• ৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদের ছুটি শেষে সংসদের অধিবেশনে আজ যা হলো

Usbnews.
প্রকাশিত মার্চ ২৯, ২০২৬
ঈদের ছুটি শেষে সংসদের অধিবেশনে  আজ যা হলো
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ঈদের বিরতির পর আজ থেকে আবার শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। রোববার (২৯ মার্চ) এ অধিবেশন পুনরায় শুরু হয় ।

আজকের কার্যসূচিতে রয়েছে সরকারি দলের সংসদীয় সভা। পাশাপাশি অধ্যাদেশ-সংক্রান্ত বিশেষ সংসদীয় কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, গত ১২ মার্চ অধিবেশন শুরু হলেও ঈদুল ফিতরসহ অন্যান্য ছুটির কারণে ১৫ মার্চ তা মূলতবি করা হয়েছিল।

অধিবেশনের তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্ব, জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন এবং সেসব নোটিশ নিয়ে আলোচনাও থাকবে দিনের কর্মসূচিতে।

সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ :
বিরোধী দলের নোটিশের ওপর আলোচনার সময় নির্ধারণ নিয়ে সংসদে বিতর্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি অধিবেশনে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে নোটিশ দিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এই নোটিশের ওপর কখন আলোচনা হবে তা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে অধিবেশন শুরু হলে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ইস্যুটি নিয়ে এই বিতর্ক হয়।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের (আদেশ নং ১) অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি আজকের অধিবেশনে ৭১ বিধি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনার দাবি তোলেন।

তবে সরকারি দল জানায়, দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথমে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশ নিয়ে আলোচনা শেষ করতে হবে। এরপর অন্য কোনো নোটিশ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

May be an image of ticket stub and text

সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, বিধি অনুযায়ী জরুরি নোটিশের ওপর আলোচনা শেষ হওয়ার পর বিরোধী দলের নোটিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদের একই দিনে দুটি শপথ নেওয়ার কথা—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, তবে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান নোটিশটি সংসদে উত্থাপন করে বলেন, ১৫ মার্চ আমি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে একটি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছিলাম। স্পিকার পরামর্শ দিয়েছিলেন নোটিশ আনার জন্য। আমরা সেটা করেছি। আমি এই নোটিশ সংসদে উত্থাপন করলাম এবং নোটিশটি গ্রহণ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়ে আলোচনার দাবি জানালাম।

এই বক্তব্যের পরপরই সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে সবাই ভুলে যাচ্ছে কীভাবে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে গণভোট হয়নি। এটি সবচেয়ে বেশি জনগুরুত্বপূর্ণ, এ সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত, এর সুরাহা হওয়া উচিত। তারপর নিয়মিত সব কার্যক্রম হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বিধি মোতাবেকই নোটিশ দিয়েছেন। সেটা নিয়ে আগে আলোচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, স্পিকার চাইলে অনুমতি দিতে পারেন। কিন্তু প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এগুলো সংসদ সদস্যদের অধিকার। এ দুটি কার্যসূচির জন্য ২ ঘণ্টা বরাদ্দ। এরপর অন্য সব বিষয়ে আলোচনা আসতে পারে। তাদের দিক থেকে অসুবিধা নেই।

সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিরোধী দলের নোটিশ তিনি গ্রহণ করেছেন এবং সংসদের রীতি অনুযায়ী বিধি-৭১–এর নোটিশ আলোচনা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য এসেছি: নাহিদ ইসলাম

আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য এখানে (সংসদ) আসিনি, সংবিধান সংস্কারের জন্য এসেছি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি অনেকক্ষণ ধরে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলাম। আমরা আশা করি, আপনি যখন ফ্লোর দেবেন, সেখানে কোনো বৈষম্য করবেন না।

তিনি বলেন, ‘আজ বিরোধীদলীয় নেতা মূলতবি প্রস্তাব পেশ করেছেন। সে অনুযায়ী আপনার রুলিংও হয়েছে। সে বিষয়ে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বক্তব্য ব্যাখ্যা করেছেন। সংক্ষিপ্ত সময় হলেও তো আমাদেরও কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিত।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন— এই দুটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে, যার মূল ভিত্তি হলো ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’।

তিনি অভিযোগ করেন, আমাদের যে গণভোট হয়েছে, গণরায় হয়েছে, গণভোটের আদেশ ছিল, সে আদেশকে অমান্য করা হচ্ছে। যার ভিত্তিতে আমরা এখানে এসেছি সে আদেশকে অসাংবিধানিক বলারও চেষ্টা করা হয়েছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

জেনজিরা ‘৭২-এর সংবিধান আর চায় না , পুরোনো সে স্বৈরাচার জন্ম দেয়া রাষ্ট্র চাই না – হান্নান মাসউদ

 

সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনার দাবি বিরোধীদলীয় নেতার , সাময়িক উত্তপ্ত সংসদ

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনার দাবি তুলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের (আদেশ নং: ১) অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান।

এ সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ। এ নিয়ে আজ (রোববার) সংসদ অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক বাদানুবাদ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে।

একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী আমি যথাযথভাবে নোটিশ জমা দিয়েছি। জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর আলোকে আমি এই নোটিশটি উত্থাপন করছি। আপনি আলোচনার জন্য এটি মঞ্জুর করবেন বলে বিশ্বাস করি।’

তার এই বক্তব্যের পরপরই সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সংসদীয় রীতি অনুযায়ী তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পরই যেকোনো বিষয় উত্থাপন করা হয়।’ তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে বিধি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।

আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। মন্ত্রী পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে চাইলে স্পিকার তাকে বারবার মূল বক্তব্যে ফিরে আসার অনুরোধ করেন। স্পিকার তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি দয়া করে আপনার কথা শেষ করুন।’ জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি অনুমতি না দিলে দিস ইজ মাই পয়েন্ট অব অর্ডার।’

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব নিয়ে সরকারেরও বলার আছে। তবে সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির পরেই এটি আলোচনা হওয়া উচিত যাতে অন্য সদস্যদের অধিকার রক্ষিত হয়।’

এদিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও তার অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তর দিচ্ছেন। ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্পিকারের কথা মতোই আমি প্রশ্নোত্তর পর্বের পর দাঁড়িয়েছি। এটি আমার অধিকার এবং দায়িত্ব।’

 

কেউ ফাঁসির মঞ্চ আবার কেউ গুম থেকে সংসদে এসেছেন যা বিশ্বে বিরল: ডেপুটি স্পিকার

কেউ ফাঁসির মঞ্চে, আবার কেউ গুম থেকে সংসদে—এমন ঘটনা বিশ্বে বিরল বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, আজকের সংসদ গতানুগতিক ধারার বাইরে, এক ঐতিহাসিক সংসদ। এই সংসদে কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চ থেকে, কেউ এসেছি গুম হওয়া থেকে। কেউ আবার কারাগারে দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে মজলুম হয়ে সংসদে এসেছেন। এমন সংসদ আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি। এমনকি বিশ্বের বুকে বিরল।

 

স্বাস্থ্য খাতে তহবিল শূন্য, গজ-ব্যান্ডেজ-সিরিঞ্জ কেনার টাকাও নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কোনো তহবিল অবশিষ্ট নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।

 

ফ্যাসিস্ট আমলে দুর্নীতির কারণে গ্রামাঞ্চলের সড়কের খুব বেশি উন্নয়ন হয়নি: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বজনপ্রীতির কারণে গ্রামাঞ্চলে সড়কের খুব বেশি উন্নয়ন হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রাস্তাগুলো এখনো কাঁচা রয়েছে। এই রাস্তাগুলো পাকা করার জন্য বর্তমান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। রাস্তাগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করা হবে।

রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

 

উল্লেখ্য – অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এরই মধ্যে সরকারের দ্বায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে জানা গেছে , বহু সংস্কার হচ্ছে না বা সেটা কাটাছেড়া হবে।