থানীয় সময় আজ সোমবার সকালে ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছে, ‘গত দুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খুবই ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই গভীর, বিস্তারিত এবং গঠনমূলক আলোচনার ধারা ও স্বর অনুযায়ী, যা সপ্তাহজুড়ে চলবে, আমি যুদ্ধ বিভাগের প্রতি নির্দেশ দিয়েছি যে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর কোনো সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখবে, চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের শর্তে।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি, যদিও অঞ্চলের কিছু দেশ উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। তেহরান দাবি করেছে, ট্রাম্প উচ্চতর জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা এড়াতে এবং তার সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময় কিনতে পিছু হটেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, তুরস্ক, মিসর এবং পাকিস্তান গত দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। সূত্রটি জানিয়েছে, তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে।

ওই সূত্র বলেন, ‘মধ্যস্থতা চলছে এবং অগ্রগতি ঘটছে। আলোচনার বিষয় হলো যুদ্ধ শেষ করা এবং সব মুলতবি ইস্যু সমাধান করা। আশা করছি শিগগিরই উত্তর আসবে।’

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি রোববার ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে। মিসরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবদেলাত্তি জোর দিয়ে বলেছেন ‘সংঘাতের বিস্তৃত প্রভাব সীমিত রাখা এবং এটি সম্প্রসারিত হওয়া রোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’