• ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ১২ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

গণধর্ষণের ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষকরাও একাত্মতা পোষণ করেছেন

usbnews
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৪
গণধর্ষণের ঘটনায়  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়:  শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষকরাও একাত্মতা পোষণ করেছেন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

আবাসিক হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষকরা। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্য দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। শিক্ষকরা একই কাতারে এসে ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু দাবি জানিয়ে ভিসি কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গতকালই জরুরি বৈঠক করে। গণধর্ষণের ঘটনা এখন সবার মুখে মুখে। পরীক্ষার হল থেকে শুরু করে ক্লাসরুম, হোস্টেল, শিক্ষক অফিস, ক্যান্টিন, চায়ের দোকানে সর্বত্রই একই আলোচনা। বিশেষ করে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর করা মামলায় আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন থলের বিড়াল বের হয়ে আসছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

কিন্তু মান-সম্মান ও ভয়ের কারণে অনেকে মুখ খুলেন না। ওই নারীর স্বামী সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে মামলা করায় তাকে বাহবা দিচ্ছেন অনেকে।

গণধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় তিনি ছয়জনকে আসামি করেন। সাভার মডেল থানা পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাসহ চারজনকে ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় এখনো ২ জন পলাতক। গ্রেপ্তার চারজন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, একই বিভাগের সাগর সিদ্দিকী ও হাসানুজ্জামান এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান। পলাতক আছেন ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত মো. মামুনুর রশিদ এবং স্বামীকে আটকে রাখায় সহায়তা ও মারধর করা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মুরাদ। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ মোস্তাফিজকে সাময়িক বহিষ্কার এবং পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে।

যা ঘটেছিল: পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামী আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে একই বাসায় পাশাপাশি কক্ষে ভাড়া থাকতেন মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন। শনিবার ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে মোবাইল ফোনে মামুন জানান, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলে কিছুদিন তার পরিচিত মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে থাকবেন। তাই ক্যাম্পাসে এসে তার সঙ্গে দেখা করার কথা বলেন মামুন। মোবাইলে কথা বলার কিছু সময় পর ভুক্তভোগীর স্বামী ক্যাম্পাসে আসেন। তখন মীর মশাররফ হোসেন হলের একটি কক্ষে মুস্তাফিজ ও মুরাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

মামুন তখন তাকে বলেন, সাভারের একটি ইলেকট্রনিকসের দোকানে তারা কিছু টাকা পাবেন। তবে দোকানদার টাকা দিতে চাচ্ছে না। ওই টাকার বিনিময়ে ভুক্তভোগীর স্বামীকে বাসার জন্য টিভি, ফ্রিজসহ অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়ে সমপরিমাণ টাকা মামুন তাকে দেয়ার প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী ও তার স্বামী আগে থেকেই পরিবারের জন্য কিছু আসবাবপত্র কিনতে চেয়েছিলেন। ওই সময় মামুন ভুক্তভোগীর স্বামীকে বলেন, যেহেতু আমি কিছুদিন হলে থাকবো তাই আমার ব্যবহারের কাপড়গুলো আপনার স্ত্রীকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসতে বলেন। তখন স্ত্রীকে ফোন করে কাপড় নিয়ে ক্যাম্পাসে আসার জন্য বলেন।

রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারী ক্যাম্পাসে আসেন। ক্যাম্পাসে আসার পর তাকে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে আসার জন্য বলা হয়। সেখানে আগে থেকেই মামুন, মুস্তাফিজ, মুরাদ ও ভুক্তভোগীর স্বামী হলের সামনে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে মুরাদ ভুক্তভোগীর স্বামীকে হলের এ ব্লকের ৩১৭ নম্বর কক্ষে নিয়ে মারধর করে বেঁধে ফেলেন। আর মুস্তাফিজ ও মামুন নারীকে নিয়ে হলের পাশের বোটানিক্যাল গার্ডেনের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। দেড় ঘণ্টা পর ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীকে ছেড়ে দেয় তারা। ঘটনার বিচারের দাবিতে প্রথমে তারা আশুলিয়া থানায় এবং পরে সাভার মডেল থানায় যান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান

জাবি সূত্র বলছে, ভুক্তভোগীর স্বামী ক্যাম্পাসে মামুনের সঙ্গে দেখা করতে আসার পরপরই ৩১৭ নম্বর কক্ষে নিয়ে মারধর করে আটকে রাখা হয়। পরে সেখান থেকেই ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দিয়েই স্ত্রীকে কাপড় নিয়ে আসার অজুহাতে ফোন দেওয়ানো হয়। ভুক্তভোগী যখন হলের সামনে আসেন তখন মামুন ও মুস্তাফিজ তাকে বলেন, তার স্বামী জঙ্গলের দিকেই আছে। তাই সেদিকে যেতে হবে। মামুন পূর্বপরিচিত থাকায় তাকে বিশ্বাস করে তিনি জঙ্গলের দিকে যান। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের জানান, মামুন আমাদের বাসায় ভাড়া থাকতো। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তিনি প্রথমে আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তার রেখে যাওয়া জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে, আমি ক্যাম্পাসে যাই। তার সঙ্গে মুস্তাফিজ ছিল। তখন তারা আমার স্বামী অন্যদিক থেকে আসবে বলে আমাকে হলের পাশের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, ঘটনার পর বিষয়টিকে অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই নেন মুস্তাফিজ, মামুন ও অন্যরা। তারা নির্ভয়ে হলেই অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ভুক্তভোগী নারীকে জঙ্গল ও তার স্বামীকে হল থেকে ছেড়ে দেয়ার পর তাদের দুজনের মধ্যে দেখা হয়। ঘটনার সময় তাদের দুজনের মোবাইল ফোন ধর্ষকদের কাছে ছিল। কিন্তু তাদেরকে ছাড়ার সময় মোবাইল দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সোজা বাসায় যাওয়ার কথা বলে। ভুক্তভোগীর সঙ্গে তার স্বামীর দেখা হওয়ার পর তিনি গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটনা শেয়ার করেন তারা।

পরে শিক্ষার্থীরা ফেসবুক স্ট্যাটাস দিলে বিষয়টি পুরো ক্যাম্পাসে জানাজানি হয়। শিক্ষার্থীরাই তখন ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে আশুলিয়া থানায় গিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেন। তারা থানায় গিয়ে পুলিশকে সবকিছু খুলে বলেন। ততক্ষণে ক্যাম্পাসে এ খবর চাউর হয়ে যায়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হল ঘেরাও করতে আসেন। খবর চলে যায় শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। পুলিশকেও খবর দেয়া হয়। কিন্তু স্পট আশুলিয়া থানা ও হল সাভার থানায় হওয়াতে পুলিশের মধ্যে বুঝাপড়ার ঝামেলা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ক্যাম্পাসে হাজির হয়। শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলের সামনে এসে গেইট আটকে দেন। সামনের দিকে বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তখন মামুন ও মুস্তাফিজকে মীর মশাররফ হোসেন হলের রান্নাঘরের গেইট ভেঙে পালাতে সহযোগিতা করে হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা: 

ক্যাম্পাসে গণধর্ষণের ঘটনা প্রচার হওয়ার পর থেকেই ফুঁসে উঠেছে জাবি’র সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল থেকেই ভিসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ ও দাবি জানাচ্ছে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ‘আগুন জ্বালো একসাথে, ধর্ষকের গদিতে’, ‘ধর্ষকদের পাহারাদার হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘অছাত্র ধর্ষণ করে প্রশাসন কি করে’, ‘ব্যর্থ প্রশাসন মুখ লুকাও মুখ লুকাও’, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে নিপীড়ন থাকবে না’, ‘বাহ প্রশাসন চমৎকার ধর্ষকদের পাহারাদার’- এমন স্লোগান আর বক্তব্য দিয়ে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের কঠিন শাস্তি, বহিরাগতদের হল থেকে বিতাড়িত, প্রশাসনের ব্যর্থতা, ক্যাম্পাসে সুস্থ পরিবেশ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয় সামনে নিয়ে আসছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষকরাও একাত্মতা পোষণ করেছেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, একজন বহিরাগত ও আরেকজন ছাত্রলীগ নেতা মিলে এক নারীকে গণধর্ষণ করে। আর এই দুই ধর্ষককে পালিয়ে যেতে আরও ৩ জন সহযোগিতা করেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখানে আন্দোলন করছি তিন দফা দাবি নিয়ে। আমরা চাই রাষ্ট্রীয় আইনে ধর্ষণের বিচার, বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করতে হবে। আরেকটা হলো ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে বহিরাগতরা জড়িত। তাই প্রতিটা হল থেকে বহিরাগতদের বিদায় করতে হবে। কারণ ১২ বছর আগের সাবেক শিক্ষার্থীরাও এখনো হলে অবস্থান করছে। তিনি বলেন, প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু কেউ ভয়ে মুখ খুলে না। প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই এমনটা ঘটছে।

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক মাসুম শাহরিয়ার  বলেন, অহরহ এই ঘটনাগুলো ঘটছে। অনেকেই এখানে বেড়াতে আসলে তাদের মোবাইল, টাকা, ব্যাগ রেখে দেয়া হয়। নারীদের লাঞ্ছিত করা হয়। নিরাপত্তাকর্মীরা এসব জানে। শনিবারের ঘটনা প্রচার হয়েছে বলে সবাই জানছে। যারা এগুলো করছে তারা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় আছে।

ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন চার শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তিন দিনের মধ্যে অছাত্রদের হল থেকে বের করাসহ তিন দফা দাবি জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের অন্য দাবিগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা ও জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী বলেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামীকে হলে জিম্মি করে তার স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গজব নাজিল হওয়া উচিত, আমাদের সবার ধ্বংস হয়ে যাওয়া উচিত। এই ধর্ষণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যতদিন প্রশাসনের মদতে এই ক্যাম্পাসে অছাত্র, অবৈধ ছাত্র অবস্থান করবে, ছাত্রলীগ নামধারী অছাত্ররা নিয়োগ বাণিজ্য করবে, চাঁদাবাজি করবে ততদিন এই ক্যাম্পাস থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৮ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধর্ষকদের বিতাড়িত করেছি। সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরকে খুনিদের মদত দেয়ায় তাকে বিতাড়িত করেছি। কিন্তু আজকে আবার দেখতে পেয়েছি আমাদের এই ক্যাম্পাসে একদল নষ্ট মানুষ যারা ক্ষমতায় বসে আছে, যারা নির্লজ্জ, অসভ্য যাদের কোনো বোধ নেই, বুদ্ধি নেই তারা ওই চেয়ার দখল করে বসে আছে।’

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলি প্রমুখ।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের সঙ্গে দেখা করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তখন দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য উপাচার্যকে আল্টিমেটাম দেন তারা। পরে দুপুর দুইটায় ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিকাল ৪টায় একই দাবিতে মানববন্ধন করেন বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ধর্ষণের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’। এ ছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মশাল মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান  বলেন, ভুক্তভোগীর স্বামী মামলা করেছেন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হবে। যারাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাক না কেন আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় আইনে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করবো। বহিরাগতদের হোস্টেলে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, এটা দীর্ঘদিনের একটা সংকট। সিট আছে ৮ হাজারের মতো আর শিক্ষার্থী ১৪ হাজারের মতো। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে বহিরাগতরা হোস্টেলে অবস্থান করছে। যখন এই সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি তখনই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা বহিরাগতদের যেকোনোভাবে বের করবো। ছিনতাই, হ্যারাসমেন্ট নিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেই। তথ্য প্রমাণ থাকলে ব্যবস্থা নেয়া যায়। অনেককে বহিষ্কার করা হয়েছে। তথ্য প্রমাণ না থাকলে কঠোর শাস্তি দিতে সমস্যা হয়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী নিয়ে তিনি বলেন, ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি নিজেও ক্ষুব্ধ। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকেই ক্ষুব্ধ। তাই সময়ের তাগিদেই জরুরি সিন্ডিকেট সভা বসেছে। এই সভায় কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত আসবে যেটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাব্বির আলম বলেন, ‘ঘটনা শুনে হলে যাই। জড়িতদের মধ্যে যারা হলে ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ছাড়া আমাদের সুপারিশের প্রেক্ষিতে তাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকেও স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

সদ্য পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সুপার ও বর্তমানে কর্মরত ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস ও ট্রাফিক উত্তর বিভাগ) মো. আবদুল্লাহিল কাফী বলেন, সাভার মডেল থানা ও আশুলিয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে। আসামিদের পালিয়ে যাওয়ায় সহায়তা করার অভিযোগে তিন জনকে ক্যাম্পাস থেকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সাভার থানা এলাকা থেকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। পলাতক আসামি মুরাদ ও মামুনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আসামিদের সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে  ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেফতার চার আসামি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান ছয় শিক্ষার্থীর সনদ স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা। এ ছাড়া তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। দুজনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট সভা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সিন্ডিকেটের সভাপতি উপাচার্য নূরুল আলম এসব সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানান।

জাবিতে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সনদ স্থগিত, তদন্ত কমিটি  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বহিরাগত এক দম্পতিকে ডেকে এনে স্বামীকে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের সনদ স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ও শাহ পরানের সনদ স্থগিত এবং মো. মুরাদ হোসেন, সাগর সিদ্দিকী, সাব্বির হাসান সাগর ও হাসানুজ্জামানের সনদ স্থগিত এবং সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদারকে সভাপতি করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- লোক-প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আফসানা হক ও সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার (আইন) মাহতাব-উজ-জাহিদ। সভা শেষে ভিসি অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সনদ স্থগিতের পাশাপাশি তাদেরকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত করা হয়েছে। ক্যাম্পাস বহিরাগতদের প্রবেশ ও অস্থায়ী দোকানপাট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া অছাত্র ও পোষ্যদের আবাসিক হল থেকে বের হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হবে। তারা বের না হলে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমানসহ গ্রেপ্তারকৃত চার জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল পুলিশ আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের পাশে জঙ্গলে বহিরাগত ওই নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৯(৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মো. জাহিদ মিয়া। তার প্রেক্ষিতে মূল অভিযুক্তসহ চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত মোস্তাফিজকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

এ ছাড়া হল থেকে অভিযুক্তদের পালাতে সহযোগিতা করেছেন এমন অভিযোগে অন্য তিন জনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের সাগর সিদ্দিকী, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসানুজ্জামান। তাদের মধ্যে হাসানুজ্জামান বাদে বাকি সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত। তবে আরেক অভিযুক্ত বহিরাগত যুবক মামুন (৪৫) পলাতক রয়েছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের পালাতে সহায়তা করায় অভিযুক্ত মুরাদ ও শাহ পরান নামে আরও দু’জন পলাতক রয়েছেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ওই দম্পতিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে আনে মামুন। পরে তার স্বামীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ’ ব্লকের ৩১৭ নম্বর কক্ষে আটকে রাখেন অভিযুক্তরা। পরে স্বামীর কাছে নেয়ার কথা বলে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনা জানাজানির পর গত শনিবার রাতে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘ক্যাম্পাসে ধর্ষক কেন, প্রশাসন জবাব চাই’; ‘ধর্ষণমুক্ত ক্যাম্পাস চাই’; ‘ধর্ষকদের পাহারাদার, হুঁশিয়ার সাবধান’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

জাহাঙ্গীরনগরে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামীকে আবাসিক হলে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার বিচারের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছেন। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করেন তাঁরা। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

 

১৯৯৮ সালে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধর্ষকদের বিতাড়িত করেছি , মানববন্ধনে অধ্যাপক

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রববানী বলেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্বামীকে হলে জিম্মি করে তাঁর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। আজকে আমি ক্লাসে বলেছি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গজব নাজিল হওয়া উচিত, আমাদের সবার ধ্বংস হয়ে যাওয়া উচিত। ১৯৯৮ সালে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধর্ষকদের বিতাড়িত করেছি। সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরকে খুনিদের মদদ দেওয়ায় তাঁকে বিতাড়িত করেছি। কিন্তু আজকে আমরা আবার দেখতে পেয়েছি আমাদের এই ক্যাম্পাসে একদল নষ্ট মানুষ, যারা ক্ষমতায় বসে আছে, যারা নির্লজ্জ, অসভ্য, যাদের কোনো বোধ নেই, বুদ্ধি নেই, তারা ওই চেয়ার দখল করে বসে আছে।’

গোলাম রববানী আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে এখন প্রায় আড়াই হাজার অছাত্র রয়েছে। এই ধর্ষণ কোনো বিছিন্ন ঘটনা নয়, যত দিন প্রশাসনের মদদে এই ক্যাম্পাসে অছাত্র, অবৈধ ছাত্র অবস্থান করবে, ছাত্রলীগ নামধারী অছাত্ররা নিয়োগ বাণিজ্য করবে, চাঁদাবাজি করবে, তত দিন এই ক্যাম্পাস থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব নয়। আমরাও উপাচার্যকে বলে দিতে চাই, আমরা অনেক বড় বড় উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছি। আমরা আপনাকেও বিতাড়িত করে ছাড়ব, যদি আপনারা তাদের বিচার না করেন। আমরা এই ধর্ষকদের ফাঁসি চাই, এই ধর্ষণকারীদের মদদদাতা প্রশাসনের পদত্যাগ চাই, এই ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এই ক্যাম্পাসে কোনো অবৈধ, সন্ত্রাসী, অছাত্র, মাদকব্যবসায়ী থাকবে না। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে প্রয়োজনে আমি শহীদ হয়ে যাব। যেসব হলে প্রাধ্যক্ষ অছাত্রদের দিয়ে হল চালায় তিনি আর প্রাধ্যক্ষ থাকতে পারবেন না।’

অধ্যাপক আনোয়ারুল্লা ভূঁইয়া বলেন, ‘আপনারা জানেন এক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকলেও তার কোনো সঠিক বিচার হয়নি। কোনো ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। প্রত্যিটি ঘটনার সঙ্গে থাকে একটা যোগাযোগ, একটা কার্যকারণিক সম্পর্ক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অপরাধের বিচার হয় না। গতকালের ঘটনায় দেশব্যাপী আমার ক্যাম্পাসকে আমার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, পত্রিকার মাধ্যমে লজ্জিত হয়েছে, অপমানিত করা হয়েছে। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর ধরে আছি আমি শিক্ষক হিসেবে অপমানিত হয়েছি। এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, কোনো ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হয়, তাহলে যারা এই ছলচাতুরীর আশ্রয় নেবে, তাদের আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করব।’

জাবিতে অছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত অছাত্রদের আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আবাসিক হল ছেড়ে চলে না গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন এলাকায় শাখা ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক স্বামীকে আটকে রেখে বহিরাগত এক নারীকে পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেকে এনে ধর্ষণের ঘটনায় উদ্ভুত পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও ক্যাম্পাসে অনুমোদনহীন অটো রিকসা চলাচল বন্ধ করা, ভাসমান দোকানপাট উচ্ছেদ এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ
 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গতকাল কমিশন চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় কমিশন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও কয়েকবার নারীর প্রতি ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের নজিরবিহীন, নিকৃষ্ট এবং ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে সারা দেশকে হতবাক করেছিল। বারবার একই স্থানে এমন ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযুক্তকে দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করায় কমিশন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধুবাদ জানায়।  বলেন, তবে দ্রুত, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক ছাত্র নামের এমন কুলাঙ্গার দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উক্ত ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ নারীর জন্য নিরাপদ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আহ্বান জানায় কমিশন।

ছাত্রলীগের ধর্ষণ করার অধিকার কি আমরা মেনে নিয়েছি? : আসিফ নজরুল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক দম্পতিকে ডেকে এনে স্বামীকে আবাসিক হলে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন জঙ্গলে এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।
অভিযুক্তরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ও বহিরাগত যুবক মামুন (৪৫)। মোস্তাফিজ মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

গণধর্ষণের ঘটনায় চার বছর আগের সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের ঘটনা স্মরণ করেছেন আসিফ নজরুল। জাবির ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

আসিফ নজরুল লিখেছেন- ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্বামীকে আবাসিক হলে আটকে রেখে স্ত্রীকে হলসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে এক ছাত্রলীগ নেতা ও তার অনুসারী। বছর কয়েক আগে সিলেটের এমসি কলেজেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। তাদের ধর্ষণ করার অধিকার কি আমরা মেনে নিয়েছি? না হলে বিচার হয় না কেন এই ধর্ষকদের? কেন তাদের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে রুখে দাঁড়ান না শিক্ষক-ছাত্ররা? কেন মানবাধিকার আর নারী অধিকার কর্মীরা চুপ থাকেন বা প্রতিবাদ করেন বিচ্ছিন্ন বাতাস তুলে, যাতে ভিত নড়ে না ধর্ষণকারীদের?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমএসএফের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেছেন, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল আরও বলেন, ‘সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা ধর্ষণের মতো এহেন ন্যক্কারজনক কাজ, মাদকের সংশ্লিষ্টতা এবং এর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সম্পৃক্ততা দেশ ও জাতির জন্য চরম অবমাননাকর।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি সমাবেশ করে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি সমাবেশ করে। ঢাকা, ০৪ ফেব্রুয়ারি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

আজ রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছাত্রশক্তির নেতারা এ দাবি জানান। গত বছর গণ অধিকার পরিষদের ছাত্রসংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের একদল নেতা-কর্মী সংগঠনটি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ছাত্রশক্তি গঠন করেন।

ছাত্রশক্তির আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে প্রশ্নহীন ক্ষমতার কারণে। দেশে ফ্যাসিবাদী যে শাসনকাঠামো চেপে বসেছে, তার বাইপ্রোডাক্ট হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগরের এই ধর্ষণকাণ্ড। ফ্যাসিবাদী শাসনে আদালতসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়া আর সম্ভব নয়। ছাত্রলীগের দুষ্কর্মের দায় ক্ষমতাসীন দখলদার সরকারকে নিতে হবে।’

আখতার হোসেন আরও বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোকে ছাত্রলীগের দখল থেকে মুক্ত করে হলগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি অপরাধের ঘটনায় দোষীদের সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

জাবিতে ছাত্রলীগ নেতার ধর্ষণকাণ্ড: শিবিরের নিন্দা ও প্রতিবাদ

ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক দম্পতিকে ডেকে এনে স্বামীকে আবাসিক হলে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

পাশাপাশি অবিলম্বে ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার ও নতজানু প্রশাসনের সরাসরি মদদে লোমহর্ষক, নৃশংসতা ও অসভ্যতার সর্বোচ্চ ঘৃন্য নজির স্থাপন করে চলেছে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ৯.৩০ মিনিটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলসংলগ্ন জঙ্গলে এই ঘৃণ্য কাজটি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সম্পাদক ও ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর মত কোনো সভ্য ভাষা আমাদের জানা নেই। একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এমন কলঙ্কজনক ঘটনা শিক্ষাঙ্গন ও ছাত্রসমাজের জন্য চরম অবমাননাকর।

আমরা সকলেই জানি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরী পালন করে জাতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছিল ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা মানিক। ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেট এমসি কলেজ প্রাঙ্গণে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করেছিল ছাত্রলীগের চিহ্নিত ৬ সন্ত্রাসী। কিন্তু কোন ঘটনারই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। প্রায় প্রতিদিনই দেশের নানা স্থানে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা ধর্ষণ, নির্যাতন, হয়রানীর শিকার হচ্ছে নারীরা। গত কয়েক বছরে ধর্ষণের নজিরবিহীন রেকর্ড হয়েছে বাংলাদেশে। সাথে সাথে রয়েছে ধর্ষণের পর হত্যা ও বিভৎসতা।

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসন কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। সরকার ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদেই শিক্ষাঙ্গনগুলোকে ধর্ষণ, সন্ত্রাস, মাদক ও অপকর্মের আস্তানায় পরিণত করেছে ছাত্রলীগ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্ষণ যেন এক মহামারিতে পরিণত হয়েছে। দেশের বেশিরভাগ ধর্ষণ ও খুনের সাথে যে সরকার-দলীয় লোকজন জড়িত, তা বারবার গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। কিন্তু কোনটিরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। ফলে  স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোন জনপদেই যেন আজ নারীরা নিরাপদ নয়। সরকারের সরাসরি প্রশ্রয়ে দেশকে ধর্ষণের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে সন্ত্রাসীরা। যা গোটা জাতিকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। শিশু, তরুণী, শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা শঙ্কায় দিন যাপন করছে। এটা কোন সভ্য সমাজ বা দেশের চিত্র হতে পারে না।

নেতৃবৃন্দ হুশিয়ার করে বলেন, সরকারের মদদে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ধারাবাহিক অপকর্মে জনগণ চরম ক্ষুব্ধ। দেশবাসী ও ছাত্রসমাজ সন্ত্রাসীদের কাছে তাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানীর এ ধারা কোনভাবেই মেনে নিবে না। সরকারের যদি বিচারহীনতা ও প্রশাসন অনৈতিক মদদ অব্যাহত রাখে তাহলে মোকাবেলা করতে ছাত্রসমাজ দেশবাসীকে সাথে নিয়ে অভিশপ্ত নরপশুদের মোকাবেলায় দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে। আর তখন যে কোনো পরিস্থিতির জন্য সরকার ও প্রশাসনকে তার দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশে ছাত্রলীগ নামক এই পাপিষ্ঠ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। অনতিবিলম্বে জড়িতদের শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া সহ দেশের সকল ক্যাম্পাস নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

জাবিতে ধর্ষণের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে যা বলছে ছাত্রদল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল।

রোববার এক বিবৃতিতে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, বরাবরের মতোই এবারও নারী নিপীড়নের অভিযোগ এসেছে ছাত্রলীগের নামে। যেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মানিক ধর্ষণের সেঞ্চুরি উদযাপন করেছিলেন, সেই ক্যাম্পাসেই এবার স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। নারী সমাজের কাছে আতঙ্কের সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। ধর্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। ধর্ষণকাণ্ডে সহযোগিতাকারীরাও ছাত্রলীগেরই নেতাকর্মী।

ছাত্রদলের নেতারা বলেন, গত কয়েক বছরে এই ক্যাম্পাসে নারী লাঞ্ছনা, নারী শিক্ষার্থীর মুখে সিগারেট চেপে ধরা, ইভটিজিং, গাঁজা চাষ, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ডসহ প্রতিটি অপকর্মে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত। সারাদেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট যে সন্ত্রাস ও নারী নিপীড়নমূলক অপকর্ম চলছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগও তাদের সেই ঐতিহ্যের ধারা লালন করে চলেছে।

এই অপকর্মে পক্ষপাতদুষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের প্রত্যক্ষভাবে মদদ জুগিয়ে যাচ্ছে। ফলে অসংখ্য ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে কিছু লোক দেখানো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে এই সন্ত্রাসী ও নারী নিপীড়করা দ্রুতই আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন।

বিবৃতিতে ছাত্রদলের নেতারা শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে ঐক্যবদ্ধভাবে ছাত্রলীগকে প্রতিরোধের আহ্বান জানান।