নাসরুল্লাহ খান ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সমরকন্দে জন্মগ্রহণ করেন। হাবিবউল্লাহ খান ও মুহাম্মদ উমর খান ছিলেন তার ভাই।তার পিতা আবদুর রহমান খান রুশ তুর্কিস্তানে নির্বাসিত থাকাকালীন সময়ে তার জন্ম হয়।
নাসরুল্লাহ খান ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। এছাড়া তিনি একজন হাফিজ ছিলেন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তিনি ইসলামি নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আফগান নীতির পক্ষে ছিলেন।
ইংল্যান্ডে সফর সত্ত্বেও নাসরুল্লাহ আফগানিস্তানের প্রতি ব্রিটিশ বৈদেশিক নীতির সমর্থক ছিলেন না।
হাবিবউল্লাহ খান (৩ জুন ১৮৭২ – ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯১৯) ছিলেন আফগানিস্তানের আমির। ১৯০১ থেকে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি আমির ছিলেন। তিনি উজবেকিস্তানের সমরকন্দে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি ছিলেন তার পিতা আমির আমির আবদুর রহমান খানের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
হাবিবউল্লাহ খান আফগানিস্তানকে আধুনিক করতে চেয়েছিলেন। তিনি আফগানিস্তানে আধুনিক চিকিৎসা ও প্রযুক্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা চালান। ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে হাবিবউল্লাহ খান হাবিবিয়া উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি সামরিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশে তিনি সংস্কার কার্যক্রম চালান। তিনি আইন ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং অনেক কঠোর শাস্তির প্রথা বন্ধ করেন। তবে তার অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা শাহজাদা আবদুল লতিফকে ধর্মত্যাগের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। তাকে কাবুলে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়। অন্যান্য সংস্কারের মধ্যে ছিল দমনমূলক অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ব্যবস্থা ভেঙে দেয়া।
১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে হাবিবউল্লাহ খান লাগমান প্রদেশে একটি শিকার অভিযানে বের হন। এসময় তার সাথে নাসরুল্লাহ খান, ইনায়েতউল্লাহ খান ও সেনাপ্রধান মুহাম্মদ নাদির খান ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অজ্ঞাত ব্যক্তির হাতে হাবিবউল্লাহ খান তার তাবুতে নিহত হন। এরপর নাসরুল্লাহ খান তার উত্তরসুরি হন। প্রথমে নাসরুল্লাহ খান শাসনভার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইনায়েতউল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। তবে হাবিবউল্লাহ নিজে নাসরুল্লাহকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা করায় ইনায়েতউল্লাহ ক্ষমতা গ্রহণে রাজি হননি। স্থানীয় উপজাতীয় ব্যক্তিদের সকলে ধার্মিক নাসরুল্লাহ খানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।
এরপর শিকারের দলটি ২১ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণপূর্বে জালালাবাদ পৌছায়। এখানে নাসরুল্লাহ খানকে আমির ঘোষণা করা হয়। হাবিবউল্লাহর প্রথম সন্তান ইনায়েতউল্লাহ খান তাকে সমর্থন দেন।
হাবিবউল্লাহর তৃতীয় পুত্র আমানউল্লাহ খান এসময় কাবুলে তার প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন। এই সংবাদ পাওয়ার পর আমানউল্লাহ খান কাবুলের কোষাগারের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং তার চাচা নাসরুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটান।[১৫] তিনি কাবুল ও কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে নাসরুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। নাসরুল্লাহ তার ক্ষমতার জন্য রক্তপাত ঘটাতে ইচ্ছুক ছিলেন না। তিনি আমানউল্লাহ খানকে জানান যে তিনি চাইলে ক্ষমতা নিতে পারবেন এবং নিজে আরবে নির্বাসনে চলে যাবেন।
আমানউল্লাহ প্রথমে নাসরুল্লাহর ক্ষতি না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও নাসরুল্লাহর সমর্থকরা তার বিরুদ্ধে যেতে পারে এই আশঙ্কায় পরবর্তীতে নাসরুল্লাহ খান ও তার সমর্থকদের বন্দী করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমানউল্লাহ খান নিজেকে আমির ঘোষণা করেন।৩ মার্চ নাসরুল্লাহ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ এপ্রিল কাবুলে আমানউল্লাহ খানের দরবার অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাবিবউল্লাহর মৃত্যু নিয়ে আলোচনা হয়। আফগানিস্তান সামরিক বাহিনীর একজন কর্নেলকে এর জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়াও জাল প্রমাণের ভিত্তিতে নাসরুল্লাহ খানকে হত্যাকান্ডের সাথে সম্পর্কিত করা হয়। অধিকাংশ আফগানের বিশ্বাস যে আমানউল্লাহ খান ক্ষমতাগ্রহণের জন্য নিজে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিলেন।নাসরুল্লাহ খানকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল।এর প্রায় একবছর পর কারাগারে তাকে হত্যা করা হয়।
১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সাংবাদিক মাহমুদ তারজি ও হাবিবউল্লাহ খানের পুত্র আমানউল্লাহ খান কর্তৃক চালিত তরুণ আফগান রাজনৈতিক আন্দোলন ব্রিটিশদের প্রতিপক্ষ জার্মান-তুর্কি পক্ষের অংশ হিসেবে যুদ্ধে আফগানিস্তানের যোগ দেয়ার দাবি জানায়। নাসরুল্লাহ খান এতে তাদের সমর্থন দেন। নাসরুল্লাহ খানের সমর্থক ধর্মীয় পক্ষসমূহও তে সমর্থন দিয়েছিল।